আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে তেহরান। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাগচি। এর আগে যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরেন তিনি।
আরাগচি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেবে না। চাপের মুখে দেশটি তার সার্বভৌম অধিকার ছাড়বে না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতায় পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। এর আওতায় লেবাননও থাকবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে বিদেশে আটকে থাকা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ ছাড় করা, ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বন্ধ করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি মঙ্গলবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের অবসানও তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত জুনে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তবে পরবর্তীতে ওই সমঝোতা ভেঙে যায়।
এরপর ইরান হরমুজ প্রণালীতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। তেহরানের দাবি, এসব জাহাজ প্রণালীর জন্য নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়েছিল।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে হয়। যেসব জাহাজ এ নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানায়, সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্ন সময়ে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের
Oplus_131072
React:




