Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
অন্যান্য

স্থানীয় নির্বাচন এ বছর নয়, শুরু হতে পারে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে

স্থানীয় নির্বাচন এ বছর নয়, শুরু হতে পারে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে

চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি থাকলেও শিগগিরই ভোট আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে এ বছর নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রমজানের আগে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ নানা বিষয় জড়িত। বছরের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে স্কুল-কলেজ ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে চলতি বছরের পরিবর্তে আগামী বছরের শুরুতে ভোট আয়োজনকেই বাস্তবসম্মত বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে বার্ষিক পরীক্ষার চাপও থাকবে না।

এতে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি শীতকালীন আবহাওয়াও ভোট আয়োজনের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। যদিও নির্বাচন কবে হবে, কয় ধাপে কোন নির্বাচন আগে হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি সূত্র বলছে, নভেম্বর লক্ষ্য নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ কালের কণ্ঠকে বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেও নির্বাচন হতে পারে। এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের ভোট শুরু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইসির জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিভিন্ন স্তরে এবং বিপুলসংখ্যক এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর প্রস্তুতি নিতে হয় দীর্ঘ সময় ধরে। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের জন্য পৃথক প্রস্তুতি প্রয়োজন।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নভেম্বর ভোটের উপযুক্ত সময় নয়। তবে ভোট শেষ পর্যন্ত জানুয়ারিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জানুয়ারিতে শীতের সময় নির্বাচন হলে ভোটারদের অংশগ্রহণের পরিবেশও ভালো থাকবে। মফস্বলে শীতের সময় মানুষ ভোট উপভোগ করে, চায়ের দোকানে বসে প্রচারণা ও রাজনৈতিক আলোচনা করে।

সাইফুল হকের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ-ছয় ধাপে হতে পারে। এরপর পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। আগামী বছরজুড়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চলতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিএনপি এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে। দলীয় প্রতীক বা দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না; তৃণমূলেই প্রার্থী বাছাই ও চূড়ান্ত করা হবে এবং দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মানতে হবে। কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিজভী আরো বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন বা পারবেন না, সেটি নির্বাচন কমিশন ও আদালতের বিষয়। প্রচলিত আইন ও নতুন প্রণীত আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোও নিজ নিজ প্রার্থীদের মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব দল নিজেদের যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে পারে। এ ক্ষেত্রে যেসব অঞ্চলে শরিক দলগুলোর অবস্থান ভালো সেখানে তাঁরা বিএনপি সমর্থন চাইবে বলে জানান, বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘তবে কোনো জোটগতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।’

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীও শীতের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির আলোচনা করা প্রয়োজন। জনগণ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারে, সে জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা জরুরি। শীতের মধ্যেই নির্বাচন শুরু করা ভালো হবে।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies