জাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
তীব্র শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসন, ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফিল্ড ওয়ার্কের বাজেট বাড়ানোসহ ৮ দফা দাবিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আমির হোসেনের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার (০৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপাচার্যের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন তারা। সভায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভাগের নানা একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
উপাচার্যকে দেওয়া স্মারকলিপিতে জানানো হয়, বর্তমানে চারটি ব্যাচের জন্য পর্যাপ্ত স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি ল্যাবের সরঞ্জামসহ মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস পরিচালনার ভোগান্তি দূর করতে পৃথক শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব রুম বরাদ্দের দাবি জানান তারা। এ ছাড়া দক্ষ ল্যাব ও ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ, প্রশাসনিক কাজের জন্য অফিস স্টাফ পদায়ন, ফিল্ড ওয়ার্কের বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞানের প্রসারে নিয়মিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিটের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের সব দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আমির হোসেন। জাবিপ্রবি উপাচার্য বলেন,”একজন শিক্ষক দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে এবং চলতি বা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। জনবল ও ল্যাবের সমস্যা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি অন্যান্য বিভাগের সাথে কথা বলে বিদ্যমান সম্পদের মধ্য থেকেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এতে সমাধান না হলে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
বিভাগের সংকট নিয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া ফেরদৌস জানান, “পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক গাইডলাইন পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ভূতত্ত্ব বিভাগে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি হওয়ায় পর্যাপ্ত ল্যাব ও ফিল্ড ওয়ার্কের সুযোগ না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।”
একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল মুকিত মোস্তাসির উল্লেখ করেন,”শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শিক্ষার মৌলিক পরিবেশ নিশ্চিত করার সাথে সম্পর্কিত। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রত্যাশা করেন।”
আন্দোলন বা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত না করেই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতায় মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান চান। আলোচনা শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস ব্যক্ত করেন।




