
ম্যাক্সিমিলিয়ান হেস ।। গত সাড়ে চার বছর ধরে ইউরোপের দোরগোড়ায় চলা যুদ্ধ নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। কিন্তু তাঁরা একে এমন একটি আসন্ন হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছেন, যা যেকোনো সময় ইউরোপকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে ইউরোপের অস্তিত্বের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।
রাশিয়ার যুদ্ধে ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অথচ যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পরিবর্তন এসেছে খুব ধীরগতিতে। তবে ইউরোপের জন্য এই সংকট কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেনকে সহায়তা করা এবং রাশিয়াকে চাপে রাখার প্রচেষ্টা ইউরোপের অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও রাজনৈতিক ঐক্যের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দেশটির জন্য প্রতিকূল একটি সমঝোতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছেন। ফলে ইউক্রেনকে সহায়তা করার বাড়তি দায়িত্ব ইউরোপকেই এককভাবে বহন করতে হতে পারে।
সর্বশেষ সংকট সাময়িকভাবে এড়ানো গেলেও ইউরোপের পক্ষে এখন আর ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই যে যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখার মতো আর্থিক সক্ষমতা, নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় শিল্পভিত্তি এবং মস্কোকে চাপে রাখার মতো অর্থনৈতিক প্রভাব ইউরোপকে গড়ে তুলতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপের প্রয়োজন একটি যুদ্ধকালীন অর্থনীতি।
গত চার বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এ ধরনের অর্থনীতি গড়ে তোলার অর্থায়ন সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার আছে। একই সঙ্গে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কীভাবে সেই প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক হওয়া জরুরি।
ইউক্রেনকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২০২৪ সালে জি-৭-এর ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় ইইউ ১৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওই অর্থের উৎস ছিল রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ থেকে ভবিষ্যতে পাওয়া আয়ের বিপরীতে ঋণ। চলতি বছরের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ চূড়ান্ত করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি ছিল না।
তবে রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। এ মাসে ইইউ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞার তালিকা অনুমোদন করেছে। এতে রেকর্ডসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হলেও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের পরিধি খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি বন্ধের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হয়নি। বরং পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার গ্যাস আমদানির সুযোগ ২০২৭ সালের শরৎকাল পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প তাঁর পররাষ্ট্রনীতির কারণে সৃষ্ট ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে গিয়ে রাশিয়াসংশ্লিষ্ট নতুন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউরোপের নেতারা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ইউরোপকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে ইউরোপ চাইলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারত।
ফেব্রুয়ারির আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এবং বছরে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হতো। অন্যদিকে গত সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ৬৫ লাখ ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। গত বছর দেশটির এলএনজি রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ঘনমিটার। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং এলএনজির প্রায় দুই-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে রাশিয়া।
সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প যখন রাশিয়া থেকে আরও জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ খুঁজছেন, তখন মস্কোকে চাপে রাখার উদ্যোগের সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তায় বিনিয়োগও বাড়াতে হবে ইউরোপকে।
ইউরোপের জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হওয়া উচিত ইইউর সদস্যদেশগুলোর যৌথ ঋণ গ্রহণের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই অর্থ দিয়ে শুধু ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়াই নয়, ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকেও শক্তিশালী করতে হবে। ভবিষ্যতে রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন কোনো হুমকি এলে তা মোকাবিলা করা এবং প্রয়োজনে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।
সংকট অনেক সময় নতুন পথ তৈরির সুযোগ করে দেয়। করোনাভাইরাস মহামারির সময় এর উদাহরণ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যৌথ ঋণের বিরোধিতা করে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলো তখন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে। ২০২০ সালে তারা ৭৫০ বিলিয়ন ইউরোর নেক্সট জেনারেশন ইইউ পুনরুদ্ধার তহবিল গঠন করে।
পরবর্তী সময়ে জি-৭-এর ঋণ কর্মসূচিতে ইইউর অংশগ্রহণ এবং এ বছর ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ সুবিধা চালু করার মধ্য দিয়ে যৌথ ঋণের ধারণা যুদ্ধকালীন অর্থায়নেও সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো প্রতিটি সংকটের সময় আলাদাভাবে নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ইউরোপকে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে আর্থিক ও পুঁজিবাজারের সমন্বয় জোরদার করা এবং কার্যকর একটি আর্থিক-সামরিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইউরোপের শক্তি বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ প্রতিরোধ ও প্রয়োজনে যুদ্ধে জয়ের সক্ষমতা অর্জনের ভিত্তি হতে পারে এই ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিজ্ঞতাও এ ক্ষেত্রে শিক্ষণীয়। দেশটির গভীর ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে, এমনকি যখন সেই বিনিয়োগ থেকে তাৎক্ষণিক মুনাফা আসেনি। এরই ধারাবাহিকতায় স্পেসএক্স স্টারলিংকের মতো প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা আধুনিক যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিয়েছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব এখন স্পষ্ট। দেশটির যোগাযোগব্যবস্থা এমন একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল, যার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে একজন ব্যক্তির হাতে। তিনি হলেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা নির্ভরশীল হয়ে পড়া ইউরোপের জন্য একটি সতর্কবার্তা। নিজেদের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য ইউরোপের নিজস্ব অর্থায়ন সক্ষমতা গড়ে তোলা তাই জরুরি।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর বিদ্যমান ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে রাশিয়ার জব্দ করা সার্বভৌম সম্পদ নতুন ঋণ অর্থায়নের একটি সম্ভাব্য উৎস হতে পারে।
এই সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। জব্দ করা রুশ সম্পদের বড় অংশ বেলজিয়ামের ইউরোক্লিয়ারে সংরক্ষিত। রাশিয়া আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে এবং এর ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন আশঙ্কায় বেলজিয়াম এসব সম্পদ ব্যবহারের বিরোধিতা করছে।
এ পরিস্থিতিতে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একসঙ্গে এই ঝুঁকির দায় নিতে হবে। কারণ, এ নিয়ে বেলজিয়ামের উদ্বেগকে যতটা বড় করে দেখা হচ্ছে, বাস্তবে ঝুঁকি ততটা নাও হতে পারে।
ইউরোপের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সব উদ্যোগই যে সরাসরি যৌথ ঋণের মাধ্যমে নিতে হবে, এমন নয়। বরং ইউরোপীয় পুঁজিবাজারের সমন্বয় অনেক বেশি সম্প্রসারণ করা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জন্য করসুবিধাসম্পন্ন বিনিয়োগ কাঠামো গড়ে তোলা আরও কার্যকর হতে পারে।
শুধু জব্দ করা সম্পদের বিষয়েই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের অব্যাহত অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপরও ইউরোপকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর জন্য অস্ট্রিয়ার রাইফাইসেন ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের ঘটনাগুলোতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
২০২৫ সালে রাশিয়ার একটি আদালতের রায়ের পর রাইফাইসেন ব্যাংকের রুশ সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ নিয়ে নেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ধনকুবের ওলেগ দেরিপাস্কার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রাসপেরিয়াকে ক্ষতিপূরণ দিতে এই অর্থ নেওয়া হয়েছিল।
গত মাসে ভিয়েনার একটি আদালতের রায় রাইফাইসেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জব্দ করা রাসপেরিয়ার সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ তৈরি করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে এমন একটি নিষেধাজ্ঞা-ব্যতিক্রমের সুযোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইউরোক্লিয়ার ২০২৫ সালে রাশিয়াসংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করেছিল।
মস্কোর সঙ্গে এ ধরনের আইনি লেনদেনের সুযোগ বহাল থাকলে বেলজিয়ামের আশঙ্কার পেছনে যুক্তি তৈরি হয়। ক্রেমলিন যদি ইউরোপীয় সম্পদ জব্দ করতে পারে এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপে আটকে থাকা রাশিয়াসংশ্লিষ্ট সম্পদ ছাড় করিয়ে নিতে পারে, তাহলে প্রতিটি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাই দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রমেই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব ব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মিলে যায়। এখন ইউরোপকে আরও স্পষ্ট করে জানাতে হবে, যেসব প্রতিষ্ঠান রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করবে, তারা ইউরোপের আর্থিক ব্যবস্থা ও বাজারে প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
ট্রাম্প প্রশাসন আরও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউরোপীয় বাজার ও আর্থিক ব্যবস্থার গুরুত্ব কমে যাবে না। ফলে ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেয়ে ইউরোপের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রক্ষা করাই অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশি লাভজনক হতে পারে।
সবশেষে, পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে ইউরোপকে।
এ সপ্তাহে কাতারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহের বিনিময়ে নিরাপত্তা দেওয়ার কয়েক দশক ধরে চলে আসা নীতি থেকে সরে আসছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো সমান মাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা ইউরোপের নাও থাকতে পারে। তবে উভয় পক্ষের স্বার্থ ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তার রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউরোপের সক্রিয়তা এরই মধ্যে বাড়ছে। হুথিদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং জ্বালানি সরবরাহের সহায়তা পাঠিয়েছে।
ওয়াশিংটনের তুলনায় ইউরোপ ভবিষ্যতে আরও গভীর ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারত্বের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য ক্রেতা হিসেবেও নিজেদের অবস্থান কাজে লাগাতে পারে তারা। বিনিময়ে এসব দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও সহযোগিতা করতে পারে। বিশেষ করে ওপেক প্লাসে ক্রেমলিনের ভূমিকা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ইউরোপের নিজের নিরাপত্তার ব্যয় বহন করার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় সম্পদ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার, শিল্পভিত্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও গড়ে তোলার সুযোগ আছে। কিন্তু এসব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
ইউরোপের এখন আর শুধু যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা করার সময় নেই। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবিলা করতে হলে তাদের ঋণ গ্রহণ, প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারে সাহসী হতে হবে। ইউরোপের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের অভাব নয়, বরং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সেই অর্থ ব্যয় করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কি না।




