স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের মেলান্দহে নির্ধারিত অফিস সময় মানছেন না উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ সামলাচ্ছেন একজন ঝাড়ুদার। এমনকি সরকারি নথিপত্রেও তাঁর স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত অফিস করেন না। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন তাঁকে অফিসে দেখা যায়। বাকি সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি অনুপস্থিত থাকেন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস খোলা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষটি ফাঁকা। পাশের কক্ষে একজন নাইট গার্ডকে অফিসের কাগজপত্র দেখাশোনা করতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের রেজিস্টার সংরক্ষণ, চাল বিতরণের আদেশ (ডিও) প্রস্তুত ও স্বাক্ষর, খাদ্যবান্ধব এবং ওএমএস কর্মসূচির চালের চালান পাস, জেলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোসহ গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ করছেন অফিসের ঝাড়ুদার মোর্শেদ আলম। এমনকি কম্পিউটার পরিচালনা থেকে শুরু করে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমও তাঁর নিয়ন্ত্রণে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে একজন ঝাড়ুদারের স্বাক্ষর এবং তাঁর মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কীভাবে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন?
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান থাকলেও এসব কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকিতে খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয়ও ঝাড়ুদারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ওএমএস কর্মসূচির দুই ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খাদ্য কর্মকর্তা প্রায়ই অফিসে থাকেন না। প্রয়োজনীয় কাজে অফিসে এসে তাঁকে পাওয়া যায় না। ফলে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মেলান্দহ পৌরসভার বাসিন্দা জাহিদ বলেন, ‘খাদ্য কর্মকর্তার অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে ঝাড়ুদার স্বাক্ষর করেন বলে শুনেছি। একজন ঝাড়ুদার যদি অফিসের সব কাজ করেন, তাহলে কর্মকর্তার দায়িত্ব কী? বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে ঝাড়ুদার মোর্শেদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি অনেক সময় উপস্থিত হন না। তাঁর নিয়মিত অফিস না করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা ও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আয়মান বিনতে ফেরদৌস বলেন, ‘অনিয়মিত অফিস করার বিষয়টি শুনলাম। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। আজ সাইফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন কি না, তা আমার জানা নেই।’




