সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন
জামালপুরের মেলান্দহে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত দোকানে চাল বিতরণের কথা থাকলেও ইউনিয়নের একটি বাজারের পরিবর্তে অন্য স্থানের বসতঘর থেকে চাল বিতরণ,ডিলারের দোকানে সাইনবোর্ড না থাকা সহ উপকারভোগীদের চাল না দিয়ে টাকা দেওয়ার চেষ্টা এবং তদারকি কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি।
অভিযুক্ত ডিলার হলেন উপজেলার ৫ নং নয়ানগর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান রফিক ট্রেডার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের সাধুপুর বাজারে ডিলারের নির্ধারিত দোকান থাকার কথা। তবে সেখানে চাল বিতরণ না করে দাগী কাঠালতলা মোড় এলাকায় একটি বসতঘর থেকে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া চাল বিতরণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়মিত থাকে না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে চাল বিতরণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।
লিখিত অভিযোগে আসাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি দেখে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত লোকজনের কাছে হট্টগোলের কারণ জানতে চান। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে জানান, উপকারভোগীদের চাল না দিয়ে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে তিনি বিষয়টি ডিলার রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি করে অটোরিকশাযোগে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে রয়েছে। সরকারি সহায়তার আওতায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণে এমন ঘটনা ঘটলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিলার রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান। পরে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাধুপুর বাজারের চাল ডিলার কাঠালতলা মোড় থেকে চাল বিতরণ করেন, বিষয়টি জানি। অনিয়মের বিষয়ে ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে অভিযোগটি এখনো হাতে পাইনি। অভিযোগ হাতে পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা মুঠোফোনে একাধিকার কল দিলেও রিসিভ করেননি।




