কৃষকের ঘাম, শ্রম ও বিনিয়োগে উৎপাদিত ফসল শুধু তাঁর জীবিকার অবলম্বন নয়, একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের আশ্রয়। সেই ফসল রাতের আঁধারে নষ্ট করে দেওয়া নিছক ক্ষতিসাধন নয়, একজন পরিশ্রমী মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের ওপর নির্মম আঘাত। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কৃষক জয়ান উদ্দিনের তিন শতাধিক ফলন্ত লাউগাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করতে জয়ান উদ্দিনের খরচ হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় প্রায় লাখ টাকার লাউ বিক্রির আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্বৃত্তদের কর্মকাণ্ডে তাঁর সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ শুরু করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কৃষকেরা এমনিতেই উৎপাদন খরচ, বাজারদরের অনিশ্চয়তা ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেন। এর সঙ্গে যদি ফসলের নিরাপত্তাহীনতা যুক্ত হয়, তাহলে কৃষিকাজে তাঁদের আগ্রহ ও বিনিয়োগের সাহস কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। কৃষকের শ্রম ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও জরুরি।
এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সরিষাবাড়ী থানা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উচিত দ্রুত অভিযোগ দায়ের করা। পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে জয়ান উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।
কৃষকের সঙ্গে কারও বিরোধ থাকলেও ফসল ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই। বিরোধের সমাধান হতে হবে আইনসম্মত পথে। এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে অন্য কৃষকেরাও নিরাপত্তাহীনতায় পড়বেন।
কৃষকের ফসল নষ্ট করা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, তাঁর বেঁচে থাকার সংগ্রামকেও বিপর্যস্ত করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

