এহসানুল মাহবুব ||
ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতিতে এখন হেমন্তের আবহ। এরই মধ্যে ভোরের শিশির, হালকা কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা অনুভূত হচ্ছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে। দিনের বেলায় রোদের উষ্ণতা থাকলেও সকাল ও সন্ধ্যায় বাড়ছে শীতের অনুভূতি। প্রকৃতির এমন পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চেনা দৃশ্যপট।
ভোরের আলো ফুটতেই ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির আর কোথাও কোথাও কুয়াশার আবরণে তৈরি হচ্ছে স্নিগ্ধ পরিবেশ। গ্রামের মাঠ-ঘাট, গাছপালা ও নদীর পাড়ে প্রকৃতির এই পরিবর্তন চোখে পড়ছে। সকালের দিকে বাইরে বের হওয়া মানুষের কেউ কেউ অনুভব করছেন ঠান্ডার পরশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিক হাসান বলেন, ‘এখন হেমন্তকাল চলছে। তবে সকাল ও সন্ধ্যায় শীত অনুভূত হয়। এখনো শীতের পোশাক পরার প্রয়োজন না হলেও আবহাওয়ায় শীতের আমেজ রয়েছে। এই সময়ে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাচ্ছি। প্রকৃতির এমন রূপ বেশ ভালো লাগছে।’
সাপ্তাহিক জনজীবন চিত্রের সম্পাদক নয়ন আসাদ বলেন, হেমন্তের সকালে এখন হালকা শীতের স্পর্শ পাওয়া যাচ্ছে, সকালের দূর্বা ঘাসে জমে থাকা শিশির আর মিষ্টি রোদ অপার্থিব এক ভালোলাগা তৈরি করে। দেওয়ানগঞ্জের আবহাওয়া অন্য জায়গার তুলনায় একটু অন্যরকমই। এসময়ে বাতাসে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে শীতের আগমনী গান। আমার কাছে হেমন্তের এই সময়টা বড় মায়াবী, শীতের আসি আসি আবহটা তৈরি করে বাড়িতে অতিথি আসার আনন্দের মত ভালোলাগা।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি বদলে যাচ্ছে খাবারের আয়োজনও। হেমন্ত ও শীতের সময় গ্রামবাংলায় পিঠাপুলির প্রচলন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেই আয়োজনেও এসেছে পরিবর্তন। তবে রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানগুলোতে এখনো দেখা মিলছে নানা ধরনের শীতের পিঠা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রকিব বলেন, ‘আগে হেমন্তকালে বাড়িতে পিঠাপুলির আয়োজন হতো। তবে এখন আর তেমন আয়োজন দেখা যায় না। কিন্তু শীতের আমেজ থাকায় হাঁটতে বের হলে রাস্তার পাশে ভাপা, চিতইসহ নানা ধরনের পিঠার দোকান চোখে পড়ে। সেখান থেকেই কিনে খাই।’
এদিকে শীতের আগমনে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এস. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিস ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। শিশুদের দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুকের খাঁচা ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়া এবং বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া বিপদের লক্ষণ। তাই ঠান্ডা থেকে সুরক্ষিত থাকা, পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যে হেমন্তের রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। মাঠে মাঠে পাকা ধানের আভাস, ঘাসের ওপর শিশির আর ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশ জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের কথা।
দেওয়ানগঞ্জের গ্রামীণ জনপদেও প্রকৃতির সেই চিরচেনা রূপ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।
হেমন্তের এই আবহে প্রকৃতিতে যেমন ছড়িয়ে পড়ছে স্নিগ্ধতা, তেমনি মানুষের জীবনযাত্রা ও খাবারের অভ্যাসেও দেখা যাচ্ছে ঋতুর প্রভাব। সব মিলিয়ে দেওয়ানগঞ্জে এখন শীতকে বরণ করে নেওয়ার আগাম প্রস্তুতি ও অপেক্ষা।




