শামছুল হুদা ।।
রাতের আঁধারে একটি চক্র দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ ফুটের বেশি সীমানাপ্রাচীর ভেঙে পাঞ্জেগানা মসজিদ ভেঙে সমস্ত মালামাল লুট করেছে । ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও কানাঘুষা থাকলেও কারা মসজিদটি ভেঙেছে, কার নির্দেশে ভেঙেছে কিংবা ভাঙার পর মসজিদের মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।ঘটনাটি ঘটেছে চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভার আগের দিন ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে পাঞ্জেগানা মসজিদ ভেঙে সমস্ত মালামাল লুট করেছে ।
তাদের দাবি, ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—একটি সরকারি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের বড় অংশ এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ রাতের মধ্যে কীভাবে ভেঙে ফেলা হলো? এ ধরনের কাজে শ্রমিক, সরঞ্জাম ও পরিবহনের প্রয়োজন ছিলো ।
তারা আরও প্রশ্ন উঠেছে—মসজিদে থাকা আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ধর্মীয় সামগ্রীসহ অন্যান্য মালামাল কোথায় গেল? দেয়ালের ভাঙা ইটই বা কে সরিয়ে নিল? বিদ্যালয়ের সম্পত্তি সরানোর অনুমতি কার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিলো ?
ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রাতের আঁধারে একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় তারা ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন্নেসা বলেন, ‘কে বা কারা দেয়াল ভেঙে মসজিদটি ভেঙে নিয়ে গেছে, তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সাক্ষীর অভাবে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’




