Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
অন্যান্য

কিউবা: সাম্রাজ্যের সামনে এক অবাধ্য দ্বীপ

কিউবা: সাম্রাজ্যের সামনে এক অবাধ্য দ্বীপ

মারিও রেইনালদো মাচাদো ।। কিউবাকে ঘিরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানকে অনেকেই ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কিউবায় একই ধরনের পদক্ষেপের পথ প্রশস্তকারী ঘটনা হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে কিউবার আশপাশে মার্কিন সামরিক তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তাঁরা চান ‘কিউবা স্বাধীন হোক’।

কবে, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় আঘাত হানতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন ইঙ্গিত বলছে, কিউবার বিপ্লব হয়তো তার শেষ অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে থেমে ফিরে দেখা প্রয়োজন, মাত্র এক কোটি মানুষের দেশটি বিশ্বরাজনীতিতে কতটা বড় প্রভাব বিস্তার করেছে।

কিউবার বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ভূমিকার কথা ভাবলে স্যানতেরিয়া ধর্মবিশ্বাসের অন্যতম শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সত্তা এশুর কথা মনে পড়ে। পশ্চিম আফ্রিকার ইওরুবা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত এশু দেবতাদের বার্তাবাহক, জীবনের সংযোগস্থলগুলোর রক্ষক এবং অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যকার মধ্যস্থতাকারী।

বিভিন্ন উপকথায় এশুকে এমন এক প্রবীণ চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়, যিনি নিজের দুষ্টুমি ও কৌশলের মধ্য দিয়ে মানুষকে বিনয় ও নৈতিকতার শিক্ষা দেন। লোককথার এই চরিত্র মূলত এক ‘ট্রিকস্টার’ বা কৌশলী ছলনাকারীর প্রতিরূপ। বিশ্বের বহু সংস্কৃতিতেই এমন চরিত্রের উপস্থিতি রয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানায় এবং আড়ালে থাকা সত্য সামনে নিয়ে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিপরীতে দাঁড়ানো কিউবার সঙ্গে এশুর এই উপমা যেন যথার্থই মিলে যায়। কিউবা যখন নিজের সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে, তখন বিশ্ববাসীকে প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে, আমরা আসলে কেমন একটি পৃথিবী চাই? একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করেছে। কখনো কখনো অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রকে তার ঘোষিত উদারনৈতিক আদর্শের দিকে ফিরে তাকাতে বাধ্য করেছে। আবার কখনো মার্কিন ক্ষমতার সামনে এমন এক অস্বস্তিকর আয়না ধরেছে, যেখানে নিজেরই অসংগতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিপ্লবের প্রথম দিকেই এই কৌশলের কার্যকারিতা দেখা গিয়েছিল। ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরে, হাভানা দখলের মাত্র এক বছর পর, কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যান। কাস্ত্রোর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বক্তব্যে উদ্বিগ্ন এবং স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতায় আচ্ছন্ন মার্কিন সরকার শহরের কয়েকটি নামী হোটেলকে তাঁর ও তাঁর সফরসঙ্গীদের থাকার ব্যবস্থা না করতে চাপ দেয়। কিন্তু এতে কিউবার প্রতিনিধিদল দমে যায়নি। তারা নিউইয়র্কের হারলেম এলাকায় গিয়ে ঐতিহাসিক হোটেল থেরেসায় আশ্রয় নেয়।

সেখানে ছুটে আসেন আলোকচিত্রী ও টেলিভিশন সংবাদকর্মীরা। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কাস্ত্রো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিউবার প্রতিনিধিদলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বর্ণবৈষম্যের শিকার কৃষ্ণাঙ্গদের দুর্দশার তুলনা করেন।

ঘটনাটি তখন বিকাশমান নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন বিস্ফোরণের মতো আঘাত হানে। বৈপরীত্যটি ছিল অস্বস্তিকর। শুধু ঘটনার দৃশ্যমান দিকের জন্য নয়, স্থানটির কারণেও। বৈষম্যের ঘটনাটি ঘটেছিল না যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের বর্ণবাদী ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে, বরং উত্তরের উদারনৈতিক শহর নিউইয়র্কে, যে শহরকে মার্কিন সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র বলে মনে করা হয়। এটাই ছিল প্রথমবার। তবে শেষবার নয়, যখন কিউবা তার চিরাচরিত কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

পরবর্তী বছরগুলোতে কিউবার বিপ্লবী সরকার ‘কিউবান আন্তর্জাতিকতাবাদ’ নামে একটি কর্মসূচি গড়ে তোলে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পিস কর্পস ও ইউএসএআইডির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে নরম শক্তি বা প্রভাব বিস্তারের কৌশল প্রয়োগ করছিল, কিউবার এই উদ্যোগ কার্যত তার পাল্টা অবস্থান তৈরি করে।

কিউবা বিশ্বের ১৬৪টি দেশে প্রায় চার লাখ চিকিৎসক পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি দেশটি প্রকৌশলী, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য পেশাজীবীকেও বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। এই বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের বহু দেশের মানুষের মধ্যে কিউবার প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা তৈরি করে। ভেনেজুয়েলা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভিয়েতনামের মতো ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষের কাছে কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারা এমন পরিচিত মুখ, যেমন পরিচিত তাঁদের নিজ নিজ দেশের জাতীয় বীর সিমন বলিভার, নেলসন ম্যান্ডেলা ও হো চি মিন। এসব দেশেই মার্কিন নেতাদের স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তা মোটেই প্রশংসাসূচক নয়।

কিউবার এমন কৌশলী ভূমিকার উদাহরণ আরও অনেক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৬১ সালের বে অব পিগস আক্রমণ প্রতিহত করা। কিউবার নির্বাসিত নাগরিকদের দিয়ে পরিচালিত হলেও এই অভিযান সরাসরি সমর্থন ও অর্থায়ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। কিউবার সশস্ত্র বাহিনী সেই অভিযানকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে।

ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রতি কিউবার সমর্থনও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থাকে কূটনৈতিক সুরক্ষা ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছিল।

১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি কিউবান সেনা অ্যাঙ্গোলায় যুদ্ধে অংশ নেন। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতে কিউবা বিজয়ী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। ‘অপারেশন কার্লোটা’ নামে পরিচিত এই সামরিক অভিযান শুধু অ্যাঙ্গোলা ও প্রতিবেশী নামিবিয়ার মুক্তির পথ সুগম করেনি, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার পতন ত্বরান্বিত করতেও ভূমিকা রেখেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা কিউবার এই হস্তক্ষেপের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেছিলেন, এর মধ্য দিয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ নিপীড়কের অজেয়তার মিথ ধ্বংস হয়েছিল’।

এশুর মতোই কাস্ত্রোর জীবনেও ছিল প্রচলিত হিসাব-নিকাশকে ওলটপালট করে দেওয়ার উপাদান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁকে হত্যার জন্য ছয় শতাধিকবার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। অথচ শেষ পর্যন্ত ৯০ বছর বয়সে স্বাভাবিক কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

কিউবার আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো, বিপ্লব-পরবর্তী ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষরতার হার, শিশুমৃত্যুর হার ও গড় আয়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখানো। যে দেশকে প্রায়ই ‘তৃতীয় বিশ্বের’ তকমা দিয়ে ছোট করে দেখা হয়েছে, তার জন্য এসব অর্জন ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে এসব অর্জনের বাইরেও সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো বিপ্লবটির টিকে থাকা। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম অর্থনৈতিক অবরোধ হিসেবে পরিচিত এই নিষেধাজ্ঞা বিভিন্ন সময়ে আরও কঠোর করা হয়েছে। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবা যখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, তখন চাপ আরও বেড়ে যায়।

বিশ্বের বৃহত্তম পরাশক্তির সর্বোচ্চ চাপের মধ্যেও কিউবার বিপ্লবী সরকার নব্বইয়ের দশকের সংকট পার করে টিকে থাকে। এ সময় দেশটি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনে, কিছু ক্ষেত্রে উদারীকরণের পথে হাঁটে এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্পর্ক কাজে লাগায়। শুধু তা-ই নয়, দেশটি দেশজুড়ে টেকসই কৃষিব্যবস্থার এক ধরনের রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হয়। যেকোনো দেশের জন্যই এমন অর্জন উল্লেখযোগ্য। তবে কিউবার দীর্ঘদিনের বিকল্পধর্মী পথচলার ইতিহাস বিবেচনায় তা হয়তো খুব একটা বিস্ময়কর নয়।

কিন্তু কৌশলী চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, তার আচরণ অনেক সময় অপ্রত্যাশিত, এমনকি পরস্পরবিরোধীও হতে পারে। কিউবার এসব অর্জন সত্ত্বেও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা এবং মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা দমনের বিষয়গুলো বিপ্লবের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে রয়ে গেছে।

কিউবায় বাক্‌স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। তথ্য ও ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ কঠোরভাবে সীমিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভও সহিংসভাবে দমন করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কিউবার সমালোচকেরা এসব ঘটনাকে দেশটির স্বভাবজাত কর্তৃত্ববাদী চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু এই প্রশ্নে কিউবা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ বিপরীত কোনো রাষ্ট্র নয়; বরং অনেক দিক থেকে তারই সমগোত্রীয়।

২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের নানা সংকটে আক্রান্ত। সেখানে দুর্নীতির ব্যাপকতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং এর মাধ্যমে সর্বব্যাপী নজরদারির সুযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ, মুখোশধারী রাষ্ট্রীয় এজেন্টদের হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ক্রমবর্ধমান রাজতান্ত্রিক মানসিকতার প্রেসিডেন্সি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এর সঙ্গে যোগ করা যায় কিউবার গুয়ানতানামো বে এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত আটককেন্দ্রটির কথা। তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে আটক ১৫ জন ব্যক্তি এখনো সেখানে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই আটককেন্দ্র আবারও আলোচনায় এসেছে।

বিষয়টি ভাবতে বাধ্য করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন যেসব দেশকে কথার লড়াইয়ে কর্তৃত্ববাদী বলে আক্রমণ করে, সেই কিউবা, রাশিয়া কিংবা ইরানের মতো রাষ্ট্রের কিছু বৈশিষ্ট্যই যেন নিজের মধ্যে ধারণ করছে।

এই অর্থে কিউবা এখনো মার্কিন ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়ানো এক প্রতিপক্ষের ভূমিকা পালন করে চলেছে। কিউবার দমনমূলক শাসনব্যবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে ওঠা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতারই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। শেষ পর্যন্ত কৌশলী ছলনাকারীরাও নৈতিকতার প্রশ্নে পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। আর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা যদি হয় নিজের সবচেয়ে মহৎ আদর্শের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংগতিপূর্ণ থাকতে না পারা, তাহলে এই দিক থেকে কিউবা ও তার বিপ্লবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পার্থক্য খুব বেশি নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এখন কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে নানা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে কিউবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ফলে আমরা হয়তো বিপ্লবটির শেষ দিনগুলো প্রত্যক্ষ করছি।

এখানেই প্রশ্ন জাগে, যেদিন এশু আর জীবনের সংযোগস্থলগুলোর প্রহরী হয়ে থাকবে না, সেদিন কী ঘটবে? এমন এক পৃথিবীর পরিণতি কী হবে, যেখানে থাকবে কেবল প্রশ্নহীন সাম্রাজ্য আর প্রযুক্তিনির্ভর সামন্তপ্রভুরা? তাদের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো কৌশলী প্রতিপক্ষ না থাকলে, পৃথিবী কি আবার প্রতিশোধপরায়ণ অতীতের দিকে ফিরে যাবে, নাকি গড়িয়ে পড়বে কোনো এক দুঃস্বপ্নময় ভবিষ্যতের দিকে?

বিপ্লবের পতন যদি শেষ পর্যন্ত ঘটেই যায়, তাহলে মায়ামির রাস্তায় নিশ্চয়ই আনন্দোৎসব হবে। কিন্তু বিশ্বের অন্য অনেক জায়গায় নেমে আসবে শোক। সেই অশ্রু শুধু একটি বিপ্লবের জন্য হবে না, বরং সেই বিকল্প ব্যবস্থার জন্যও হবে, যে ব্যবস্থা নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অন্য রকম একটি পৃথিবীর সম্ভাবনা তুলে ধরেছিল।

হয়তো যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও মনোযোগ দিয়ে, কিংবা ভিন্নভাবে, কিউবার কথা শুনত, তাহলে এশু যে শিক্ষা দিতে চেয়েছিল, তা তারা বুঝতে পারত।- আলজাজিরা থেকে বাংলায় রুপান্তরিত

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies