Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে ওপেনএআইয়ের হইচই, অথচ নিজেরাই তথ্য চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত

গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে ওপেনএআইয়ের হইচই, অথচ নিজেরাই তথ্য চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত

আলজাজিরা

আপাতত অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন মার্কিন নাগরিকেরা। দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) একটি বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি নস্যাৎ করে দিয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের এক সৌদি প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। ওপেনএআইয়ের তৈরি জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত লক্ষ্য, ‘কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে আসে’, তা নিশ্চিত করা।

গ্রেপ্তার হওয়া ৩৫ বছর বয়সী সৌদি নাগরিক প্রকৌশলী আবদুর রহমান আলফোজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সান ফ্রান্সিসকোয় ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে নির্বাহীদের বৈঠকের একটি কক্ষে গোপনে শব্দ ধারণের যন্ত্র স্থাপন করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটনের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই গুরুতর ঘটনা প্রমাণ করে, বিশ্বব্যাপী ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতিবুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁরা বিষয়টি জানেন না, তাঁদের জন্য বলা দরকার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলও একই সুরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিবুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উদ্ভাবন সুরক্ষিত রাখা দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এফবিআই তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র হিসেবে নিজেদের দাবি করা যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্র ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার কথিত দূরত্বের বিষয়টি তাহলে কোথায় দাঁড়াল?

খবরে বলা হয়েছে, টয়লেট পেপারের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল শব্দ ধারণের যন্ত্রটি। পরে সেটি একটি টেলিভিশন মনিটরের পেছনে লাগানো হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট গিজমোডো বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে লিখেছে, যন্ত্রটিকে অত্যাধুনিক গুপ্তচর সরঞ্জাম হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও অনলাইনে মাত্র ১৩ দশমিক ৯৯ ডলারে এটি কেনা সম্ভব।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে আলফোজানের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।

তথ্য চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে এত উদ্বেগ কেন?

কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, ঘটনাটি এত বড় করে দেখার কী আছে? যুক্তরাষ্ট্র সরকার এমন আচরণ করছে কেন, যেন সময়টা ১৯৫০-এর দশক, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন পারমাণবিক গোপন তথ্য চুরি করতে নেমেছে!

ঘটনাটি আরও কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে ওঠে যখন আমরা দেখি, যে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি চুরির কথিত চেষ্টা নিয়ে এত তোলপাড়, সেই প্রতিষ্ঠানের উত্থান এবং বিপুল বাজারমূল্যের পেছনেও অন্যের সৃষ্টিকর্ম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

আলফোজান গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিনই ইউএসএ টুডেসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদপত্র নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই বিপুলসংখ্যক সংবাদ প্রতিবেদন ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল।

এর আগেও গত জুলাইয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজসহ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফেডারেল আদালতের কাছে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটিকে প্রশিক্ষণ দিতে চুরি করা সাংবাদিকতার উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ গোপন ও ধ্বংস করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইনজীবী স্টিভেন লিবারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রমাণ লুকানো ও ধ্বংস করার অভিযোগেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।

এখানেই ঘটনার মূল বিদ্রূপটি। ওপেনএআই অন্যের সৃষ্টিকর্ম ব্যবহার করলে সেটি নাকি ‘সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে’ প্রযুক্তি উন্নয়নের অংশ। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী একজন সৌদি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একই ধরনের তথ্য চুরির অভিযোগ উঠলেই তা হয়ে যায় জাতীয় নিরাপত্তার সংকট!

জাতীয় নিরাপত্তার কথা শুনতে শুনতে যাঁরা ইতোমধ্যে বিরক্ত, তাঁদের বিরক্তি আরও বাড়াতে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ। তাঁর দাবি, অত্যাধুনিক অতিবুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি-সংক্রান্ত মেধাস্বত্ব চুরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। তাই মার্কিন উদ্ভাবনকে রক্ষা করতে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, ‘উদ্ভাবন’ রক্ষায় সরকারের এত বিশেষ আগ্রহ কেন, যখন তাঁরাই প্রায়ই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হন?

যুক্তরাষ্ট্রে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গদের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোই বিবেচনা করা যাক। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখিয়ে দেয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আরও প্রত্যক্ষ ও বাস্তব হুমকি রয়েছে। অথচ টয়লেট পেপারের আড়ালে লুকানো ১৪ ডলারের একটি যন্ত্র নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তেমন মনোযোগ কোথায়?

এআইয়ের দাপটে মানবিক নিরাপত্তা উপেক্ষিত

কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা এমন এক করপোরেট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কাছে খুব একটা গুরুত্ব পায় না, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। এআই শিল্পের বিকাশের সঙ্গে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এই শিল্পের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

এর অন্যতম উদাহরণ ব্যাপক নজরদারি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। পুরোনো পুলিশি নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে তৈরি হচ্ছে আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি পুলিশ বিভাগের সদস্য নতুন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকাদের ওপর নজরদারি চালিয়েছেন। স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মতো ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপের ঘটনাও সামনে এসেছে।

এর পাশাপাশি এফবিআইসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য কিনছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অনেকটা জর্জ অরওয়েলের কল্পিত ‘বিগ ব্রাদার’ ব্যবস্থার মতো, যেখানে নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনও নজরদারির বাইরে থাকে না।

এসব ঘটনা সামনে এলে আলফোজানের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক উদ্বেগের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হয়।

এআইয়ের সামরিক আধিপত্য এবং অন্য দেশের নিরাপত্তা

অন্য দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পেন্টাগনের সঙ্গে ব্যবসা করা ওপেনএআই এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভেনেজুয়েলা থেকে ইরান পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় এআই প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের আধিপত্য আরও দ্রুত প্রতিষ্ঠা করা। ট্রাম্প এআইয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ রাখার নির্দেশ দেওয়ার আগেই এই কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ইসরাইলও ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তিসহ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। পশ্চিম তীরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোসহ মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বছর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো নীরবে ইসরাইলকে গাজা ও লেবাননে কথিত সশস্ত্র যোদ্ধাদের শনাক্ত ও হত্যার কাজ আরও দ্রুত করতে সহায়তা করেছে। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সেবার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে এসব প্রযুক্তি নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এপি হয়তো বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো, গণহত্যার পরিণতি এমনই ভয়াবহ।

যুক্তরাষ্ট্র যখন এআই প্রযুক্তিতে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ছে, তখন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোও এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে মানুষের ভূমিকা ক্রমেই গৌণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আলফোজানের কথিত গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় টয়লেট পেপারের ব্যবহার যেন পুরো ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিদ্রূপ। মানুষের তথ্য, সৃষ্টিকর্ম ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, তারাই যখন গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে: আসলে কার নিরাপত্তা রক্ষা করা হচ্ছে, আর কার স্বার্থে এই তৎপরতা?

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies