Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে সেনেগালকে ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন পথ নিতে হবে

সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে সেনেগালকে ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন পথ নিতে হবে

ইয়াসিন ফল ।। চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও সেনেগাল ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন ঋণ কর্মসূচিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে করা একটি চুক্তি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের গোপন ঋণের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর। হিসাব অনুযায়ী, ওই গোপন ঋণের পরিমাণ ছিল দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশ। এর ফলে সেনেগালের সরকারি ঋণ জিডিপির ১৩০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যায়, যা আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

এ ঘটনাকে বলা যেতে পারে ঋণের ক্ষেত্রে একটি ‘গণতান্ত্রিক বিশ্বাসঘাতকতা’। কারণ সেনেগালের জনগণকে এতদিন বলা হয়েছিল, তাদের দেশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি উদাহরণ। অথচ পরে তাদের সামনে এমন একটি ঋণের বোঝা তুলে দেওয়া হলো, যা বছরের পর বছর গোপনে জমা হচ্ছিল।

ঘটনাটি দেশজুড়ে ক্ষোভ ও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সেনেগালের ঋণ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এর প্রভাব পড়ে রাজনীতিতেও। ওই বছরের নভেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পাস্তেফ দল ৮০ শতাংশ আসনে জয় পায়।

কিন্তু প্রায় দুই বছর পর সেই সার্বভৌমত্বের এজেন্ডা এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। আনুষ্ঠানিকভাবে তা পরিত্যাগ করা হয়নি; বরং ধীরে ধীরে এর কাঠামো, ভাষা ও লক্ষ্য বদলে যাচ্ছে। বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকার আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর ফলে ঋণ সংকট থেকে বের হওয়ার তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বিকল্প পথগুলো নিয়ে ভাবনার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

আইএমএফের দীর্ঘ ছায়া

সেনেগাল আইএমএফের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিভুক্ত দেশ। ১৯৭৯ সাল থেকে দেশটি বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটির সহায়তা নিয়েছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি দেশটির অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর আনতে পারেনি। বরং এর ফলে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে—এমন সমালোচনা রয়েছে।

২০০৪ সালে সেনেগাল ‘হাইলি ইনডেটেড পুওর কান্ট্রিজ’ বা এইচআইপিসি উদ্যোগের আওতায় ঋণমুক্তির সুযোগ পায়। প্রায় ৪৮৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণ বাতিল করা হয়। কিন্তু এর বিনিময়ে দেশটিকে বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কার মেনে নিতে হয়। এর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ। এসব নীতির প্রভাব পড়ে মৌলিক সেবা, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর।

ঋণমুক্তির সুফল ছিল বাস্তব। কিন্তু যে অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা আর সেভাবে ঘটেনি।

এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রথমে কে কাকে ব্যর্থ করেছে?

২০২৩ সালের শেষ নাগাদ পুনর্গণনায় দেখা যায়, সেনেগালের প্রকৃত সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৯৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। অথচ এর আগে সরকারি হিসাব ছিল ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ জিডিপির ২৫ শতাংশের সমান বিশাল একটি ব্যবধান কয়েক বছর ধরে হিসাবের বাইরে ছিল। এটিকে নিছক একটি বিচ্ছিন্ন হিসাবের ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

আইএমএফ এই হিসাবের দায় সেনেগাল সরকারের ওপর দিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি একই সঙ্গে আইএমএফের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এখানে মূল প্রশ্ন কেবল কে ভুল করেছে তা নয়; বরং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ কর্মসূচির কাঠামো উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রকৃত অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে কতটা সক্ষম, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আফ্রিকার অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতাও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। জাম্বিয়া ১৯৮০-এর দশক থেকে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আসে। বাণিজ্য উদারীকরণ, সরকারি ব্যয় কমানো ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের মতো শর্ত দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে জাম্বিয়াকেও এইচআইপিসি উদ্যোগের আওতায় ঋণমুক্তির আবেদন করতে হয়। কিন্তু কাঠামোগত সংস্কারের কঠিন শর্তের কারণে সেই প্রক্রিয়াও বারবার বিলম্বিত হয়।

ইথিওপিয়ার অভিজ্ঞতাও একই ধরনের সমস্যার কথা মনে করিয়ে দেয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটি জি২০-এর কমন ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করে। কিন্তু ঋণদাতাদের সঙ্গে সমঝোতা হতে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে দেশটি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। আইএমএফের ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপও দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়িয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

সমাধানের পথ কী হতে পারে

এর অর্থ এই নয় যে সেনেগালকে সব ধরনের বৈদেশিক অর্থায়ন প্রত্যাখ্যান করতে হবে। প্রয়োজন বরং অগ্রাধিকার ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা।

নতুন ঋণ নেওয়ার আগে ঋণের প্রকৃতি ও বৈধতা যাচাই করতে হবে। পুনর্গঠন করার আগে প্রয়োজন ঋণ নিরীক্ষা ও জবাবদিহি। কর বাড়ানোর আগে উৎপাদনশীল বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিসর নিশ্চিত করতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার বদলে দেশের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কমানোর বদলে তা টিকিয়ে রাখতে হবে।

এবং ঋণ নিয়ে যে কোনো আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় অসম সম্পর্কের বদলে আঞ্চলিক ও মহাদেশীয় শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সেনেগালের সংসদ ও নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত একটি ‘নাগরিক ঋণ নিরীক্ষা’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। এর মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত তিনটি—ঋণটি আইনসম্মত ছিল কি না, ঋণটি ন্যায্য ও বৈধ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল কি না এবং শেষ পর্যন্ত তা জনগণের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে কি না।

২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নেওয়া সব সরকারি ঋণ স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঋণের ব্যবস্থা ও অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান, ঋণদাতা এবং আইএমএফের নজরদারি ব্যবস্থার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা উচিত। বিতর্কিত ঋণের ক্ষেত্রে নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখার ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

করনীতি ও উন্নয়ন ব্যয়ের ভারসাম্য

রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সেনেগালকে একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও সবার ওপর সমানভাবে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে সামাজিক ব্যয় কমানো সমাধান হতে পারে না।

বরং খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণকারী শিল্প এবং উচ্চ সম্পদের মালিকদের কাছ থেকে ন্যায্য কর আদায়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অবকাঠামো, কৃষিভিত্তিক শিল্প, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে সরকারি বিনিয়োগের একটি ন্যূনতম অংশ সুরক্ষিত রাখা দরকার। অভ্যন্তরীণ ঋণের সঙ্গে যুক্ত জটিল আর্থিক উপকরণ, বিশেষ করে ‘টোটাল রিটার্ন সোয়াপ’-এর মতো ব্যবস্থার শর্ত ও ব্যয়ও জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত এবং এর সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

জি২০-এর কমন ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সেনেগালের উচিত নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক সময়সীমা দাবি করা। একই সঙ্গে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যকার অসম ক্ষমতার ভারসাম্য কমাতে একটি কার্যকর বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

কোনো নতুন শর্ত গ্রহণ করা হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে তা সাময়িকভাবে পুনর্বিবেচনা বা স্থগিত করার সুযোগ থাকা উচিত। এতে এমন কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নীতি এড়ানো সম্ভব হবে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।

জ্বালানি সম্পদেও দরকার সুরক্ষা

সেনেগালের জ্বালানি ও হাইড্রোকার্বন সম্পদ থেকে যে আয় আসবে, তার জন্য আলাদা সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

সমৃদ্ধির সময়ে অতিরিক্ত রাজস্ব জমিয়ে রাখার জন্য একটি স্বচ্ছ স্থিতিশীলতা তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদনশীল ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকা দরকার। জ্বালানি রূপান্তর, কৃষির আধুনিকায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও ডিজিটাল অবকাঠামো এ বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত হতে পারে।

একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ কমানোর জন্য সক্রিয় ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করতে হবে। হাইড্রোকার্বন আয়ের ব্যবহারেও সংসদীয় নজরদারি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো সরকারি ঋণ নেওয়ার আগে সংসদের অনুমোদন এবং ঋণের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করে আইন করা প্রয়োজন।

দক্ষিণের দেশগুলোর সম্মিলিত শক্তি

সেনেগাল একা এই পরিবর্তন করতে পারবে না। ঋণ সংকটে থাকা অন্যান্য আফ্রিকান দেশের সঙ্গে তাকে একটি দক্ষিণ-দক্ষিণ জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে ঋণ পুনর্গঠনের শর্ত নিয়ে সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষি করা যায়।

১৯৮৭ সালের জুলাইয়ে অর্গানাইজেশন অব আফ্রিকান ইউনিটির এক বৈঠকে বুরকিনা ফাসোর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থমাস সাঁকারাও একই ধরনের যুক্তি দিয়েছিলেন—ঋণদাতারা যদি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে, তাহলে ঋণগ্রহীতাদেরও সমন্বিত হতে হবে।

এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠিত ‘বোরোয়ার্স প্ল্যাটফর্ম’ সেই ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি উদ্যোগ। এর প্রধান কাজ হওয়া উচিত ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যকার তথ্য ও সক্ষমতার বৈষম্য কমানো, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী ঋণের শর্তের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে সম্মিলিতভাবে তুলে ধরা।

আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনেগাল এমন একটি কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যার মাধ্যমে আফ্রিকার দেশগুলো ঋণ পরিশোধে ২০ থেকে ৩০ বছরের বাধ্যতামূলক স্থগিতাদেশের দাবি তুলতে পারে।

এ ধরনের ব্যবস্থায় ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে, তবে সেই অর্থ অন্য খাতে অপচয় না করে জাতীয় সংসদ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি বহুপক্ষীয় আইনি কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে, যাতে ঋণদাতাদের চাপিয়ে দেওয়া এমন শর্ত এড়ানো যায় যা সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মধ্যমেয়াদে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা উচিত শুধু অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে নয়, মানব উন্নয়নের সূচক দিয়েও।

নিজস্ব মুদ্রা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক ও মুদ্রা ইউনিয়নের (WAEMU) আওতায় সার্বভৌম ঋণের তারল্য ঝুঁকি যৌথভাবে মোকাবিলার উদ্যোগও নিতে পারে সেনেগাল। পাশাপাশি পশ্চিম আফ্রিকার সিএফএ ফ্রাঁ ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নিজস্ব মুদ্রা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা যেতে পারে।

কারণ বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার ফলে মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার সঙ্গে ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিও অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় সেনেগালের সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণ যে বিস্তৃত রাজনৈতিক ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে সংসদকে বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দিতে হবে। সেই পদ্ধতির ভিত্তি হওয়া উচিত স্বচ্ছতা, আইনসম্মত প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব।

বর্তমান শর্তে ঋণ পুনর্গঠন মেনে নিয়ে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া হয়তো সহজ পথ মনে হতে পারে। কিন্তু তাতে আফ্রিকায় গত চার দশকে যে ঋণ ও কাঠামোগত সংস্কারের মডেল বারবার সমস্যার জন্ম দিয়েছে, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

সেনেগালের জনগণ শুধু পুরোনো কাঠামোগত সংস্কারের একটি আরও সুশৃঙ্খল সংস্করণ চান না। তারা পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকেই ভোট দিয়েছেন। সেই প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখাতে হলে সেনেগালের সংসদকে ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের একটি নতুন পথ নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।- আল জাজিরা থেকে বাংলায় রুপান্তররিত

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies