Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
আন্তর্জাতিক

৬০ বছরে বতসোয়ানা: উত্তর-ঔপনিবেশিক আফ্রিকার ব্যর্থতার গল্পকে যে দেশটি চ্যালেঞ্জ করছে

৬০ বছরে বতসোয়ানা: উত্তর-ঔপনিবেশিক আফ্রিকার ব্যর্থতার গল্পকে যে দেশটি চ্যালেঞ্জ করছে

এই সপ্তাহে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে বতসোয়ানা। দেশজুড়ে চলছে হীরকজয়ন্তীর আয়োজন। ছয় দশকে দেশটির যে রূপান্তর ঘটেছে, এই বার্ষিকী তারই এক বড় স্মারক।

১৯৬৬ সালে স্বাধীনতার সময় সাবেক বেচুয়ানাল্যান্ড প্রটেক্টরেট ছিল বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি। তখন দেশটিতে পাকা সড়ক ছিল মাত্র ১২ কিলোমিটারের মতো। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২ জন এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্নাতক ছিলেন প্রায় ১০০ জন।

ছয় দশক পর বতসোয়ানা এখন উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বেরিয়ে আসা আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি বছরে গড়ে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দাঁড়ায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ ডলারে। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ৬ হাজার ৬০০ ডলার। আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ ও বহুমুখী অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় বতসোয়ানার এই অবস্থান দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

তবে বতসোয়ানার সাফল্যের গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আকারে নয়, সেই প্রবৃদ্ধিকে দেশটি কীভাবে কাজে লাগিয়েছে, সেখানেও।

১৯৯৪ সালে বতসোয়ানা জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাংক দেশটিকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের অর্থনীতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব দেশের অবকাঠামো ও জীবনযাত্রাতেও দৃশ্যমান। ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির সড়ক নেটওয়ার্ক প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটারে পৌঁছেছে। জনসংখ্যার ৮০ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটির ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করে। ১৯৭১ সালে এই হার ছিল মাত্র ৯ দশমিক ১ শতাংশ।

শিক্ষাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারি বিনিয়োগের ফলে শিক্ষার সুযোগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে বতসোয়ানায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ১৫১। ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছিলেন প্রায় ৬০ হাজার ২৮৭ শিক্ষার্থী। যে দেশ স্বাধীনতার সময় মাত্র ২২ জন বিশ্ববিদ্যালয়-স্নাতক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানে এখন উচ্চশিক্ষায় পড়াশোনা করছে কয়েক দশক হাজার তরুণ।

শিক্ষার পাশাপাশি দারিদ্র্য কমেছে এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধিও বেড়েছে। ২০০২-০৩ সালে বতসোয়ানার জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে তা আনুমানিক ১৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে দেশটির ৮৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে। প্রায় সব সন্তান প্রসবই এখন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে।

এই অগ্রগতির মধ্যে এইচআইভি মোকাবিলায় বতসোয়ানার উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০০২ সালে দেশটি আফ্রিকার প্রথম জাতীয় বিনা মূল্যের পূর্ণাঙ্গ এইচআইভি চিকিৎসা কর্মসূচি চালু করে। এর ২৩ বছর পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বতসোয়ানাকে উচ্চ এইচআইভি সংক্রমণের দেশগুলোর মধ্যে মা থেকে সন্তানের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ নির্মূলের পথে ‘গোল্ড টিয়ার’ মর্যাদা পাওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এইচআইভিতে আক্রান্ত ৯৮ শতাংশ গর্ভবতী নারী চিকিৎসা পান। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার নেমে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশে। দেশটির গড় আয়ুও এখন ৬৯ বছর।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বতসোয়ানা। ২০২৪ সালে বতসোয়ানা ডেমোক্রেটিক পার্টির ৫৮ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। নির্বাচনে বিরোধী দল আমব্রেলা ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ জয়ী হয় এবং ক্ষমতাসীন সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

অর্থনীতি ও রাজনীতির বাইরেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বতসোয়ানার পরিচিতি বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে লেটসিলে তেবোগো দেশটির ইতিহাসে প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক এনে দেন। পরের বছর কোলেন কেবিনাতশিপি ৪০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। ২০২৬ সালের মে মাসে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে বতসোয়ানা গাবোরোনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস রিলেজ আয়োজন করে। নিজেদের দর্শকদের সামনে পুরুষদের ৪x৪০০ মিটার রিলেতেও শিরোপা জেতে তারা।

বতসোয়ানার এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো দেশটির হীরা সম্পদ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি।

বর্তমানে ডি বিয়ার্সের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হীরা খনির প্রতিষ্ঠান ডেবসোয়ানার ৫০ শতাংশ মালিকানা বতসোয়ানা সরকারের। দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘পুলা ফান্ড’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদের একটি অংশ সংরক্ষণ করছে এবং খনিজ সম্পদের দামের ওঠানামার কারণে অর্থনীতিতে যে ধাক্কা আসতে পারে, তা সামাল দিতেও সহায়তা করছে। প্রায় সাড়ে সাত মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশটিকে আরও একটি আর্থিক সুরক্ষা দেয়।

অর্থাৎ হীরাকে শুধু রপ্তানি করে আয় করার সুযোগ হিসেবে দেখেনি বতসোয়ানা। খনিজ সম্পদের আয় ব্যবহার করেছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অন্যান্য সরকারি সেবা বিস্তারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে।

তবে এখানেই বতসোয়ানার সামনে বড় একটি প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। যে সম্পদ তার উন্নয়নের অর্থ জুগিয়েছে, সেই হীরার ওপরই দেশটির অর্থনীতি এখনো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

গত এক দশকে দেশটির পণ্য রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল হীরা। এখনো জাতীয় রাজস্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে এই খাত থেকে।

বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক হীরার চাহিদা কমেছে। একই সঙ্গে ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত হীরা অনেক কম দামে বাজারে আসায় প্রাকৃতিক হীরা নতুন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক চাহিদার এই দুর্বলতার প্রভাব বতসোয়ানার অর্থনীতিতেও দ্রুত পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনীতি ২ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়। ২০২৫ সালে আরও শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ সংকোচন ঘটে।

অর্থনৈতিক মন্দা দেশটির কর্মসংস্থানের পুরোনো সমস্যাকেও আরও প্রকট করেছে। সর্বশেষ পারিবারিক জরিপ অনুযায়ী, বতসোয়ানায় বেকারত্বের হার ২১ শতাংশ। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বতসোয়ানা খনিজ সম্পদের তথাকথিত ‘রিসোর্স কার্স’ বা সম্পদ-অভিশাপের বড় ধরনের সংকট এড়াতে পেরেছে। কিন্তু হীরার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। স্বাধীনতার ৬০ বছরে দেশটির সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো, হীরাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন করার পর কীভাবে হীরা ছাড়াও সেই সমৃদ্ধি ধরে রাখা যায়।

এ জন্য অর্থনীতিকে হীরার বাইরেও বিস্তৃত করতে হবে।

২০২৫ সালে ডি বিয়ার্সের সঙ্গে বতসোয়ানার নতুন চুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওকাভাঙ্গো ডায়মন্ড কোম্পানি ডেবসোয়ানার উৎপাদিত হীরার ৩০ শতাংশ পাবে। ২০৩০ সালের পর তা বেড়ে ৪০ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। চুক্তিতে অলংকার তৈরি, হীরা গ্রেডিং এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রতিটি হীরা থেকে যতটা সম্ভব বেশি অর্থনৈতিক মূল্য দেশে ধরে রাখার সুযোগ বতসোয়ানার রয়েছে। তবে হীরা কাটা, পালিশ ও বাজারজাত করার সক্ষমতা বাড়ালেই হীরার ওপর নির্ভরতা শেষ হবে না।

প্রয়োজন আরও বহুমুখী ও স্থিতিশীল অর্থনীতি। এর কিছু ভিত্তি ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে বতসোয়ানার ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় ছিল। এক দশক আগে এই হার ছিল ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু এই সংযোগ এখনো ব্যাপক কর্মসংস্থানে পরিণত হয়নি। ২০২৫ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

তাই বতসোয়ানাকে এমন দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে, যারা এই ডিজিটাল অবকাঠামোকে সফটওয়্যার, ফিনটেক, ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় রূপ দিতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু দেশের বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সেবা বিক্রি করতে পারবে।

পর্যটনও বতসোয়ানার অর্থনীতির আরেকটি সম্ভাবনাময় খাত। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৫০ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে, যা মোট কর্মসংস্থানের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সেবা রপ্তানির ৬০ শতাংশের বেশি আসে পর্যটন থেকে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ ভূমি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে রক্ষা করার যে সংরক্ষণ মডেল বতসোয়ানা গড়ে তুলেছে, সেটিও পর্যটনের জন্য বড় সম্পদ।

তবে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে নির্ভরযোগ্য ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রয়োজন। মাউন এলাকায় ৫০০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সঙ্গে থাকবে ৫০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা। সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভবিষ্যতে উৎপাদন শিল্প, ডেটা সেন্টার ও নতুন শিল্প খাত গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো ব্যবসা গড়ে তুলতেও বতসোয়ানাকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। দেশটির বেসরকারি খাতের ৯৫ শতাংশের বেশি বিক্রি এখনো অভ্যন্তরীণ বাজারে হয়। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র ৯ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে রপ্তানি করে। অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়িয়ে আরও বেশি বতসোয়ানানাগরিককে ব্যবসা শুরু, মালিকানা গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ দিতে হবে।

হীরার সম্পদকে রাস্তা, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমিকা রেখেছে, এখন তাদেরই ছয় দশকে অর্জিত দক্ষতা, অবকাঠামো ও পুঁজি কাজে লাগিয়ে নতুন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। সেই অর্থনীতির ভিত্তি হতে পারে প্রযুক্তি, জ্বালানি, উৎপাদনশিল্প ও রপ্তানি।

আফ্রিকার অন্যান্য সম্পদসমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বতসোয়ানার অভিজ্ঞতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার রপ্তানিতে তামা প্রধান ভূমিকা রাখে। দেশটির ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দিনে ৩ ডলারের কম আয় নিয়ে জীবনযাপন করে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রও তামা ও কোবাল্টে সমৃদ্ধ। সেখানে একই আয়সীমার নিচে বাস করে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক নাইজেরিয়ায় দিনে ৩ ডলারের কম আয় করে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ।

বতসোয়ানার অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি দেশের খনিজ সম্পদ থাকা বা না থাকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, সেখান থেকে পাওয়া আয় কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে এবং সেই অর্থ মানুষের আবাসন, অবকাঠামো, সরকারি সেবা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা উন্নত করতে কতটা কাজে লাগানো হচ্ছে।

আফ্রিকার দেশগুলো যখন তামা, কোবাল্ট, লিথিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন এই শিক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। খনিজ সম্পদ থাকলেই দুর্নীতি, সংঘাত বা দারিদ্র্য অনিবার্য হয়ে ওঠে না। শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত, সেই সম্পদ দেশের উৎপাদনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে কি না, মানুষের সুযোগ বাড়াচ্ছে কি না এবং তাদের জীবনযাত্রায় বাস্তব উন্নতি ঘটাচ্ছে কি না।

স্বাধীনতার ৬০ বছরে বতসোয়ানার বৃহত্তর গল্পটি তাই শুধু হীরার গল্প নয়। এটি দেখায়, প্রাকৃতিক সম্পদকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়। একই সঙ্গে এটিও দেখায়, একটি সম্পদের ওপর দীর্ঘদিন নির্ভর করে থাকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সেতসোয়ানা ভাষায় একটি পুরোনো প্রবাদ আছে, “Moenyane o pele lebone la waabo”—যে সামনে এগিয়ে যায়, সে পরবর্তীদের জন্য আলো হয়ে থাকে।

আফ্রিকার সামনে বতসোয়ানার পরবর্তী অধ্যায়টি সেই আলোর পথ কতটা দীর্ঘ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies