জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানি এলাকায় পাশাপাশি অবস্থান করছে ইতিহাসের তিন ভিন্ন সময়ের স্থাপত্য। একই পরিসরে মিলেছে সুলতানি আমলের প্রাচীন মসজিদ, ব্রিটিশ আমলের পুরোনো বাড়ি, কাচারি ঘর ও রংমহল এবং পাকিস্তান আমলের সম্ভ্রান্ত পরিবারের বসতবাড়ি। অল্প পরিসরের এই ঐতিহাসিক জনপদ যেন কয়েক শতাব্দীর ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।

স্থানীয়দের কাছে ‘গায়েবী মসজিদ’ নামে পরিচিত এক গম্বুজের প্রাচীন মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এর স্থাপত্যশৈলী দেখে এটি সুলতানি আমলের বলে ধারণা করা হয়। স্থাপত্যের কিছু বৈশিষ্ট্যে বাগেরহাটের খান জাহান আলীর স্থাপনাগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। ধারণা করা হয়, মসজিদটির বয়স প্রায় ছয় থেকে আট শতক। তবে সঠিক বয়স নির্ধারণে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা প্রয়োজন।

এরপর ব্রিটিশ আমলের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো বাড়ি ও কাচারি ঘর। একই এলাকায় রয়েছে ঐতিহাসিক রংমহল। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেওয়ানগঞ্জের কৃতী সন্তান মরহুম আব্দুল করিমের স্মৃতি। তিনি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার এবং ১৯৪৮ সালে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাড়িও এই এলাকায়।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, মেয়ে ও জামাতার জন্য নির্মিত রংমহলটি নির্মিত হয়েছিল বিনোদনের স্থান হিসাবে। বেশ কিছু গাল-গল্প অবশ্য জড়িয়ে আছে এই মহলটি নিয়ে।
পাশেই রয়েছে পাকিস্তান আমলের সম্ভ্রান্ত পরিবারের পুরোনো বসতবাড়ি।সেই সময়কার বনেদি ব্যাবসায়ীরা এখানে বসবাস করতেন।

ফলে একই এলাকায় সুলতানি, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের স্থাপত্যের পাশাপাশি অবস্থান দেওয়ানগঞ্জের ইতিহাসকে করেছে অনন্য।
ইতিহাস-ঐতিহ্যের এই সমৃদ্ধ পরিসর সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করা গেলে চিকাজানি হয়ে উঠতে পারে দেওয়ানগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান। একটি ছোট পরিসরেই কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস—চিকাজানি যেন সময়ের পাতায় দাঁড়িয়ে থাকা এক জীবন্ত জনপদ।

