Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
মতামত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: একাডেমিক ফলাফলে প্রভাব ও আসক্তি নিয়ন্ত্রণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: একাডেমিক ফলাফলে প্রভাব ও আসক্তি নিয়ন্ত্রণ

শিক্ষা ডেস্ক ।। পড়ার টেবিল থেকে মোবাইলের পর্দায় বারবার চোখ চলে যাওয়া, পড়তে বসে নোটিফিকেশন দেখা, কিংবা কয়েক মিনিটের জন্য ফেসবুক খুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এখন বেশ পরিচিত। যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ ও জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পড়াশোনায় মনোযোগ, ঘুম ও সময় ব্যবস্থাপনায় বাধা সৃষ্টি করলে তা একাডেমিক ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশ্ন হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ, নাকি মনোযোগ নষ্টের ফাঁদ?

শেখার সুযোগ, নাকি মনোযোগের প্রতিদ্বন্দ্বী?

প্রযুক্তির বিকাশ শিক্ষার্থীদের শেখার জগৎকে অনেক বিস্তৃত করেছে। আগে কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে শিক্ষক, সহপাঠী কিংবা পাঠ্যবইয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন অনলাইন ভিডিও, শিক্ষামূলক পেজ, বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ ও আলোচনার মাধ্যমে মুহূর্তেই অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নোটিশ, পরীক্ষার প্রস্তুতি, বৃত্তি ও ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, শিক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইন আলোচনায় অংশ নিতে পারে, নিজেদের তৈরি নোট ভাগাভাগি করতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন শেখার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মাধ্যমটিই পড়াশোনার মনোযোগ কেড়ে নেয়। একটি অধ্যায় পড়ার সময় মোবাইলে নোটিফিকেশন এলে শিক্ষার্থী হয়তো কয়েক সেকেন্ডের জন্য পর্দার দিকে তাকায়। কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ড থেকেই শুরু হতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে ভিডিও দেখা, পোস্ট পড়া কিংবা মন্তব্যের জবাব দেওয়ার অভ্যাস। ফলে নির্ধারিত সময়ে পড়া শেষ হয় না, পড়ার ধারাবাহিকতা ভেঙে যায় এবং শেখা বিষয় মনে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

একাডেমিক ফলাফলে কীভাবে প্রভাব পড়ে?

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর। নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকের সহায়তা, পারিবারিক পরিস্থিতি, মানসিক সুস্থতা ও ঘুমের মতো বিষয়গুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেই ফলাফল খারাপ হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে অতিরিক্ত ও উদ্দেশ্যহীন ব্যবহার কয়েকটি উপায়ে পড়াশোনার ক্ষতি করতে পারে।

মনোযোগের বিচ্যুতি: পড়াশোনার সময় বারবার মোবাইল দেখা হলে শিক্ষার্থীকে প্রতিবার নতুন করে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে হয়। এতে জটিল বিষয় বোঝা, দীর্ঘ লেখা পড়া এবং কোনো সমস্যার সমাধানে একটানা কাজ করার সক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।

সময় ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর নির্দিষ্ট সীমা না থাকলে পড়া, পুনরাবৃত্তি, বাড়ির কাজ ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বরাদ্দ সময় কমে যায়। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে পড়ার ফলে বিষয়বস্তু ভালোভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব হয় না।

ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে ঘুমাতে দেরি হতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুম পরদিন মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও শেখার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষার আগে রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস তাই বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

তুলনা ও মানসিক চাপ: অন্যের সাজানো জীবন, সাফল্য, ফলাফল কিংবা অর্জন দেখে কেউ কেউ নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করতে পারে। অনলাইনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নেতিবাচক মন্তব্যের ভয় কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা উদ্বেগ বাড়াতে পারে। মানসিক চাপ বেড়ে গেলে পড়াশোনায় আগ্রহ ও মনোযোগ কমে যেতে পারে।

গভীরভাবে শেখার অভ্যাসে পরিবর্তন: দ্রুত বদলে যাওয়া ভিডিও, ছোট পোস্ট ও তাৎক্ষণিক বিনোদনে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে দীর্ঘ সময় ধরে বই পড়া বা কঠিন বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখা কিছু শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে এ ধরনের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক নয়; ব্যবহার কতটা, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন পরিস্থিতিতে হচ্ছে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

আসক্তি আর অতিরিক্ত ব্যবহারের পার্থক্য

প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেই কাউকে আসক্ত বলা যায় না। কেউ পড়াশোনার প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকতে পারে, আবার কেউ তুলনামূলক কম সময় ব্যবহার করেও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। মূল বিষয় হলো, ব্যবহারটি জীবনের প্রয়োজনীয় কাজ ও দায়িত্বকে কতটা ব্যাহত করছে।

যদি কোনো শিক্ষার্থী বারবার ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তা ধরে রাখতে না পারে, পড়তে বসে অস্থির বোধ করে, ঘুম ও পড়াশোনা বাদ দিয়ে অনলাইনে সময় কাটায় কিংবা এর কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পারিবারিক সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেটিকে শুধু আলস্য বা ইচ্ছাশক্তির অভাব হিসেবে দেখা উচিত নয়। অভ্যাস, মানসিক চাপ, একাকিত্ব, বিনোদনের বিকল্পের অভাব এবং অ্যাপের নকশা, সবকিছুই এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আসক্তি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের করণীয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি বাদ দেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়। বরং প্রয়োজন সচেতন ব্যবহার, নির্দিষ্ট সীমা এবং এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা, যা পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিতে সাহায্য করবে।

১. ব্যবহারের উদ্দেশ্য ঠিক করা: মোবাইল হাতে নেওয়ার আগে ঠিক করা যেতে পারে, কেন এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো পাঠের ভিডিও দেখা, শিক্ষকের নির্দেশনা সংগ্রহ করা কিংবা সহপাঠীর সঙ্গে পড়া নিয়ে আলোচনা করা এক ধরনের ব্যবহার। উদ্দেশ্য ছাড়াই একের পর এক পোস্ট দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কাজ শেষ হলে অ্যাপ থেকে বেরিয়ে আসার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

২. পড়ার সময় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা: পড়াশোনার নির্দিষ্ট সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে। সম্ভব হলে মোবাইলটি হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে প্রয়োজনীয় কল চালু রেখে অন্য নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করা: প্রতিদিন কখন পড়া হবে, কখন বিশ্রাম নেওয়া হবে এবং কখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা যাবে, তার একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা দরকার। শুরুতেই কঠোর নিয়ম না করে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন, প্রথমে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট মনোযোগ দিয়ে পড়া, এরপর পাঁচ মিনিট বিরতি। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সময় বাড়ানো যাবে।

৪. ঘুমের আগে মোবাইল থেকে দূরে থাকা: রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। ঘুমানোর সময় মোবাইল বিছানা থেকে দূরে রাখলে বারবার পর্দা দেখার প্রবণতা কমতে পারে।

৫. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও আকর্ষণ কমানো: যেসব অ্যাপে বেশি সময় নষ্ট হয়, সেগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ করা, হোম স্ক্রিন থেকে সরিয়ে রাখা কিংবা দৈনিক ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ফোনের স্ক্রিন-টাইম বা অ্যাপ-ব্যবহারের হিসাব দেখে নিজের অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়।

৬. বিকল্প বিনোদন ও সামাজিক সম্পর্ক বাড়ানো: অবসর কাটানোর জন্য শুধু মোবাইলের ওপর নির্ভর না করে খেলাধুলা, বই পড়া, হাঁটা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বাস্তব জীবনের আনন্দ ও সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অনলাইন নির্ভরতা কমাতে সুবিধা হতে পারে।

৭. নিজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা: এক সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন কতক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে এবং এর কারণে পড়াশোনার কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তা লিখে রাখা যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। একদিন নিয়ম ভেঙে গেলে পুরো পরিকল্পনা ছেড়ে না দিয়ে পরদিন আবার শুরু করতে হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেবল মোবাইল কেড়ে নেওয়া, বকাঝকা করা কিংবা কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই স্থায়ী সমাধান আসে না। এতে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা গোপনে ব্যবহার করতে শুরু করে, অথচ মূল সমস্যাটি অমীমাংসিত থেকে যায়।

অভিভাবকদের উচিত সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা, তার অনলাইন অভ্যাস বোঝার চেষ্টা করা এবং পড়াশোনা, ঘুম ও বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে সহযোগিতা করা। পরিবারের সবাই মিলে খাবারের সময় ও ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার না করার মতো নিয়ম চালু করা যেতে পারে। এতে নিয়মটি শুধু সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় না, বরং পরিবারের সম্মিলিত অভ্যাসে পরিণত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ডিজিটাল সচেতনতা বিষয়ে আলোচনা, সময় ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ এবং অনলাইন তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা শেখানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যেন বুঝতে পারে কোন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট তাদের শেখার কাজে সহায়তা করছে, আর কোনটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় নষ্ট করছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের পেছনে একাকিত্ব, উদ্বেগ, পড়াশোনার চাপ কিংবা অন্য কোনো সমস্যা কাজ করছে কি না।

কোনো শিক্ষার্থীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং তাতে ঘুম, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা মানসিক সুস্থতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

প্রযুক্তিকে বাদ নয়, নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আধুনিক শিক্ষার্থীদের জীবনের বাস্তবতা। একে পুরোপুরি ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করলে এর শিক্ষামূলক সম্ভাবনাগুলো উপেক্ষিত হবে। আবার প্রযুক্তির সুবিধার কথা বলে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকেও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না।

প্রয়োজন হলো, শিক্ষার্থীরা যেন প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়, প্রযুক্তি যেন তাদের সময় ও মনোযোগের নিয়ন্ত্রক হয়ে না ওঠে। কোন কনটেন্ট দেখা হবে, কতক্ষণ ব্যবহার করা হবে এবং কখন মোবাইল থেকে দূরে থাকতে হবে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই ডিজিটাল সচেতনতার মূল কথা।

একাডেমিক সাফল্যের জন্য শুধু দীর্ঘ সময় বই নিয়ে বসে থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মনোযোগ দিয়ে শেখা, নিয়মিত অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সুস্থতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা গেলে তা শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। আর ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ হারালে একই মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে সময় ও মনোযোগের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।

সুতরাং সমাধান প্রযুক্তি থেকে পালিয়ে থাকা নয়, বরং প্রযুক্তির সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা। সচেতন ব্যবহার, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের সমন্বয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবিধা কাজে লাগিয়ে একাডেমিক ফলাফল উন্নত করার পথ তৈরি হতে পারে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies