জামালপুরের চরাঞ্চলে আমন ধানের পাশাপাশি শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় টমেটো, বেগুন, লাউ ও ফুলকপিসহ নানা সবজি আবাদে ব্যস্ত কৃষকেরা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ তাঁদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ রয়েছে। তাহলে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না কেন? এই প্রশ্নের সুরাহা হওয়া জরুরি।
কৃষি বিভাগের অক্টোবর মাসের হিসাব অনুযায়ী, জামালপুরে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৯৬০ মেট্রিক টন, বরাদ্দ ১ হাজার ২৬ মেট্রিক টন। তবে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় যথাক্রমে ৩১, ৬১ ও ৩২ মেট্রিক টন কম। অর্থাৎ ইউরিয়ায় উদ্বৃত্ত থাকলেও অন্য তিন ধরনের সারে ঘাটতি রয়েছে। তাই মোট বরাদ্দের হিসাব দিয়ে সার সরবরাহের পরিস্থিতি বিচার করা যথেষ্ট নয়।
সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও উদ্বেগজনক। বকশীগঞ্জ, ইসলামপুর ও মেলান্দহে অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং নির্ধারিত এলাকার কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করার অভিযোগে অভিযান ও জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সংকটের সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণিত না হলেও বিতরণব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আগাম সবজি চাষে সময়মতো সার প্রয়োগসহ নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। উপকরণ সংগ্রহে দেরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, বাড়তে পারে খরচ এবং ঝুঁকিতে পড়তে পারে কৃষকের বিনিয়োগ। বিশেষ করে ধারদেনা করে চাষাবাদ করা প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এমন পরিস্থিতি বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের শুধু বরাদ্দের হিসাব প্রকাশ করলেই চলবে না। কোন উপজেলায় কত সার বরাদ্দ হয়েছে, ডিলাররা কতটুকু পেয়েছেন, কী পরিমাণ মজুত রয়েছে এবং কৃষকদের কাছে কতটা বিক্রি হয়েছে, তা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পুনর্বিবেচনাও জরুরি।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ পর্যাপ্ত সার বরাদ্দের কথা জানিয়ে কৃষকদের আশ্বস্ত করেছেন। এখন এই আশ্বাসের প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকেরা যেন সার সংগ্রহের জন্য অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে।
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বরাদ্দের সার সঠিক সময়ে, সঠিক দামে, সঠিক কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিই হওয়া উচিত তদারকির প্রধান মাপকাঠি। কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও মাঠে কৃষক সংকটে থাকলে সেই ব্যবস্থাপনাকে সফল বলা যায় না।

