Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে মধ্যস্থতা করতে পারবে রাশিয়া?

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে মধ্যস্থতা করতে পারবে রাশিয়া?

আন্দ্রেয়াস মোৎসফেল্ট ক্রাভিক || রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরান সফর করেছেন। সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ও ৮ অক্টোবর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছিলেন পেজেশকিয়ান।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে কয়েকটি কারণে অন্যদের তুলনায় রাশিয়া এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান পারমাণবিক শক্তি রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসাটম বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাশিয়ার রয়েছে ব্যাপক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মস্কোর অবস্থানও মোটামুটি স্পষ্ট। রাশিয়া ইরানের নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে। বর্তমানে দেশটি ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে। তবে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহের বিরোধী মস্কো। নিজেদের সীমান্তের এত কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারও রাশিয়া চায় না।

দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্কের মধ্যে নানা টানাপোড়েন ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির একটি কারণ হলো, উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ বা চাপের মুখে পড়েছে। ইরানের ক্ষেত্রে তা সরাসরি সামরিক হামলার মাধ্যমে ঘটেছে। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ সংঘাতের পরিস্থিতিতে রয়েছে।

২০২২ সালে ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই রাশিয়াকে ‘কৌশলগতভাবে পরাজিত’ করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। এরপর ইরান রাশিয়ার পাশে দাঁড়ায় এবং দেশটিকে শাহেদ ড্রোনের প্রযুক্তি সরবরাহ করে।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে দুই দেশ একটি সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চুক্তিতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। তবে ইরান তাতে সম্মতি দেয়নি।

এ কারণে ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং বর্তমানে চলমান সামরিক সংঘাতের সময় ইরানের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে না আসার জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে সমালোচনা করা হয়, তা যথাযথ নয়। রাশিয়া ইরানের পাশে থেকেছে এবং অতীতে পাওয়া সহযোগিতার প্রতিদানও দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করা রাশিয়ার নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে ইরানের অসাধারণ প্রতিরোধক্ষমতা দেখে মস্কো দেশটিকে প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে রাশিয়া এটাও বুঝতে পারছে, হামলায় তার ঘনিষ্ঠ অংশীদার ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাশিয়া আশা করে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। প্রকল্পটি হলো আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইরানের মধ্য দিয়ে গেছে।

অন্যদিকে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজতন্ত্রগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে রাশিয়া। ইরানের পাল্টা হামলার কারণে এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা মস্কো চায় না।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এতে রাশিয়া আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এই লাভ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। হরমুজ প্রণালির অব্যাহত অবরোধ এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের অনুকূলে নয়।

ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রেও রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ (JCPOA) চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যে আট পক্ষের আলোচনা হয়েছিল, রাশিয়া তার অংশ ছিল।

সেই আট পক্ষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পরে চুক্তি থেকে সরে যায়। অন্যদিকে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয় পক্ষের কাছেই আগের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে মধ্যস্থতার সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে কার্যত রাশিয়া ও চীনই গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে।

রাশিয়া ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। চলতি মাসে পুতিন টেলিফোনে ট্রাম্পের কাছে ইরানের একটি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প কিয়েভের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আগামী মাসে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় পুতিন ও চীনের নেতা শি জিনপিংকে নিয়ে নজিরবিহীন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হলে তা যুক্তিসংগত হবে, যদি আলোচনার মূল বিষয় হয় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ।

এখানে মনে রাখা জরুরি, ইউরেশিয়ার বিভিন্ন সংকট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইউক্রেন, ইরান ও তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এসব সংকটের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের প্রধান ভূরাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে।

এই তিন দেশের নেতারা এর আগে কখনো একসঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে এভাবে আলোচনা করেননি। তাই এমন একটি বৈঠকের সম্ভাবনাকে নিছক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এ উদ্যোগ হয়তো নতুন কোনো বিশ্বব্যবস্থার সূচনা করবে না। তবে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিপরীতে কূটনীতিকে কার্যকর করার পথে এটি একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies