স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক তরুণীর অবস্থান নেওয়ার ঘটনায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মীমাংসার নামে তরুণীর মুঠোফোনের তথ্য মুছে ফেলতে চাপ প্রয়োগ এবং তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার খরচ বাবদ উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মেলান্দহের রূপসিহাটা এলাকায় প্রেমিক আলী হোসেনের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আলী হোসেন তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে বিয়ের বিষয়ে টালবাহানা শুরু করলে তিনি বাধ্য হয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ জুয়েল সালিসি বৈঠকে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করে মুঠোফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। এরপর তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার খরচের কথা বলে জুয়েল ৭ হাজার টাকা নেন বলে দাবি করেন ওই তরুণী।
ওই তরুণীর ফুফু সাহারা খাতুন বলেন, ‘জুয়েল নেতা রাতে এসে ৭ হাজার টাকা নিয়েছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ জুয়েল বলেন, রাতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি ওই তরুণীকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। সালিসি বৈঠকে একজন ব্যক্তিকে নিজের পকেট থেকে ১ হাজার টাকা খরচ দিয়েছিলেন। পরে সেই ১ হাজার টাকা ফেরত নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিব হাসান রনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান সুমিল বলেন, ‘ছাত্রদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেলান্দহে বিয়ের দাবিতে তরুণীর অবস্থান, ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা
React:




