Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

আটক তিন সহস্রাধিক, সিজেপির আন্দোলন ঘিরে অচল দিল্লি

আটক তিন সহস্রাধিক, সিজেপির আন্দোলন ঘিরে অচল দিল্লি

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। শনিবার দিনভর চলা অভিযানে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা, ছাত্রনেতা, আন্দোলনকারী, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীর সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিমান থেকে আটক সিজেপির নেতারা

সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলটির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করা হয় বলে জানিয়েছে দলটি।

বিমান থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে আটক করার প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে আসার পরও তাঁদের অপরাধীর মতো আটক করা হয়েছে।

এর আগে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁকে গাড়ির ভেতর থেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি।

জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়। সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি দিল্লিতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

ধ্রুব রাঠির ইউটিউবে তিন কোটির বেশি অনুসারী রয়েছে। ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে তাঁর ভিডিও ও বিশ্লেষণ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

মমতা ও কেজরিওয়াল আটক

বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একই দিন আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন রয়েছেন।

পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদের রয়েছে।

বামপন্থী নেতারাও আটক

বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বামপন্থী নেতা আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বাম নেত্রী বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন ও পি কে শ্রীমতীর নামও রয়েছে।

সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর আবার অন্যত্র নেওয়া হয়। তাঁদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) এই নেত্রী সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। আটক হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

গুরুদোয়ারা থেকে মিছিল, লাঠিচার্জের অভিযোগ

গত রাত থেকে দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক শ বিক্ষোভকারী। শনিবার সকালে তাঁরা জন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, গুরুদোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ জন জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হায়দরাবাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী অজয় জিঙ্গাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে লাঠিচার্জ করে অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হন। সিজেপি নেতা আজিঙ্ক্যা শিন্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানান, যেখানেই আন্দোলনকারীদের থামানো হবে, সেখানেই যেন তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।

সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আটকের অভিযোগ

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিবাদ করা কয়েকজন আইনজীবীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। পরে তাঁদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়।

সিজেপির অভিযোগ, দলটির কয়েকজন সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের স্থানান্তর, ৩ কোটি মানুষের খোঁজ না পাওয়া এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলোর প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, যাচাইয়ে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত নামগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো যোগ্য ভোটারের নাম ভুল করে বাদ পড়লে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে বলেও কমিশন জানিয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি। বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও সরকারের কর্মকাণ্ড ভূমিকা রেখেছে।

শনিবারের ধরপাকড় ও বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা এবং বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies