ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো মাত্র ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছেন। রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরের ইউসিবি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়।
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার জানান, ইনফান্তিনোকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা।
ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন ফিফা সভাপতি। এ সময় বাফুফে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি বাফুফে। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা নির্বাচনের আগে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।
থিম্পুগামী সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ঢাকা বেছে নিয়েছেন ইনফান্তিনো, এমনটাই জানিয়েছে বাফুফে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল সংস্থাটি।
এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এবার ঢাকায় যাত্রাবিরতির সময় আবারও তাঁদের সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে হঠাৎ করে ফিফা সভাপতির এই সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফরের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বাফুফে।
ফিফা নির্বাচন ঘিরে সমর্থন আদায়ের তৎপরতা?
ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনো সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে তাঁর ওপর চাপ বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ইউরোপ ও কনকাকাফ অঞ্চলের কয়েকটি পক্ষের মধ্যে তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর আলোচনা এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে।
আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা নির্বাচন সামনে রেখে ইনফান্তিনীর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী খোঁজার তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিখ্যাত ফুটবল ব্যক্তিত্ব আর্সেন ওয়েঙ্গারের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফিফার বিভিন্ন সদস্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন ইনফান্তিনো। তাঁর সাম্প্রতিক সফরগুলোকে নির্বাচনে সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ। তবে ঢাকায় তাঁর যাত্রাবিরতির উদ্দেশ্য ভোট চাওয়া ছিল, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগে বিভিন্ন দেশে ফিফা সভাপতির সফরে আনুষ্ঠানিকতা ও প্রটোকলের আয়োজন থাকলেও সাম্প্রতিক কিছু সফরে তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কোথাও স্বল্প সময় অবস্থান, আবার কোথাও বিমানবন্দরেই বৈঠক সেরে গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন তিনি। ঢাকায় ইনফান্তিনোর সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




