সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন
জামালপুরের মেলান্দহে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ৭ নং চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় মহিরামকুল মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহিরামকুল মোড়ে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জামালপুর-মাদারগঞ্জ মহাসড়ক হয়ে মহিরামকুল বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি পুনরায় মহিরামকুল মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. সেলিম মিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আকন্দ ও চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মজিবুর রহমান চিশতি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল ইসলাম দিদার, সহদপ্তর সম্পাদক শাহজামাল, সদস্য জেকেরুল্লাহ ও মিনহাজ উদ্দিন বাবু, উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ডা. মফিজ উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুল হোসেন বিএসসি, ওয়াসিফ বিল্লাহ মটো, সহসম্পাদক রাফিউজ্জামান রাফু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লাইজু এবং উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক আল মামুনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে সমাজের যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সেবনকারী বা মাদক কারবারি যে-ই হোক না কেন, তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে স্থানীয় ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, ভূমিসেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনৈতিক লেনদেনের শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।




