ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ থেকে আটক নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের ভ্যানে তোলার পর নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁদের মারধর করেন। এ সময় কয়েকজনের গলা চেপে ধরা এবং যৌনাঙ্গে লাথি মারার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি কয়েকজনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নওরিন নামের এক নারী বিক্ষোভকারী এসব অভিযোগ করেন। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার সদস্য।
নওরিনের বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার মধ্য দিল্লিতে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে একটি ভ্যানে তোলে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন নারী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নওরিন অভিযোগ করেন, ভ্যানে তোলার পর নারী পুলিশ সদস্যরা একে একে বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে শুরু করেন। দিশা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সদস্য শারন্যাকে ভ্যানের ভেতরে ফেলে এক নারী পুলিশ সদস্য তাঁর গলা চেপে ধরেন। এ সময় আরেক পুলিশ সদস্য কনুই দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করেন নওরিন। পরে একজন পুলিশ সদস্য শারন্যাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
নওরিনের আরও অভিযোগ, ভ্যানে থাকা অন্য নারী বিক্ষোভকারীদের বুক ও যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের কয়েকজনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে, এমন তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শনিবার ও রোববার দিল্লিতে বিক্ষোভ করেন ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিভিন্ন ছাত্র ও প্রতিবাদী সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের যন্তর মন্তরে যাওয়ার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিক্ষোভকারীরা ওই এলাকার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয় এবং অনেককে আটক করে।




