এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। জাপানে পৌঁছানোর পর বৃষ্টির কারণে ঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ফলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কিংবা সেমিফাইনালের ভেন্যুতে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও হয়নি।
এর মধ্যেই শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এশিয়ান গেমসের জন্য পাকিস্তান মূল দল না পাঠালেও তাদের স্কোয়াডে রয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার।
পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিবজাদা ফারহানই যার বড় উদাহরণ। পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ তিন টি-টোয়েন্টি ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি করেছেন এই ওপেনার। ফলে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
ফারহানের সঙ্গে পাকিস্তানের ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে মাজ সাদাকাত ও সাইম আইয়ুবকে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) সর্বশেষ আসরে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন মাজ সাদাকাত। এর একটি এসেছে এলিমিনেটরে, অন্যটি ফাইনালে। সাইম আইয়ুবও সিপিএলে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।
মাঝের সারিতে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন হায়দার আলী, হাসান নেওয়াজ ও আবদুল সামাদ। চলতি বছর পাকিস্তানের হয়ে তিনজনের কেউই ম্যাচ খেলেননি। তবে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য রয়েছে তাঁদের। সব ধরনের টি-টোয়েন্টিতে হায়দারের স্ট্রাইক রেট ১৩৭.৭০, হাসানের ১৩৭.৩৮ এবং সামাদের ১৫২.৫৮। সর্বশেষ বিপিএলেও হায়দার ও হাসান ভালো পারফরম্যান্স করেছেন।
উইকেটকিপার হিসেবে পাকিস্তানের একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে উসমান খানের। পাকিস্তানের মূল দলেও উইকেটকিপারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে অভিজ্ঞতার দিক থেকেও পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ একেবারে পিছিয়ে নেই।
বোলিং বিভাগেও যথেষ্ট শক্তিশালী পাকিস্তান। স্পিন আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার আবরার আহমেদ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরাফাত মিনহাস, সাদ মাসুদ ও সুফিয়ান মুকিম। প্রয়োজনে সাইম আইয়ুব ও মাজ সাদাকাতও বল হাতে অবদান রাখতে পারেন।
পেস আক্রমণে পাকিস্তানের ভরসা আকিফ জাভেদ ও আলী রাজা। মাত্র ১৮ বছর বয়সী আলী রাজা তাঁর গতির কারণে ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের সাবেক তারকা ওয়াসিম আকরামের নজরে এসেছেন। আর আকিফ জাভেদ বাংলাদেশের ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। বিপিএলের সর্বশেষ তিন আসরে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় বাংলাদেশের ব্যাটারদের সম্পর্কেও তাঁর ধারণা রয়েছে।
অবশ্য পাকিস্তানের এই দলে নেই বাবর আজম কিংবা সালমান আলী আগার মতো পরিচিত তারকারা। তারপরও টি-টোয়েন্টির জন্য দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ফলে বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে ম্যাচটি মাঠে গড়ালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে হবে।




