Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

ইউরোপের সংকটের দায় মুসলমানদের ওপর চাপাচ্ছে কেন?

ইউরোপের সংকটের দায় মুসলমানদের ওপর চাপাচ্ছে কেন?

ফরিদ হাফেজ ।। ইউরোপ এখন নানা সংকটে জর্জরিত। আর এসব সংকটের দায় চাপানো হচ্ছে মুসলমানদের ওপর। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর দেশটির উগ্র ডানপন্থীরা দ্রুত বর্ণবাদী বক্তব্য সামনে এনে সহিংসতার জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করতে শুরু করে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতিবেশী মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিটমহল সেউটায় প্রবেশের চেষ্টা করলে স্পেনের উগ্র ডানপন্থীরা ঘটনাটিকে মরক্কোর নাগরিকদের সংগঠিত ‘আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এর পেছনে রয়েছে ‘ইসলামের ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা’।

সংকটকে কাজে লাগিয়ে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো উগ্র ডানপন্থীদের পুরোনো কৌশল। কিন্তু ইউরোপের ক্রমবর্ধমান সমস্যার জন্য ইসলাম ও মুসলমানদের দায়ী করার প্রবণতা এখন আর ইউরোপীয় রাজনীতির চরম ডানপন্থী অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মূলধারার রাজনীতির একটি অংশও ক্রমেই এই প্রবণতার দিকে ঝুঁকছে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, তখন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অনেকটা নীরবেই একটি প্রস্তাব পাস করে। এর বিষয় ছিল, ‘ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ কৌশল এবং মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা’।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক গোষ্ঠী মধ্য-ডানপন্থী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও এই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য।

প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ৩৮১টি, বিপক্ষে ১৬৭টি। ভোটদানে বিরত ছিলেন ১৫ জন। উগ্র ডানপন্থী প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ ও ইউরোপ অব সভরেন নেশনস, উদারপন্থী রিনিউ ইউরোপ এবং ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফর্মিস্টস গোষ্ঠী প্রায় সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেয়।

অন্যদিকে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস, দ্য লেফট ও গ্রিনস গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্য প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। তবে তাঁদের বিরোধিতা প্রস্তাবটি ঠেকাতে পারেনি।

ফরাসি সরকারের ‘রাজনৈতিক ইসলামবাদ’ বিষয়ে তৈরি একটি অত্যন্ত বিতর্কিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। এতে এমন বেশ কিছু দাবি করা হয়েছে, যেগুলোর ভিত্তি দুর্বল এবং ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

প্রস্তাবে ‘ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ’ বলতে এমন একটি রাজনৈতিক কৌশলকে বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, ধীরে ধীরে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ এবং কোনো মতাদর্শকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সংগঠন, ফাউন্ডেশন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন, দাতব্য সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, যুব সংগঠন, বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত পরিসরের মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থী প্রভাব বিস্তার করা হয়।

আরও নির্দিষ্টভাবে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বৈচিত্র্য, সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈষম্যবিরোধী নীতিমালাকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার মতো গ্রহণযোগ্য উদ্যোগের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত ধর্মীয় পরিচয় যুক্ত করা হয়।

অর্থাৎ, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠন ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে পরিচালিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় সমাজে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে, এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলো এটি বাস্তবায়নে বাধ্য নয়। মুসলিম ব্রাদারহুড এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার আহ্বানও পুরো ইউরোপে বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, সংগঠনটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সহিংসতা পরিহারের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে প্রস্তাবটির গুরুত্ব শুধু এর আইনগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন একটি মতাদর্শিক কাঠামোকে বৈধতা দিচ্ছে, যার পরিণতি ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুতর হতে পারে।

এই কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করা মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। জনজীবনে মুসলিম নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণকেও উপস্থাপন করা হচ্ছে অনুপ্রবেশের কৌশল হিসেবে।

প্রস্তাবে ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট রেসিজমসহ (ইএনএআর) কয়েকটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করে তাদের কর্মকাণ্ডকে কথিত ‘ইসলামপন্থী’ আচরণের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব সংগঠনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং ইইউর অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের কাজ করার পথ সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কিন্তু ‘মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্ক’ বলতে ঠিক কাদের বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এই অস্পষ্টতার সুযোগে কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির সঙ্গে সামান্য সম্পর্ক থাকার অভিযোগেই কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্টতার অভিযোগই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এই ধরনের ধারণাকে বাইরের শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। বাস্তবে এমন প্রচেষ্টার নজিরও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে বিস্তৃত প্রচারণা চালিয়েছে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি উত্থাপনের কয়েক মাস আগে আমিরাতের একজন রাষ্ট্রদূত ‘মুসলিম ব্রাদারহুড: ইউরোপের জন্য প্রকৃত হুমকি’ শীর্ষক একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টেই।

অন্যদিকে প্রস্তাবে কাতার ও তুরস্ক থেকে আসা কথিত ‘ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশে’ বিদেশি অর্থায়নের বিষয়টিকেও সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এর পেছনে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রস্তাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের প্রতিবাদ করাকেও ইসলামপন্থীদের অনুপ্রবেশের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় সমাজে ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলা এবং মুসলমানদের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত উদ্যোগ ও জনপরিসরের বিতর্ক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতীকী দিক থেকেও এই প্রস্তাব ইউরোপের ডানপন্থী মুসলিমবিরোধী শক্তিগুলোর বড় বিজয়। এটি দেখিয়ে দিয়েছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার যে রাজনৈতিক অবস্থান একসময় ছিল, তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। মধ্য-ডানপন্থী ইপিপি ক্রমশ উগ্র ডানপন্থীদের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

মনে হচ্ছে, ইপিপি উগ্র ডানপন্থীদের রাজনৈতিক এজেন্ডার বড় একটি অংশ নিজেদের মধ্যে আত্মস্থ করে নিয়েছে। তবে সেই এজেন্ডাকে সরাসরি উগ্র ডানপন্থী ভাষায় না তুলে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এই প্রস্তাব ইউরোপে ইসলামবিদ্বেষের পরিবর্তিত চরিত্রও প্রকাশ করে। আগে অভিবাসীদের বহিরাগত হিসেবে দেখা হতো, যাঁরা ইউরোপীয় সমাজের সঙ্গে যথাযথভাবে ‘একীভূত’ হতে পারছেন না বলে অভিযোগ তোলা হতো। এখন সন্দেহের কেন্দ্রে চলে এসেছেন সেই মুসলমানেরা, যাঁরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারেন, সংগঠিত হতে পারেন এবং নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় সোচ্চার হতে পারেন।

মধ্য-ডানপন্থীদের কাছে এই ইসলামবিদ্বেষী রাজনৈতিক কাঠামোর বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে মুসলমানদের ঘিরে ভয় ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে নির্বাচনী সুবিধা পাওয়া যায়, অন্যদিকে বর্ণবাদের বিরোধিতা করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো বামপন্থীদেরও আক্রমণ করা সম্ভব হয়।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিসরে ‘ইসলামো-লেফটিজম’ বা ইসলামো-গশিজম ধারণাটির প্রচার বেড়ে যাওয়াও এ কারণে বিস্ময়কর নয়। বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় এবং প্রেসিডেন্ট পদের একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। এখন তাঁকে বিক্ষোভকারীদের উসকে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত হলো, এসব বিক্ষোভকারীর অনেকেই মুসলমান।

বামপন্থী ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই দ্বিমুখী আক্রমণের সঙ্গে অতীতের একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্বের মিল রয়েছে। একসময় ‘জুদেও-বলশেভিজম’ তত্ত্বের মাধ্যমে ইহুদিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হতো যে, তাঁরা পশ্চিমা সভ্যতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে কমিউনিজম ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমানে ‘ইসলামো-লেফটিজম’ ধারণাটি একই ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। রক্ষণশীল, উদারপন্থী এবং উগ্র ডানপন্থী শক্তি, সবাই কমবেশি এই ধারণাকে ব্যবহার করে ইসলাম ও বামপন্থীদের একটি অভিন্ন শত্রু হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।

এর মধ্য দিয়ে তারা ১৯৬০-এর দশক থেকে পশ্চিমা সমাজে বর্ণবাদ ও বৈষম্য মোকাবিলায় যে সামান্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও পাল্টা রাজনৈতিক অভিযান চালাচ্ছে। তাদের কাঙ্ক্ষিত ইউরোপ যেন এমন এক দুর্গ, যেখানে মুসলমানদের কোনো স্থান নেই।

‘ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ’ নিয়ে প্রস্তাবটির ভিত্তি যতই দুর্বল হোক না কেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রক্ষণশীল রাজনৈতিক জোটগুলোর পক্ষ থেকে আরও আইনি প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে মুসলমানেরা যখন নিজেদের অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় সংগঠিত হবেন, তখন তাঁদের কর্মকাণ্ড সীমিত করার উদ্যোগ বাড়তে পারে।

একই সময়ে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তিরা ইউরোপের নানা সামাজিক সমস্যার জন্য ইসলামকে দায়ী করতে থাকবেন। কৃচ্ছ্রসাধনমূলক অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে মানুষের বৈধ প্রতিবাদকেও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলবে। আর শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে রাজনীতিকেরা মুসলমানদের ঘিরে ভয় ও ক্ষোভ উসকে দেবেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন রক্ষণশীল এই পাল্টা রাজনৈতিক অভিযানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান। সেই অবস্থানের ভিত্তি হতে হবে সবার নাগরিক স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। কারণ, নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য নয়; তা প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য।- আল জাজিরা থেকে বাংলায় রুপান্তরিত

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies