নদী, খাল ও জলাশয় কেবল পানি নিষ্কাশন কিংবা সেচের মাধ্যম নয়, এগুলো গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই খাল পুনঃখননের পাশাপাশি সেগুলোকে ঘিরে কর্মসংস্থান, সামাজিক বনায়ন, মাছ ও হাঁস পালন এবং দরিদ্র মানুষের স্থায়ী জীবিকার সুযোগ তৈরিতে সরকারের ‘মডেল খাল’ উদ্যোগ সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময়।
দেশের আট বিভাগের ২০টি সরকারি খালকে পরীক্ষামূলকভাবে বহুমুখী ব্যবহারের আওতায় আনা এবং প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র পরিবারকে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সরকারি সহায়তাকে উৎপাদনমুখী জীবিকার সঙ্গে যুক্ত করার এই চিন্তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
তবে উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতার ওপর। খাল নির্বাচন ও উপকারভোগী নির্ধারণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকাতে হবে কঠোরভাবে। প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের হিসাব, সমবায়ের আয়-ব্যয় এবং পুরো কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে মাছ ও হাঁস পালন কিংবা সবজি চাষের নামে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ ও জনসাধারণের ব্যবহার যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।
আমরা মনে করি, সঠিক পরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করে ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে সফল উদ্যোগটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা উচিত।

