Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
মতামত

কেউ যখন বিশ্ব পরিচালনার দায়িত্বে নেই, তখন বিশ্বকে নিরাপদ রাখার উপায়

কেউ যখন বিশ্ব পরিচালনার দায়িত্বে নেই, তখন বিশ্বকে নিরাপদ রাখার উপায়

আন্দ্রেয়াস মোৎজফেল্ট ক্রাভিক ।। আন্তর্জাতিক রাজনীতি আজ যেন সম্মিলিতভাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ কারও যেন ঘুম ভাঙছে না। বর্তমান পরিস্থিতির তিনটি প্রবণতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরোনো ও নতুন হুমকিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সেগুলোর তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে, বিশ্বে এমন কোনো রাষ্ট্র নেই, যার পক্ষে এককভাবে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। অতীতের বৈশ্বিক সংকটের সময়ের মতোই ভূরাজনৈতিক জোটগুলো ক্রমেই কঠোর ও বিভক্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে দেখা হচ্ছে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে। ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা অমূলক নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, বিশ্বব্যবস্থায় আধিপত্যের পরিবর্তন প্রায়ই সংঘাতের জন্ম দেয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ঠিক সেদিকে এগোচ্ছে না। বরং আমরা এমন এক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে কোনো একক আধিপত্যশীল শক্তি নেই। একাধিক রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক জোট নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক পরিভাষায়, আমরা প্রকৃত বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে, এই প্রযুক্তি মানুষকে প্রায় দেবতুল্য ক্ষমতার অধিকারী করে তুলছে। শিগগিরই এমন কোনো উদ্ভাবন বা তথ্য থাকবে না, যা মানুষের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে, এই প্রযুক্তি একই সঙ্গে মানুষ ও রাষ্ট্রের প্রচলিত সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নতুন নতুন হুমকির জন্ম দিচ্ছে এবং পুরোনো বিপদগুলো নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন করে তুলছে।

বড় রাষ্ট্রগুলোর জন্য নিজেদের শক্তিকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণে রূপান্তর করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। সামরিক ক্ষেত্রেই এর স্পষ্ট প্রমাণ দেখা যাচ্ছে। স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও হামলার প্রযুক্তি প্রচলিত সামরিক শক্তির শ্রেণিবিন্যাস বদলে দিয়েছে। বিপুল সামরিক অস্ত্রভান্ডারের অধিকারী যুক্তরাষ্ট্রও বিচ্ছিন্ন ও দেউলিয়া অর্থনীতির একটি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে পারছে না। ইউক্রেনকে বশীভূত করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যর্থতাও একই বাস্তবতার উদাহরণ। অর্থাৎ, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়াই কোনো রাষ্ট্রের ইচ্ছা পূরণের নিশ্চয়তা দেয় না।

নতুন প্রযুক্তি অন্যান্য ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। ভবিষ্যতের কোনো মহামারি গোপন গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার ভয়াবহতা কোভিড-১৯-এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কোনো ব্যক্তির গ্যারেজ থেকেও বিধ্বংসী সাইবার হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাব্যবস্থা একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এআইয়ের কারণে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিবন্ধকতা কমে আসতে পারে। একইভাবে, কারও নজরে আসার আগেই জৈব অস্ত্রের বিস্তার ঘটতে পারে।

এসব হুমকি কোনো রাষ্ট্রের সীমানা মানে না। একটি দেশ কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুললেও অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্য কোনো দেশে গিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। কোনো রাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বিপুল হলেও একটি রোগজীবাণুর বিস্তার ঠেকানো, সাইবার হামলা প্রতিরোধ করা কিংবা বিপজ্জনক প্রযুক্তির প্রসার নিয়ন্ত্রণ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিজ নিজ অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা কিংবা অন্যের ক্ষতিকে নিজের লাভ হিসেবে দেখার মতো শূন্য-সমষ্টির রাজনীতির কৌশল কার্যত মশা মারতে কামান দাগার শামিল। এতে বিপুল সম্পদের অপচয় হবে, অথচ কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশ্বের অনেক দেশ ঠিক এই কৌশলগুলোতেই আরও বেশি বিনিয়োগ করছে। কিছু রাষ্ট্রনেতার প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া এবং ডিজিটাল জগতে একচ্ছত্র শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পারস্পরিক সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে অবাস্তব কিংবা আত্মঘাতী পদক্ষেপ হিসেবে। অথচ এসব কৌশল বড়জোর অকার্যকর হতে পারে; বৈশ্বিক নীতি হিসেবে এগুলো মানবজাতির অস্তিত্বকেই বিপন্ন করতে পারে।

মনে হয়, অতীতের যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রজন্মের কণ্ঠস্বর আবারও আমাদের সতর্ক করছে, ‘আবার সেই ভুল করবেন না।’

অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। লাগামহীন জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দুর্বল আন্তর্জাতিক আইন এবং অকার্যকর বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান অতীতে মানবজাতিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা আমাদের জানা। তবু বর্তমান বিশ্বের অনেকেই সময়ের দাবি অনুযায়ী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন।

এর একটি কারণ হতে পারে, আমরা ধীরে ধীরে জমতে থাকা ঝুঁকির ভয়াবহতাকে অবমূল্যায়ন করি। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী কোনো বিপর্যয়কর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যদি মাত্র এক শতাংশও হয়, তাহলে তা শুনতে খুব বেশি উদ্বেগজনক মনে না-ও হতে পারে। কিন্তু এই ঝুঁকি শত বছর ধরে চলতে থাকলে অন্তত একবার এমন বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা দাঁড়ায় প্রায় ৬৩ শতাংশে। মানবজাতির জন্য এ মাত্রার ঝুঁকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সামরিক শক্তি যে প্রয়োজনীয়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও কার্যকর আইনব্যবস্থার বিকল্প নেই। বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি করতে হবে এবং সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, পরিদর্শন ও প্রতিবেদন তৈরির কার্যকর ক্ষমতা দিতে হবে। সরকারগুলোকে নিয়মিতভাবে সংবেদনশীল তথ্যও ভাগাভাগি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত বিশ্বের নতুন স্লোগান। নিছক পরোপকারের জন্য নয়, বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ হিসেবেই এই সহযোগিতা প্রয়োজন।

সৌভাগ্যক্রমে, এই উদ্যোগের জন্য আমাদের একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর এখনো অতুলনীয় গ্রহণযোগ্যতা ও বৈশ্বিক কর্তৃত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) দেখিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো দেশের প্রতিশ্রুতি ও নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি কার্যকরভাবে যাচাই করা সম্ভব।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আশাবাদের সুযোগ তৈরি করেছে। গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি মহামারি চুক্তি গ্রহণ করেছে, যা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বিশ্বের সম্মিলিত প্রস্তুতি জোরদার করবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সম্প্রতি জাতীয় সমুদ্রসীমার বাইরের সমুদ্রাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ‘বিবিএনজে’ চুক্তি গ্রহণ করেছে। অন্তত এক দশকের মধ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক চুক্তিগুলোর অন্যতম।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায়ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অধিকাংশ সরকার এবং শীর্ষস্থানীয় এআই প্রযুক্তি নির্মাতারা আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও কার্যকর আন্তর্জাতিক তদারকির পক্ষে মত দিয়েছেন।

এগুলো নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ। কিন্তু সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রগুলো এখনো বৈশ্বিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বিনিয়োগ করছে। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ানোই সবচেয়ে জরুরি।

নরওয়ে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমিকা রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা এবং কার্যকর বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাকে তার জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম মৌলিক স্বার্থ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। জাতিসংঘের সংস্কারে তারা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে। জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ অর্থদাতা হিসেবে নরওয়ের যে প্রভাব রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সংস্থাটির কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এককভাবে নরওয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একই ধরনের লক্ষ্য ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করলে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ পাওয়া গেছে গত সেপ্টেম্বরে। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর ওপর বৈশ্বিক তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে যৌথ উদ্যোগ শুরু করেন। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। আশা করা যায়, এটি এআইয়ের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে এককভাবে কেউ দায়িত্বে নেই। একদিকে যেমন এই নতুন বাস্তবতা গড়ে উঠছে, অন্যদিকে প্রযুক্তির অগ্রগতি হুমকিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বহুমেরুকেন্দ্রিকতার সঙ্গে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার সমন্বয় ঘটানো।

যেখানে কোনো একক শক্তি বিশ্বব্যবস্থায় শৃঙ্খলা চাপিয়ে দিতে পারে না, সেখানে কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে কঠিন। কিন্তু অতীতের প্রজন্মগুলোও গভীর সংকট ও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছে। আমরাও পারব।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করার পরই রাষ্ট্রগুলো অভিন্ন আইনি নীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। আমি বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশগুলো আবারও উপলব্ধি করবে যে, সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এটাই একমাত্র কার্যকর পথ।

তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়: আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগেই কি আমরা সেই উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারব? নাকি ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম শিক্ষা আবারও রক্ত ও ধ্বংসের বিনিময়ে অর্জন করতে হবে?- আলজাজিরা

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies