করোনা মহামারি, হামসহ দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ, খরা ও বন্যায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। এটি একটি মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রোববার সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের অবহেলিত, ক্ষতিগ্রস্ত ও বিভিন্নভাবে আক্রান্ত মানুষের জন্য কাজ করাচ্ছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দুর্যোগেও প্রতিষ্ঠানটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও মানবসেবা। করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন সংকটের সময়ে উপদ্রুত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি কাজ করেছে। এর সঙ্গে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ ও আইনজীবীরা যুক্ত রয়েছেন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বর্তমানে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। দুর্ঘটনা বা সহিংসতায় পা হারানো ব্যক্তিদের কৃত্রিম পা সংযোজনের মাধ্যমে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা।
দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে রিজভী বলেন, বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রমে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। একইভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা বিনা মূল্যে করা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের তদারকি করতে হবে। সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত যেন তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে কার্যকর হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কিংবা ফ্যাসিবাদের পতনের পরই শুধু নয়, আগের সরকারের দুঃশাসনের সময়েও ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সে সময় ভার্চ্যুয়াল বিজ্ঞান প্রদর্শনীর মতো নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ ও কিশোরদের পড়াশোনা এবং বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ফাউন্ডেশনটি শুধু সমাজসেবায় নয়, শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের মানুষ আরও কার্যকর মানবিক সেবা পাবে।




