Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
মতামত

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

আবেদ আবু শেহাদেহ ।।

ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ৩৮টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এসব দলের মধ্যে মাত্র দুটি দল শান্তি, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারত্বের অবসানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুটি দলই ছিল আরব দল, যেগুলোর নেতৃত্ব ও সমর্থকদের বড় অংশ ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক।

নির্বাচনে এই দুটি দল ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে তারা মোট ১৯টি আসন অর্জন করেছে। এ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের এই নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।

কিন্তু নির্বাচনে ফিলিস্তিনিদের এই রাজনৈতিক সাফল্যকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হয়নি। বরং একে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নেতানিয়াহুর শিবিরের কয়েকজন রাজনীতিক ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য আরও জোরালো করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি ‘আরব ভোট’ নিয়ন্ত্রণের দাবিও উঠেছে।

ফলে ফিলিস্তিনিদের নির্বাচনী সাফল্য ইসরায়েলের রাজনীতির সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যেসব নাগরিক রাজনৈতিক অঙ্গনে কার্যত বিচ্ছিন্ন, অথচ আইনের চোখে যাঁদের ভোটের মূল্য সমান, তাঁরা যখন সরকার গঠনের ভাগ্য নির্ধারণের মতো শক্তি অর্জন করেন, তখন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাঁদের কীভাবে গ্রহণ করে?

ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সামনেও এখন মৌলিক একটি প্রশ্ন। তাঁরা কি সত্যিই দেশের রাজনৈতিক পরিণতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারবেন? আর যদি পারেন, তাহলে কি তাঁদের সমান নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে?

আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব, বাস্তবে রাজনৈতিক বঞ্চনা

ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোট দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের দ্বিধা রয়েছে। তাঁরা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে ইহুদি ডানপন্থীদের ক্ষমতায় আসার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার ভোট দিলেও তাঁদের অংশগ্রহণের প্রতিফলন যে এমন কোনো নীতিতে ঘটবে, যা তাঁদের সম্প্রদায়ের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে, তার নিশ্চয়তা নেই।

১৯৯৯ সালের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। সে সময় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বড় অংশ লেবার পার্টির এহুদ বারাককে সমর্থন করেছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

কিন্তু পরের বছর আল-আকসা প্রাঙ্গণে এরিয়েল শ্যারনের সফর এবং দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সূচনার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে ১৩ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে ২০০১ সালের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের হার নেমে আসে প্রায় ১৯ শতাংশে। ওই নির্বাচনে জয়ী হন শ্যারন।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও ফিলিস্তিনিদের ভোটের রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ভোটার উপস্থিতি বাড়লে নেতানিয়াহুর পক্ষে এবং বিপক্ষে থাকা প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের আসনসংখ্যার সমীকরণ বদলে যায়। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে।

তবে ফিলিস্তিনি দলগুলোর এই সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতির কারণে।

২০২১ সালের এপ্রিলে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিক বেজালেল স্মোত্রিচের বক্তব্যে এই বর্জননীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে সময় নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি দল রাআমের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্মোত্রিচ তাতে আপত্তি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, ফিলিস্তিনি দলকে সরকারে যুক্ত করলে তাদের ভোটারদের মধ্যে আরও বেশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আগ্রহ তৈরি হবে। এতে ইসরায়েলে বামপন্থীদের আবার ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

অর্থাৎ ফিলিস্তিনি দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করা হলে ইহুদি ডানপন্থীদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

পরবর্তী সময়ে রাআম দল নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন স্বল্পস্থায়ী জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল। তবে জাতীয় ও ফিলিস্তিন-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো পাশ কাটিয়ে নাগরিক ও আর্থসামাজিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দলটিকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হয়।

ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ দেশটিকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এমনকি জাতীয় প্রশ্নগুলোও তারা সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখতে সম্মত হয়।

এতসব ছাড় দেওয়ার পরও বেনেট-লাপিদ সরকারের মেয়াদ দীর্ঘ হয়নি। ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই সরকারে থাকার বিরোধিতা করে জোটের দুই সদস্য পদত্যাগ করলে সরকারটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে।

এরপর নেতানিয়াহু উপলব্ধি করেন, ভবিষ্যতে পরিবর্তনপন্থী কোনো সরকার গঠনের সম্ভাবনা ঠেকাতে হলে ফিলিস্তিনি দলগুলোর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে হবে এবং তাদের প্রতিনিধিত্ব সীমিত করতে হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক পরিসর আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের কারণে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। যুদ্ধবিরোধী বক্তব্যের কারণে অনেকে পুলিশি তদন্ত ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়েছেন।

এবারের নির্বাচনেও সেই রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিফলন দেখা গেছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের দুটি নির্বাচনী তালিকা, পার্লামেন্ট সদস্য ওফের কাসিফ এবং বালাদ দলের চেয়ারম্যান সামি আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে ভোট দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী তালিকাগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাজনৈতিক প্রচারের নিয়মিত উপাদানে পরিণত হয়েছে। এবারের নির্বাচনের আগে আরবিক পোস্ট নামের একটি সংবাদমাধ্যম নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ১০ হাজারের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণ করে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবিরের প্রার্থীদের পোস্টের ৪০ শতাংশে আরব বা ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গ ছিল। এসব পোস্টের ৯৪ শতাংশই ছিল বিদ্বেষপূর্ণ।

এর চেয়েও উদ্বেগজনক ছিল নেগেভ অঞ্চলে রাআম দলের কর্মীদের বাড়িতে পুলিশের অভিযান। নির্বাচনে ঘুষ লেনদেনের সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ স্বীকার করেছে, কিছু বাড়িতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতেও অভিযোগের পক্ষে প্রমাণের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার তিনজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এসব অভিযোগ ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখার একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক

বছরের পর বছর দমন-পীড়ন ও উসকানির পরও এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা পিছিয়ে যাননি। তাঁরা সংগঠিত হয়েছেন, ব্যাপক সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছেন।

নাগরিকত্বের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁরা কার্যত একটি রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছেন। একই সঙ্গে পূর্ণ রাজনৈতিক সমতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অর্থবহ ভূমিকা রাখার অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন।

তবে তাঁদের সমর্থন পাওয়া দলগুলোর সামনে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি রয়েছে। ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো সরকার গঠনে সহযোগিতার জন্য কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবায় অংশগ্রহণে সম্মত হওয়া। অথচ বর্তমানে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা এই বাধ্যতামূলক সেবা থেকে অব্যাহতি পান।

অর্থাৎ ফিলিস্তিনিরা তাঁদের প্রাপ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা তখনই ভোগ করতে পারবেন, যখন তাঁরা ফিলিস্তিন প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পুরোপুরি বিসর্জন দেবেন, জায়নবাদী আদর্শ গ্রহণ করবেন এবং অসম নাগরিকত্বের বাস্তবতা মেনে নেবেন।

এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে আরও তীব্র উসকানি ও বিদ্বেষের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সমর্থক শিবির থেকে এ ধরনের বক্তব্য বেশি আসছে। রাজনীতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘আরবরাই নির্বাচন চুরি করেছে।’

নেসেটের সাবেক ডেপুটি স্পিকার মোশে ফেইগলিন ফিলিস্তিনি ভোটারদের এই রাজনৈতিক সংগঠিত হওয়াকে ইসরায়েলের রাজনীতিতে ‘৭ অক্টোবর’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের দেশটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ছাড়া আর কোনো হুমকিই এর চেয়ে বড় নয়।

ফলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জনের পর তাঁরা স্বীকৃতি পাওয়ার বদলে আরও বেশি ভয়ভীতি, বিধিনিষেধ কিংবা সহিংসতার শিকার হতে পারেন।

ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিপুল ভোটার উপস্থিতি ইসরায়েলি সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একটি মৌলিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। দেশটি নিজেকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চায়, আবার একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ার দাবিও করে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সমতা যদি জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সীমিত হয়, তাহলে সেই গণতান্ত্রিক দাবির ভিত্তি কতটা শক্ত থাকে?

এই মৌলিক দ্বন্দ্বের সমাধান শেষ পর্যন্ত ইহুদি রাজনৈতিক আধিপত্যের পক্ষেই যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এমন আইন প্রণয়নের আশঙ্কা রয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের নাগরিক অধিকার আরও সংকুচিত করবে এবং বর্ণবাদী বৈষম্য ও ইহুদি আধিপত্যের কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করবে।

এমনকি পরবর্তী নেসেটে ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার সীমিত করার উদ্দেশ্যে কোনো বিল উত্থাপিত হলেও তা বিস্ময়কর হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জুলাই মাসের এক জরিপেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে দেখা যায়, ইহুদি ডানপন্থী শিবিরের মাত্র ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটাধিকার সমর্থন করেন।

বর্তমান বাস্তবতায়, গাজায় গণহত্যার পর ইসরায়েলি ইহুদি সমাজের একটি অংশের মধ্যে এমন ধারণা ক্রমশ বাড়ছে যে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো সীমারেখা অবশিষ্ট নেই। এর ফলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণেও কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনতার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

ইসরায়েলি সমাজ যদি এই অবস্থান থেকে সরে না আসে, তাহলে দেশটির গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ার দাবিও অচিরেই আর টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies