Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা?

কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা?

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি উদ্যোগই সফলভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ১৮ জুন ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সেই স্মারকও কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে পড়ে।

চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার ব্যাখ্যায় সাধারণত দুই পক্ষের প্রস্তাবের শর্ত ও বিষয়বস্তুর দিকে নজর দেওয়া হয়। তবে এ নিবন্ধের মূল বক্তব্য ভিন্ন। এখানে বলা হয়েছে, দুই দেশের আলোচনার ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, যা তাদের কূটনীতিকে বারবার একই জায়গায় ফিরিয়ে আনছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কে গভীর সংকটের অভিজ্ঞতা কোনো দেশের রাজনৈতিক চেতনা ও ঐতিহাসিক স্মৃতিতে স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া অবিশ্বাস পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন দুটি জটিলতা কাজ করছে। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে যে ক্ষত তৈরি করেছিল, তার প্রভাব এখনো রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের মার্কিন বৈরিতা এবং ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনের সরে আসার ঘটনা ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে।

দুই দেশের সম্পর্কের এই ভাঙনের শিকড় আরও পুরোনো। ১৯৫১ সালে ইরানের তেলশিল্প জাতীয়করণের পর ১৯৫৩ সালের আগস্টে দেশটির জাতীয়তাবাদী সরকারপ্রধান মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করতে মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভূমিকা রাখে। সেই ঘটনার পর থেকে ইরানের রাজনৈতিক চেতনায় একটি ধারণা দৃঢ় হয় যে, তেহরানে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম কোনো সরকারকে ওয়াশিংটন সহজে মেনে নিতে চায় না। নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে সেই সরকারকে উৎখাত বা দুর্বল করতেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার আলোকে ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে ক্ষমতাচ্যুত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইরানের বিপ্লবী নেতৃত্ব নতুন অভ্যুত্থানের সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখেছিল।

এরপর ওই বছরের ৪ নভেম্বর ইরানি শিক্ষার্থীরা তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়ে ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করে। তাঁদের ৪৪৪ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। এর পরিণতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়, যা আজও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ইরানের বয়ানে দূতাবাস দখলের ঘটনাটি ছিল বিপ্লব রক্ষার পদক্ষেপ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চেতনায় এটি ইরানকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মানে না, যার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করা যায় না এবং যে রাষ্ট্রকে ছাড় দিয়ে পুরস্কৃত করা উচিত নয়।

দূতাবাস দখলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা কেবল অতীতের একটি ঘটনা নিয়ে নয়। বরং এর ফলে মার্কিন নীতিনির্ধারণে এক ধরনের অলিখিত নিয়ম তৈরি হয়েছে: ইরানকে আগে ছাড় দিতে হবে, সেই ছাড় বাস্তবায়িত হয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে, তারপরই কেবল বিনিময়ে কিছু দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ইরানের অবিশ্বাসও একই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের মে মাসে এর তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। অথচ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) তখন নিশ্চিত করেছিল, তেহরান চুক্তির শর্ত মেনে চলছে।

এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও নতুন চুক্তির জন্য ১২টি শর্ত ঘোষণা করেন। এর মধ্যে মাত্র চারটি ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত। বাকি শর্তগুলোর বড় অংশ ছিল লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক, ইয়েমেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ভূমিকা নিয়ে।

অর্থাৎ, ওয়াশিংটন শুধু একটি বিদ্যমান চুক্তি থেকে সরে আসেনি, ভবিষ্যতে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তও আরও কঠোর করেছিল।

২০২৫ সালের জুনে এই অবিশ্বাস আরও গভীর হয়। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নিয়ে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। অথচ তখন ওমানে মাসকাটে দুই দেশের মধ্যে নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এরপর চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ দুই দেশের অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফলে ইরানের রাজনৈতিক পরিসরে একটি ধারণা শক্তিশালী হয়: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষর কোনো চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে না; প্রশাসন বদলালে যেকোনো সমঝোতা বাতিল হতে পারে। এমনকি আলোচনার উদ্যোগও কখনো কখনো যুদ্ধের বিকল্প না হয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি বা আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের নীতিনির্ধারণেও একটি অলিখিত নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগে বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা দিতে হবে, তারপর ইরান পদক্ষেপ নেবে। একইভাবে, চাপ ও অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তেহরান বড় কোনো ছাড় দিতে চায় না।

এভাবেই দুই দেশের অবস্থান পরস্পরের বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান আগে পদক্ষেপ নিক, তারপর ওয়াশিংটন বিনিময়ে কিছু দেবে। অন্যদিকে, ইরান চায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে নিশ্চয়তা দিক, তারপর তেহরান পদক্ষেপ নেবে।

সাম্প্রতিক আলোচনার উদ্যোগগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রস্তাবেই দূতাবাস দখলজনিত সেই অবিশ্বাসের ছাপ রয়েছে। মার্চে উত্থাপিত ১৫ দফা পরিকল্পনায় নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোর পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়। বিনিময়ে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

মে মাসে হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের তৈরি খসড়াতেও একই ধরনের শর্ত দেখা যায়। সেখানে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আগে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবেও আলোচনার পুরো সময়জুড়ে সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার শর্ত ছিল।

অর্থাৎ, মার্কিন উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়: ইরানকে আগে পদক্ষেপ নিতে হবে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী দেবে তা পরে নির্ধারিত হবে। আস্থা তৈরির আগে যাচাইকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রস্তাবগুলোতেও ২০১৮ সালের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার অভিজ্ঞতা স্পষ্ট। মার্চের শেষ দিকে দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাবে যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। এপ্রিলে উত্থাপিত ১০ দফা প্রস্তাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এমন একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের দাবি জানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ একতরফাভাবে সমঝোতা বাতিল করতে না পারে। মে মাসের ১৪ দফা প্রস্তাবে ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করে অনাক্রমণ চুক্তির দাবি জানায় তেহরান।

এর পাশাপাশি, গত মাসে ইরানের দেওয়া সাত দিনের পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।

ইরানের এসব উদ্যোগেও একই প্রবণতা দেখা যায়: আগে নিশ্চয়তা, তারপর পদক্ষেপ; আগে চাপ প্রত্যাহার, তারপর ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন।

ফলে দুই পক্ষের আলোচনা কার্যত এমন দুটি অবিশ্বাসের মুখোমুখি সংলাপে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকেই অন্য পক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেয়ে অতীতের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে। বিষয়বস্তুর দিক থেকে দুই পক্ষের ব্যবধান কিছুটা কমলেও পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি কমেনি। এই ব্যর্থতার পেছনে এটিই অন্যতম ব্যাখ্যা।

ইসলামাবাদের সমঝোতা স্মারকটি এই ধারার একটি ব্যতিক্রম। কারণ, দুই পক্ষের মৌলিক উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল সেখানে। যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ঘনত্ব কমানোর ব্যবস্থা রাখা হয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সঙ্গে শর্তযুক্ত করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ইরানের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে এতে শত্রুতা বন্ধ, পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এবং চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের কথা বলা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি একেবারেই রাখা হয়নি।

তবে এই সমঝোতাও টেকেনি। লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় জেনেভায় পরবর্তী দফার আলোচনায় অংশ নেওয়া স্থগিত করে তেহরান। মার্চ থেকে ইরানের প্রতিটি প্রস্তাবেই লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবি ছিল। ইরানের দৃষ্টিতে, ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতা আবারও প্রমাণ করে যে কেবল মার্কিন স্বাক্ষরের ওপর নির্ভর করা যায় না। ফলে ২০১৮ সালের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার অভিজ্ঞতাজনিত অবিশ্বাস আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। দুই পক্ষ ফিরে যায় সেই পুরোনো অচলাবস্থায়।

সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বিরোধের ধরনও বদলে যায়। বিষয়বস্তু নিয়ে মতপার্থক্যের চেয়ে কে আগে কোন পদক্ষেপ নেবে, সেই ক্রম নির্ধারণই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন লক্ষ্য ছিল জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়া, তবে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত কাঠামো নিয়ে।

এ পর্যায়ে দুই দেশের অবিশ্বাসের জটিলতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দিক এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করুক। কারণ, ওয়াশিংটন তেহরানকে বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে, ইরান চায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে নৌ অবরোধ তুলে নিক। কারণ, তেহরানেরও ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা নেই।

২০১৮ সালে পম্পেওর ঘোষিত শর্তের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুনের সমঝোতা স্মারকের তুলনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনেকটাই বদলেছে। ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণের দাবি থেকে সরে এসে এখন মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পরিবর্তে ইরান এমন একটি শর্তসাপেক্ষ বিনিয়োগ তহবিলের প্রস্তাব দিয়েছে, যা অন্য পক্ষগুলোর অর্থায়নে গঠিত হতে পারে।

অর্থাৎ, দুই পক্ষের মধ্যে মূল শর্ত ও বিষয়বস্তু নিয়ে ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। আট বছর আগে এমন অগ্রগতি কল্পনা করাও কঠিন ছিল।

কিন্তু দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস কমেনি। বরং যুদ্ধের কারণে তা আরও গভীর হয়ে থাকতে পারে। এক পক্ষের অবিশ্বাস অন্য পক্ষের অবিশ্বাসকে উসকে দিচ্ছে। এভাবে দুটি পৃথক জটিলতা মিলিত হয়ে একটি স্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা আর সাময়িক পরিস্থিতি নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।

তাই পদক্ষেপের ক্রম নির্ধারণ করে নতুন কোনো সমঝোতার সূত্র তৈরি করলেই এই অচলাবস্থা কাটবে না। প্রয়োজন এমন একটি উদ্যোগ, যা একই সঙ্গে দুই পক্ষের অবিশ্বাস দূর করার চেষ্টা করবে। এ জন্য দরকার এমন একটি তৃতীয় পক্ষ, যে একই সময়ে উভয় পক্ষের পদক্ষেপ এবং তার বিনিময়ে নেওয়া প্রতিপদক্ষেপের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মতো কার্যকর নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies