নতুন জামালপুর: ১১ অক্টোবর দেওয়ানগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মৃতিবিজড়িত দিন। ১৯৯৯ সালের এই দিনে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ বাজারের মাদ্রাসা রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তৎকালীন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাককে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের আগ্রাসনবিরোধী একটি মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। দিনদুপুরে জনসমক্ষে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড দেওয়ানগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন রাজ্জাক ভাই নামে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন একজন শিক্ষিত, বিনয়ী, সদাহাস্যোজ্জ্বল ও পরোপকারী মানুষ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। পেশাগত জীবনেও রেখেছিলেন যোগ্যতার স্বাক্ষর। জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নেতৃত্ব দিয়েছেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাংগঠনিক ভূমিকা তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছিল।
আব্দুর রাজ্জাকের বাবা রহমান চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও সুনামধন্য ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর বাবাকে ঘিরে পরিবারের একজনের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সুনামের কথা।
জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলায় বেশ কয়েকজনের সাজা হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার প্রধান আসামি তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবীব টিটুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে রাষ্ট্রপতি তাঁর সাজা মওকুফ করেন। আহসান হাবীব টিটু পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে স্লোগান দেওয়ার সময় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। মামলার ২ নম্বর আসামী শাকিরুজ্জামান রাখালকে ২০০৪ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আদালতে যাবজ্জীবন দন্ড প্রদান করা হয়। ১ বছর কারাভোগের পর ওয়াল ইলেভেনে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মুক্তি পান রাখাল। অন্যান্য আসামীরাও বিভিন্ন সময় মুক্তি পেয়ে যান।
২০২৫ সালে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির কোষাধ্যাক্ষ ও বিমানমন্ত্রী তার হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার ২৬তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন- এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকান্ডের বিচার সঠিক হয় নাই, বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে তাই এই মামলার বিচার পুনরায় শুরু করতে হবে, মামলাটি আবার যেন পুনরুজ্জীবিত করতে পারে সেজন্য সেজন্য কাজ শুরু করতে হবে।
তবে এমন উদ্যোগ আর লক্ষ্য করা যায়নি।
এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকান্ডের পর দেওয়ানগঞ্জে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। সে নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মনোনয়ন পেলে আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে যায়। অনেকের মতে এড. আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকান্ড এ জয়ের পেছনে বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছিল। পরবর্তীতে জয়লাভের পর মিল্লাত ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
তবে আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থকের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে। তার স্মরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বেশ কিছু নেতাকর্মী দাবি করেন, দলের জন্য তাঁর ত্যাগ ও অবদান যথাযথভাবে আলোচিত হয় না। আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতি সংরক্ষন দলের নতুন প্রজন্মের মধ্যে তার ভূমিকা আলোচনায় রাখার দাবি জানান তারা।




