Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
মতামত

ভারতের ভোটার আন্দোলনের কেন্দ্রে সংহতির বাছবিচার

ভারতের ভোটার আন্দোলনের কেন্দ্রে সংহতির বাছবিচার

নাবিয়া খান || ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধন ও বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে।

ভারতের নির্বাচন কমিশন এই কার্যক্রমের নাম দিয়েছে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর)। এর আওতায় ভোটারদের নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এ জন্য চাওয়া হচ্ছে পুরোনো নথিপত্র।

ছয় বছর আগে মুসলমানেরা রাজপথে নেমে সতর্ক করেছিলেন, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে এ ধরনের কাগজপত্র বাধ্যতামূলক করা হলে লাখ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। বিশেষ করে মুসলমানেরা এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে পারেন। কিন্তু তাঁদের সেই আশঙ্কা তখন গুরুত্ব পায়নি। এখন যখন মুসলমানদের বাইরেও বিপুলসংখ্যক মানুষের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রশ্নের মুখে, তখন অতীতে তাঁদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করা অনেকেই রাজপথে নেমেছেন।

এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে ঝুঁকি নিচ্ছেন, বিষয়টি আমাকে আশাবাদী করে। কিন্তু বিরোধীদের অবস্থানের মধ্যে একধরনের দ্বিচারিতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসআইআরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু তাঁদের দাবিদাওয়ায় সেই নাগরিকত্ব আইনটি প্রশ্নের মুখে পড়ছে না, যার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে মুসলমানেরা আন্দোলন করেছিলেন। একই সঙ্গে মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে প্রবণতা, সেটিও অক্ষত থেকে যাচ্ছে।

বর্তমানে যারা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের কেউ কেউ ২০১৯ সালের আন্দোলনের বিরোধিতাও করেছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো, এই আন্দোলন কি মুসলমানেরা যে বৈষম্যের আশঙ্কা করেছিলেন, তার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবে? নাকি একই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এবার যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, শুধু তাঁদের সুরক্ষার দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)। এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিন প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ছয়টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ধর্ম ইসলামকে ওই তালিকার বাইরে রাখা হয়।

আইনটির প্রকৃত ঝুঁকি ছিল এর সঙ্গে আরেকটি উদ্যোগ যুক্ত করার সরকারি পরিকল্পনায়। ওই বছরের এপ্রিলে কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, বিষয়টি বুঝতে হলে ঘটনাক্রম খেয়াল করতে হবে। প্রথমে নাগরিকত্ব বিল, এরপর জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন বা এনআরসি।

এনআরসির উদ্দেশ্য ছিল সারা দেশের নাগরিকদের একটি তালিকা তৈরি করা। সেখানে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে প্রত্যেককে নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হতো। ২০১৯ সালের নভেম্বরে সংসদেও অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, সারা দেশে এনআরসি কার্যকর করা হবে।

মুসলমানেরা তখনই এই পরিকল্পনার তাৎপর্য বুঝতে পেরেছিলেন। যাঁরা নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পারবেন না, তাঁদের তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা ছিল। যাঁদের অনেকের পক্ষে মাথা গোঁজার ঠাঁই কিংবা দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই কঠিন, তাঁদের কাছে এমন পুরোনো নথিপত্র কীভাবে থাকবে, যা আগে কখনো সংরক্ষণ করার প্রয়োজন পড়েনি? এরপর সিএএর মাধ্যমে বাদ পড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকলেও মুসলমানদের জন্য সেই সুযোগ রাখা হয়নি।

দিল্লির শাহিনবাগে মুসলিম নারীরা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পুরো শীতজুড়ে চলা সেই আন্দোলন কেবল ভবিষ্যতের এনআরসি নিয়ে সতর্কবার্তা ছিল না; ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন মেনে নিতে অস্বীকৃতিও ছিল। ২২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, তাঁর সরকার দেশব্যাপী এনআরসি নিয়ে কখনো আলোচনা করেনি। ভারতের বড় একটি অংশ তাঁর সেই বক্তব্য বিশ্বাস করেছিল।

ছয় বছর পর দেখা যাচ্ছে, ভিন্ন একটি দপ্তর ও ভিন্ন নামে সেই একই ধরনের নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশন এর অন্যতম কারণ হিসেবে ‘অবৈধ বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম অন্তর্ভুক্তি’ ঠেকানোর কথা উল্লেখ করে।

কমিশনের নির্ধারিত নথিপত্রের ক্ষেত্রে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই এবং ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বর দুটি জন্মতারিখকে ভিত্তি ধরা হয়। কারও জন্ম যত পরের সময়ে, তাঁকে নিজের বাবা-মায়ের তত বেশি নথিপত্র জমা দিতে হয়। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, ২০০৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনআরসি ঘোষণা না করলেও কার্যত ভোটার তালিকাকেই নাগরিকত্ব যাচাইয়ের তালিকা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে সংসদে অমিত শাহ বলেছিলেন, এসআইআরের উদ্দেশ্য হলো ‘অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা’। শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শরণার্থীরা ধর্মীয় কারণে নিরাপত্তার খোঁজে ভারতে আসেন, আর অনুপ্রবেশকারীরা আসেন অর্থনৈতিক কারণে। সিএএতেও এই পার্থক্যকেই আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের রাজনীতিতে ‘ঘুসপৈঠিয়া’ বা অনুপ্রবেশকারী শব্দটির লক্ষ্য কারা, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, যিনি বর্তমানে রাজ্যটির সরকার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, বলেছিলেন এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে ‘বাংলাদেশি মুসলমানদের’ নাম বাদ দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত কতজন বিদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গেই ভোটার তালিকার এই সংশোধন প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এর প্রভাব বোঝার জন্য রাজ্যটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। গত এপ্রিলে রাজ্যটির নির্বাচনের আগে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। বুথভিত্তিক একটি হিসাব অনুযায়ী, বাদ পড়াদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন হিন্দু।

প্রথম পর্যায়ে ভোটারদের অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত কিংবা একাধিকবার তালিকাভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে নাম বাদ দেওয়া হয়। এ পর্যায়ে হিন্দু ও মুসলমানদের বাদ পড়ার হার ছিল মোটামুটি তাঁদের জনসংখ্যার অনুপাতে।

কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নথিতে নির্বাচন কমিশন ‘যৌক্তিক অসংগতি’ খুঁজে পায়। এসব নথি যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় বিচারিক কর্মকর্তাদের কাছে। অসংগতির মধ্যে এমন বিষয়ও ছিল, যেখানে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কারও বাবার নামের বানান একরকম, আর বর্তমান নথিতে আরেকরকম।

বিচারিক কর্মকর্তারা এই পর্যায়ে ২৭ লাখ মানুষের নাম বাদ দেন। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকা নিয়ে করা একটি বিশ্লেষণে পদবি বিবেচনায় দেখা গেছে, বাদ পড়াদের প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলমান। অথচ রাজ্যটির মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলমান।

কলকাতার সাবার ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা দেখেছেন, পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের তথ্য মেলানোর ক্ষেত্রে মুসলমানেরা বরং তুলনামূলকভাবে বেশি সফল ছিলেন। কর্মকর্তারা যখন বাড়ি বাড়ি গেছেন, তখন তাঁদের বাড়িতে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও বেশি ছিল। তারপরও তাঁদের নাম বাদ পড়েছে সেই পর্যায়ে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে।

গত বছরের অক্টোবরে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হলে রাজ্য বিজেপি সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রায় ৭০০টি শিবির করার পরিকল্পনা নেয়। উদ্দেশ্য ছিল, সিএএর আওতায় হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্বের আবেদন করতে সহায়তা করা। তাঁদের বার্তা ছিল, আবেদন করলে ভোটার তালিকায় তাঁদের অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া কোনো হিন্দু শরণার্থী পরিবারের জন্য নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন রয়েছে। কিন্তু একই ধরনের কাগজপত্র না থাকায় কোনো মুসলিম পরিবার বাদ পড়লে তাদের যেতে হবে ট্রাইব্যুনালে। সেখানে মামলার জট কাটতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। দিল্লিতে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে শহরটির ১ কোটি ৪৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৪৭ লাখ ৫০ হাজারের নাম। শাহিনবাগ ও জামিয়া নগর নিয়ে গঠিত ওখলা বিধানসভা এলাকায় বাদ পড়েছে মোট ভোটারের ৪৫ শতাংশ। দলিত প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত প্যাটেল নগর আসনে বাদ পড়ার হার ৪২ শতাংশ।

মুসলমানদের বাইরেও যখন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ভোটার তালিকায় নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন, তখন তাঁদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সুরক্ষা আসলে কাদের জন্য?

বিরোধী আন্দোলনের দাবিগুলো পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স বা ‘ইন্ডিয়া’ জোট তাদের অপরিহার্য দাবিগুলো তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, এসআইআরের আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল, কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ, আপিলের সুযোগ তৈরি এবং ‘কারিগরি বা প্রশাসনিক কারণে প্রকৃত ভোটারদের বাদ পড়া থেকে সুরক্ষা’।

শেষের দাবিটিতেই মূল সমস্যাটি রয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে, কোনো কর্মকর্তার অসতর্কতা বা প্রশাসনিক ভুলের কারণে প্রকৃত ভোটার যেন বাদ না পড়েন। কিন্তু রাষ্ট্র যখন কাউকে প্রকৃত ভোটার বলে স্বীকার করতেই অস্বীকৃতি জানায়, তখন তাঁর সুরক্ষার বিষয়ে এই দাবিতে কিছু বলা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে এমন ভোটারদের বড় অংশই ছিলেন মুসলমান।

চলতি মাসে অমিত শাহ অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের পরিকল্পনা করছে। জবাবে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, এসআইআরে আসলে কতজন অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হয়েছে এবং অমিত শাহের দায়িত্বকালে অনুপ্রবেশ বেড়েছে কি না। জবাবটি অমিত শাহের বক্তব্যের প্রতিবাদ হিসেবেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে এতে অনুপ্রবেশের অভিযোগটিকে প্রশ্ন না তুলে বরং ভিত্তি হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের কেউ কেউ এসআইআর চালুর অনেক আগেই একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন। ৪ অক্টোবর পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বাইয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন দুই চাচাতো ভাই উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে একটি মিছিল করেছিল। তাদের দাবি ছিল, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। রাজ ঠাকরে ওই কর্মসূচিকে সিএএবিরোধী আন্দোলনের ‘উপযুক্ত জবাব’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মুসলমানেরা কেন সিএএ ও এনআরসির বিরোধিতা করছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

তাহলে সংহতির প্রকৃত পরীক্ষা কোথায়? সেই মানুষগুলোর অধিকার রক্ষায় কে কতটা পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেটিই আসল প্রশ্ন, যাঁদের রাজনৈতিক দাবি অনেকের কাছে অস্বস্তিকর, সাম্প্রদায়িক কিংবা প্রকাশ্যে সমর্থন করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

এই কারণেই সিএএবিরোধী আন্দোলনের পর কারাবন্দী ব্যক্তিদের প্রশ্নটিও বর্তমান আন্দোলন থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ২০২০ সালের দিল্লি সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় অধিকারকর্মী উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম এখনো কারাগারে রয়েছেন।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা লাখ লাখ মানুষের উদ্বেগের বিকল্প নয় তাঁদের মামলা। তবে তাঁদের দীর্ঘ কারাবাসও একটি প্রশ্ন সামনে আনে: বর্তমান আন্দোলন কি ২০১৯ সালে সিএএর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের পাশেও দাঁড়াতে প্রস্তুত?

এই আন্দোলন যদি সত্যিই ২০১৯ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে থাকে, তাহলে সিএএর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে এবং দিল্লির বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি তুলতে হবে। আন্দোলন যদি শুধু পুরোনো ভোটার তালিকা পুনর্বহাল ও কাগজের ব্যালটে ভোটের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এসআইআরের কারণে বিপদে পড়া মানুষদের সুরক্ষার দাবি উঠবে ঠিকই, কিন্তু ছয় বছর আগে মুসলমানেরা যে বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, সেই আইনটি অক্ষতই থেকে যাবে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies