আলমগীর হোসাইন, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি ।।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় অজানা রোগে মরিচগাছ মরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমির মরিচখেতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করলেও একের পর এক গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শনে এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা আসেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে মরিচের আবাদ। গাছে গাছে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কিছু গাছের ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু গাছ পুরোপুরি মরে গেছে। গাছ বাঁচাতে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করলেও সুফল পাচ্ছেন না। এতে ফলন পাওয়ার আগেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার সাতজন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে বগি, পিউর ও প্রিমিয়াম জাতের মরিচ চাষ করেছেন। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করার পর এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ ৪৬ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। মরিচ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু গাছ মরে যাওয়ায় এখন সেই স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আব্দুস সামাদ বলেন, গত সপ্তাহ থেকে মরিচগাছে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না তিনি। কৃষি অফিস থেকে কেউ তাঁদের খোঁজখবর নেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক কৃষক এনছ মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি সরেজমিনে এসে খোঁজখবর নেননি। ফোনে গাছ মরে যাওয়ার বিষয়টি জানালে সমস্যার কারণ অনুসন্ধানের পরিবর্তে উল্টো নানা প্রশ্ন করা হয় এবং কৃষকদেরই দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলামও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, মরিচগাছে কী ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তাঁরা।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া বলেন, তিনি সিধুলী ইউনিয়নে কৃষি কার্ডের কাজ করছেন। তাঁর মূল দায়িত্ব গুনারীতলা ইউনিয়নের খুদ্দ জোনাইল এলাকায়। পাশাপাশি বিনোদটঙ্গী এলাকাতেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন ও কৃষি কার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মরিচখেত পরিদর্শনে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসে আসতে বলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শন, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারগঞ্জে মরিচখেতে অজানা রোগের হানা, ফলনের মুখে দুশ্চিন্তায় কৃষক
React:




