Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
অন্যান্য

আসামে ৬৪০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ, গৃহহীন ৪ হাজারের বেশি মানুষ

আসামে ৬৪০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ, গৃহহীন ৪ হাজারের বেশি মানুষ

ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় উচ্ছেদ অভিযানে ৬৪০টির বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। রোববারের এ অভিযানে চার হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

স্ক্রলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জ পার্ট-৯ গ্রামের সরকারি ৬৫০ বিঘা জমিতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ স্ক্রলকে জানান, সরকারি জমি দখল করে বসবাসকারীদের ৮০০ বিঘা জমি থেকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় বাকি ১৫০ বিঘা জমিতে অভিযান চালানো হয়নি।

তিনি বলেন, উচ্ছেদ করা জমি শিল্প বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গত দুই বছর ধরে সেখানে একটি শিল্পপার্ক স্থাপনের জন্য জমি চেয়ে আসছে বিভাগটি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

জেলা কমিশনারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে মানুষ এসব সরকারি জমিতে বসতি গড়ে তুলেছে। কারও বসবাস শুরু হয়েছে পাঁচ বছর আগে, আবার কেউ কেউ প্রায় এক দশক আগে সেখানে এসেছেন। উচ্ছেদ হওয়া অধিকাংশ পরিবারের অন্যত্র জমিজমা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে প্রশাসনের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানের আশঙ্কায় বাসিন্দারা আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

আশি বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আলী চাঁদ ফকির স্ক্রলকে জানান, প্রশাসনের অভিযান শুরুর আগেই তিনি নিজের বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে ফেলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ বুলডোজার দিয়ে তিনটি বাড়ি, গাছপালা, শৌচাগারসহ সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আলী চাঁদ ফকির জানান, ১৯৬২ সাল থেকে তিনি ওই গ্রামে বসবাস করছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ও বন্যায় বাড়িঘর হারিয়ে পাশের গোয়ালপাড়া জেলা থেকে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।

তাঁর দাবি, ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা তৌজি ব্যবস্থার আওতায় জমির খাজনাও দিয়েছেন। সরকারি জমিতে বসবাসকারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে তৌজি রসিদকে অর্থ পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আলী চাঁদ ফকির বলেন, উচ্ছেদ হওয়া অধিকাংশ পরিবারের অন্য কোথাও জমি নেই। তাঁরা এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, সড়কের পাশে ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরে কিংবা নিচু চরাঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন আসাম সরকার রাজ্যজুড়ে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ এ অভিযান তারই অংশ।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দুই দিনের এক অভিযানে নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক হাজার ১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয় বলে জানিয়েছিল স্ক্রল।

স্ক্রলের সংকলিত আসাম সরকারের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির গত এক দশকের শাসনামলে রাজ্যটিতে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies