Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

কেন ভয়াবহ বন্যার এতটা ঝুঁকিতে নেপাল?

কেন ভয়াবহ বন্যার এতটা ঝুঁকিতে নেপাল?

সিমোন শাহ, টাইম ম্যাগাজিন ।।

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যুগে পাহাড়ি জনপদগুলো কতটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধান মাহেশ্বর ধাকাল বন্যার জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিষির খানালও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের ‘বৈশ্বিক উদ্যোগ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

খানাল বলেন, নেপাল ও দেশটির মানুষের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ সংকট মোকাবিলায় পুরো বিশ্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে হিমালয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল বেশ কয়েকটি ভয়াবহ জলবায়ুজনিত ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০১২ ও ২০১৭ সালে ভূমিধস ও বন্যায় দেশটির বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ২০১৫ সালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হন। ওই ভূমিকম্পের পর মধ্য ও পশ্চিম নেপালের ১৪টি জেলায় ২০ হাজারের বেশি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

চলতি আগস্টের বিপর্যয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ঠিক কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলার সময় এখনও আসেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা যত বাড়বে, চরম আবহাওয়ার ঘটনাও তত ঘন ঘন ঘটবে। বিশেষ করে নেপালের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

জাতিসংঘও সতর্ক করেছে, আগামী বছরগুলোতে হিমালয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ হিমবাহ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

কেন চরম বন্যার এতটা ঝুঁকিতে নেপাল?

নেপালের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। দেশটির একদিকে নিচু সমতল অঞ্চল, অন্যদিকে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলো। গত সপ্তাহের বন্যার সূত্রপাতও হয়েছিল একটি ভূমিধস থেকে। এর ফলে একটি হিমবাহ ভেঙে পড়ে এবং পাথর ও গলিত বরফের পানি স্রোতের সঙ্গে নিচের দিকে নেমে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত করে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোরান একস্ট্রম বলেন, হিমালয়ের উঁচু এলাকাগুলোর ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষয় ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আগেও ভূমিধস ছিল। তবে উষ্ণায়নের কারণে এই ক্ষয়প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হচ্ছে। ফলে বড় বড় ভূমিধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনও দ্রুত ঘটছে।

গত কয়েক দশকে নদীর তীরবর্তী শহর ও গ্রামগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ফলে এসব এলাকায় মানুষের বসতি ও অবকাঠামোও দ্রুত বাড়ছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক বিভাগের শিক্ষক রাজীব ঘিমিরে বলেন, নদীঘেঁষা এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেড়েছে, পর্যটন সম্প্রসারিত হয়েছে এবং একের পর এক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

ফলে যেসব এলাকায় বন্যা হয়েছে, সেগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জনবহুল। গোরান একস্ট্রম বলেন, এসব এলাকায় অতীতেও বন্যা হতো। কিন্তু এখন খাড়া পাহাড়ি উপত্যকাগুলোতে মানুষের পাশাপাশি অবকাঠামোর পরিমাণও অনেক বেড়েছে। এক শতাব্দী আগে যে ধরনের বন্যায় হয়তো কয়েক ডজন মানুষ মারা যেত, একই ধরনের ঘটনা এখন অনেক বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে।

ভবিষ্যৎ জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় কী করতে পারে নেপাল?

নেপালে এমন কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয়, যা থাকলে বিপদের আগেই মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সহজ হতো।

অলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ম্যাথিয়াস ভুইলে উদাহরণ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে গত বছর একটি ভূমিধস ও হিমবাহ ধসে একটি ছোট গ্রাম মাটির নিচে চাপা পড়ে। কিন্তু আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কারণে মাত্র একজনের মৃত্যু হয়।

ভুইলে বলেন, হুমকি সম্পর্কে আমরা জানি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা পুরোপুরি অসহায় নই। এ ধরনের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আগে থেকেই প্রস্তুত সঠিক পরিকল্পনা।

ভবিষ্যতে অবকাঠামো নির্মাণের সময় জলবায়ু ঝুঁকিকেও গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন রাজীব ঘিমিরে। তার মতে, হিমালয়ের পাহাড় অত্যন্ত ভঙ্গুর। তাই নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সময় এ ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আগে থেকেই বিবেচনায় নিতে হবে।

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০ দশমিক ১ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি নেপাল।

হিমালয় অঞ্চল বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হচ্ছে। ফলে হিমবাহ দ্রুত সরে যাওয়া এবং চিরস্থায়ী বরফস্তর বা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে নেপালের মতো দেশগুলো আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।

একস্ট্রম বলেন, হিমবাহ সরে গেলে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের স্থিতিশীল ভারসাম্য নষ্ট হয়। নেপালসহ বিশ্বের যেসব এলাকায় হিমবাহ দ্রুত বিলীন হচ্ছে, সেখানে ভূমিধসের প্রবণতাও বাড়ছে। কারণ হিমবাহগুলো এতদিন পাহাড়ের ভূপ্রকৃতিকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রেখেছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও বেশি ঘটতে পারে।

নোট: বাংলা রুপান্তরে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies