Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
জামালপুর

জামালপুরে শেরে বাংলার স্মৃতি সংরক্ষণ হোক

জামালপুরে শেরে বাংলার স্মৃতি সংরক্ষণ হোক

ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় লেখা কিছু ঘটনা নয়, ইতিহাস ছড়িয়ে থাকে জনপদের স্থাপত্যে, নদীর ঘাটে, পুরোনো বাড়ির বারান্দায় কিংবা মানুষের স্মৃতিতে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন এসব স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে যায়, তখন একটি জনপদ তার অতীতের সঙ্গে সংযোগও হারাতে থাকে। জামালপুরের পুরোনো এসডিও বাংলো সেই বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতিবিজড়িত এই ভবন আজও দাঁড়িয়ে আছে। অথচ তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

১৯১৪ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত জামালপুর মহকুমার এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই বাংলোতেই বসবাস করতেন ফজলুল হক। পরবর্তী সময়ে কৃষক-জনতার নেতা, অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং উপমহাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন তিনি। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের এই অধ্যায় জামালপুরের জন্যও গৌরবের। অথচ সেই গৌরবের স্মারকটি আজ সদর উপজেলা ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনের সামনে নেই কোনো স্মৃতিফলক, নেই তার জামালপুর-জীবন তুলে ধরার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা।

একটি ঐতিহাসিক ভবন সরকারি কাজে ব্যবহৃত হওয়া নিজেই সমস্যা নয়। সমস্যা হলো, তার ঐতিহাসিক পরিচয়কে উপেক্ষা করা। যে ভবন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষ্য বহন করছে, তাকে কেবল দাপ্তরিক স্থাপনা হিসেবে দেখলে তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসও আড়ালে থেকে যায়। ভবনের ব্যবহার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনার দাবি রাখে।

জামালপুরে কর্মরত অবস্থায় ফজলুল হক এ অঞ্চলের কৃষকসমাজ, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। কৃষকের ঋণসংকট, জমিদার-মহাজনের প্রভাব এবং গ্রামীণ সমাজের অসহায়তা পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব অভিজ্ঞতার সঙ্গে তার পরবর্তী কৃষকবান্ধব রাজনীতির সম্পর্ক অনুসন্ধান ও নথিবদ্ধ করা জরুরি। কারণ, একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে জানতে হলে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোও জানতে হয়।

এসডিও বাংলোর গুরুত্ব শুধু ভবনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রহ্মপুত্রের তীরের পুরোনো জামালপুর, হারিয়ে যাওয়া এসডিও ঘাট এবং একসময়ের বাগানঘেরা পরিবেশের স্মৃতি। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, ভরাট ও নগরায়ণের চাপে সেই দৃশ্যপট হারিয়ে গেছে। টিকে থাকা বাংলোটি তাই এখন অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ স্থাপনের এক দুর্লভ সুযোগ। যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণা ছাড়া এই স্মৃতিও একসময় হারিয়ে যেতে পারে।

জামালপুরের এসডিও বাংলোর ক্ষেত্রেও প্রথম প্রয়োজন ভবনটির ঐতিহাসিক পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া। ভবনের সামনে একটি তথ্যসমৃদ্ধ স্মৃতিফলক স্থাপনও হতে পারে প্রাথমিক পদক্ষেপ। এমন উদ্যোগের সুফল কেবল অতীত স্মরণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাস-অনুসন্ধিৎসু মানুষের জন্য এটি হতে পারে জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জামালপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিকাশেও তা ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে, তাদের পরিচিত এই জনপদের সঙ্গে বাংলার ইতিহাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সম্পর্ক কতটা গভীর।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies