বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন ভারতের তরুণেরা। দুই দেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনটির ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে শুভেচ্ছা ও সংহতি জানিয়ে দেওয়া ওই বার্তায় বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে ভারতের তরুণদের অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা তুলে ধরেন নেহা।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি লাল সালাম। আমরা জানি, আজ ভারতজুড়ে জেন-জি তরুণদের যে আন্দোলন দেখতে পাচ্ছি, তার শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশেই। আমাদের পথ দেখানো এবং ভারতের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই।’
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি পায়। এর পর ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নেপালেও জেন-জি আন্দোলনের মুখে সরকারের পতন ঘটে।
বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নেহা বলেন, ‘বাংলাদেশে যে আন্দোলন হয়েছিল, তা ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আজ ভারতের তরুণেরাও গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, আপনাদের দেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের যে লড়াই, একই লড়াই আজ এই দেশের জেন-জি ও তরুণেরা করছেন।’
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর হুমকি ও হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন নেহা। তাঁর ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমবর্ধমান হুমকি ও আক্রমণের মুখে রয়েছে।
ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাকে বেসরকারীকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং স্বাধীন ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার পথ সংকুচিত করা হচ্ছে।
নেহার মতে, বাংলাদেশেও যুক্তিনির্ভর চিন্তার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের তরুণদের ওপর রাজনৈতিক প্রচারণা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দুই দেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নেহা বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি জানাই। আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিই, আপনাদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আশা করি, বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণেরা একসঙ্গে লড়াই করবেন। আর তা একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে আরও সুন্দর পৃথিবী গড়তে।’
বিজেপি-সমর্থক পরিবারে বেড়ে উঠলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সরব নেহা বর্তমানে দেশটির আলোচিত ছাত্রনেত্রীদের একজন।
গত জুন-জুলাইয়ে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) ঘিরে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। ওই সময় পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে অনশন কর্মসূচিতেও অংশ নেন নেহা।
টানা ২৩ দিনের ওই অনশন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) এই বামপন্থী ছাত্রনেত্রী ভারতজুড়ে পরিচিতি পান। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও আন্দোলনে সক্রিয় হন তিনি। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন নেহা।




