Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়- ন্যায়বিচারের পথে ভয় নয়, নিরাপত্তা চাই

সম্পাদকীয়- ন্যায়বিচারের পথে ভয় নয়, নিরাপত্তা চাই

গতকাল প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরী এখন সন্তান প্রসবের অপেক্ষায়। এরই মধ্যে মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কারণ এখানে শুধু একটি ধর্ষণের অভিযোগের বিচার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি কিশোরীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষাজীবন এবং একটি অসহায় পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার।

অবশ্যই মামলার অভিযোগের সত্যতা আদালতেই নির্ধারিত হবে। কিন্তু বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী পরিবার যেন কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পরিবারটির পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। এই তদন্ত যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর। কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কারণে একজন অসহায় পরিবার যদি আইনি লড়াই থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে তা আইনের শাসনের জন্যও অশনিসংকেত।

একই সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর চিকিৎসা এখন সবচেয়ে জরুরি। তার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় চিকিৎসা, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রসবকালীন ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কঠিন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত।

কিশোরীটির শিক্ষাজীবনও যেন এখানেই থেমে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একটি অপরাধের শিকার হওয়ার কারণে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেতে পারে না। চিকিৎসার পাশাপাশি তার মানসিক সহায়তা ও নিরাপদ পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে।

আমরা আশা করি, পুলিশ অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে। কেউ হুমকি দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে তাদের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সুযোগও থাকতে হবে। বিচার হতে হবে প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে, প্রভাব বা জনমতের ভিত্তিতে নয়।

আমরা চাই, এই মামলায় কোনো পক্ষের প্রভাব নয়, প্রমাণ ও আইনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হোক। ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপদ থাকুক, কিশোরীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত হোক এবং তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে এগিয়ে যাক।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies