ওমর শাবানা ।।
মানুষের কিছু মৌলিক আকাঙ্ক্ষা যুগের পর যুগ একই রয়ে গেছে। অন্যদের চেয়ে নিজেকে আলাদা ও বিশেষ করে তোলা, যৌন আকর্ষণের কেন্দ্র হওয়া, বিলাসী জীবনযাপন, জনপ্রিয়তা অর্জন, ক্ষমতা ধরে রাখা এবং শেষ পর্যন্ত অমরত্ব লাভ করা। প্রায় সব ধর্মীয় গ্রন্থেই চিরজীবনের আকাঙ্ক্ষার কোনো না কোনো প্রতিফলন দেখা যায়। এমনকি বিশ্বের প্রাচীনতম টিকে থাকা সাহিত্যকর্মগুলোর একটি ‘এপিক অব গিলগামেশ’-এও অমরত্বের সন্ধানের কাহিনি রয়েছে। সঙ্গী এনকিডুর মৃত্যু এবং নিজেরও একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে এই অনিবার্য সত্য উপলব্ধি করার পর গিলগামেশ অমরত্বের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছিলেন।
প্রায় চার হাজার বছর পরও মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা বদলায়নি। সম্প্রতি এক অনিচ্ছাকৃতভাবে রেকর্ড হয়ে যাওয়া কথোপকথনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জীবপ্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। আলোচনায় তারা এমন এক ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন, যেখানে মানুষের আয়ু হয়তো অভূতপূর্ব মাত্রায় বাড়ানো সম্ভব হবে।
কথোপকথনে পুতিন অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রযুক্তির অগ্রগতির কথা বলেন। শি জিনপিংও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এমন কিছু পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে, এই শতাব্দীতেই মানুষের আয়ু ১৫০ বছর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এদিকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও পুনর্জন্মমূলক চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় রাশিয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও জীবদেহের জৈবিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা যখন বাস্তবতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন বাস্তবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং মানুষ মহাকাশেও পাড়ি জমাচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, মানুষের আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমরা আসলে কতটা এগিয়েছি? এই গবেষণার পেছনের বিজ্ঞানই বা কী?
দীর্ঘায়ু জীবপ্রযুক্তির উত্থান
প্রচলিত ওষুধ গবেষণায় সাধারণত এমন রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করা হয়, যা শরীরের নির্দিষ্ট জৈবিক লক্ষ্য বা প্রক্রিয়ার ওপর কাজ করে। জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি কিছুটা ভিন্ন পথে এগোয়। এখানে জীবন্ত কোষ, অণুজীব কিংবা জীবদেহের বিভিন্ন জৈবিক ব্যবস্থাকেই ব্যবহার করা হয় চিকিৎসাসহ নানা সমস্যা সমাধানে।
স্বাস্থ্যসেবায় জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এর বড় উদাহরণ ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিট্রুডা, যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধগুলোর একটি।
এই ক্ষেত্রেরই সাম্প্রতিক ও দ্রুত বিকাশমান একটি শাখা হলো ‘লংজেভিটি বায়োটেকনোলজি’ বা দীর্ঘায়ু জীবপ্রযুক্তি। লক্ষ্যটি সহজভাবে বলা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগের পেছনে থাকা মৌলিক জৈবিক প্রক্রিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করা। এর মাধ্যমে মানুষ যেন জীবনের আরও বেশি সময় সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে পারে, অর্থাৎ ‘হেলথস্প্যান’ বাড়ে। একই সঙ্গে সম্ভব হলে মোট আয়ু বা ‘লাইফস্প্যান’ও বাড়ানো যায়।
বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া কিংবা বয়সজনিত রোগের চিকিৎসার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। কথিত আছে, চীনের প্রথম সম্রাট চিন শি হুয়াং অমরত্বের সন্ধানে পারদযুক্ত একটি ‘অমরত্বের ওষুধ’ গ্রহণ করেছিলেন এবং ধারণা করা হয়, পারদের বিষক্রিয়াতেই তার মৃত্যু হয়।
এর অনেক পরে, ১৯২০-এর দশকে আলেকজান্ডার বোগদানভ তরুণদের রক্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে সঞ্চালনের মাধ্যমে বার্ধক্য ধীর করার একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন। তবে এটি কার্যকর ছিল, এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এরপর বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া ঠেকানো বা ধীর করার নানা পদ্ধতি নিয়ে অসংখ্য গবেষণা, বই ও বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দীর্ঘায়ু জীবপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এমনকি ফোর্বসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পর বিলিয়নিয়ারদের পরবর্তী বড় বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই দীর্ঘায়ু জীবপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কোম্পানিগুলো প্রায় ৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে এখন আলাদা বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে। বড় বড় ওষুধ কোম্পানিও দীর্ঘায়ু চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে।
কিন্তু হঠাৎ করে এই ক্ষেত্র নিয়ে এত আগ্রহ তৈরি হলো কেন?
বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝার অগ্রগতি
দীর্ঘায়ু নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনায় একটি প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে: বোহেড তিমি ও নেকেড মোল র্যাটের মধ্যে মিল কোথায়? দুটিই অস্বাভাবিক দীর্ঘজীবী এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত প্রতিরোধী।
দীর্ঘজীবী ও স্বল্পজীবী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য এবং একই প্রজাতির তরুণ ও বয়স্ক সদস্যদের মধ্যে জৈবিক পরিবর্তন তুলনা করা আধুনিক দীর্ঘায়ু গবেষণার অন্যতম ভিত্তি।
কোষ ও অণুর স্তরে বিজ্ঞানীরা এখন বার্ধক্যকে ১২টি পরস্পর সম্পর্কিত জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করছেন। এগুলোকে সম্মিলিতভাবে বলা হয় ‘হলমার্কস অব এজিং’। এর মধ্যে রয়েছে জিনগত অস্থিতিশীলতা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া।
গবেষকেরা এমন অনেক জিন শনাক্ত করেছেন, যেগুলো এসব প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাণীর ওপর গবেষণায় এসব জিন বা জৈবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে বয়স্ক প্রাণীর স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতার বিভিন্ন সূচকে উন্নতি দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে তাদের আয়ুও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিভিন্ন গবেষণাগার ও ভিন্ন ভিন্ন প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় একই ধরনের ফলাফল বারবার পাওয়ায় বিজ্ঞানী ও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘায়ু গবেষণা হয়তো বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্থূলতার ওষুধও বাড়িয়েছে আশাবাদ
বার্ধক্যকে নিয়ন্ত্রণ করা বিশাল এক বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। এত বড় সমস্যার সমাধানে সাধারণত কয়েক দশকের গবেষণা এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের জটিল গবেষণায় বিনিয়োগও সাধারণত ধীরে ধীরে আসে। কারণ বড় কোনো বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধানের জন্য হয় অসাধারণ দক্ষ গবেষক দল প্রয়োজন, নয়তো এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দরকার, যা বহুবার পরীক্ষিত ও প্রমাণিত।
কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন দীর্ঘায়ু প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কোম্পানিগুলোতে বিপুল অর্থ ঢালছেন বিনিয়োগকারীরা।
এর পেছনে সাম্প্রতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লব এবং ওষুধশিল্পে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধের অসাধারণ সাফল্যের প্রভাব রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সম্ভব বলে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে।
বার্ধক্য এমন একটি বিষয়, যা প্রত্যেক মানুষকেই কোনো না কোনোভাবে মোকাবিলা করতে হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপরও এর চাপ বাড়ছে। তাই বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো চিকিৎসা আবিষ্কৃত হলে এর সম্ভাব্য বাজার হবে বিশাল। বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবেই সেই সম্ভাবনার অংশ হতে চাইছেন।
এ ক্ষেত্রে স্থূলতার ওষুধের সাফল্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থূলতা একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা, যার সঙ্গে জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ, জীবনযাত্রা ও আর্থসামাজিক অবস্থাসহ নানা বিষয় জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে স্থূলতার চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহার করা হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা ছিল সীমিত এবং নানা ধরনের বাধাও ছিল। ফলে জনসংখ্যার বড় অংশের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সহজ কোনো সমাধান নেই বলেই ধারণা করা হতো।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত কার্যকর কিছু স্থূলতার ওষুধ সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। এসব ওষুধ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে এবং প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো ফল দিচ্ছে।
ফলে একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে: বিজ্ঞানীরা যদি স্থূলতার মতো এত জটিল একটি সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা তৈরি করতে পারেন, তাহলে বার্ধক্যের ক্ষেত্রেও কি আগামী দিনে একই ধরনের সাফল্য সম্ভব নয়?
বাস্তবতা ও আশাবাদের মাঝখানে
তবে বার্ধক্যকে স্থূলতার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। স্থূলতা একটি রোগ বা শারীরিক অবস্থা, কিন্তু বার্ধক্য জীবন্ত প্রাণীর মৌলিক জৈবিক বাস্তবতার অংশ। শরীরের প্রায় সব ব্যবস্থার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তাই এত বিস্তৃত ও মৌলিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও অনেক বেশি। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে দীর্ঘায়ু প্রযুক্তির কোনো পদ্ধতি মানুষের স্বাস্থ্যকর আয়ু বা মোট আয়ু বাস্তবে কতটা বাড়াতে পারবে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও বহু বছর, এমনকি কয়েক দশকও লেগে যেতে পারে।
এর একটি কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ এখনো বার্ধক্যকে নিজে একটি রোগ হিসেবে বিবেচনা করে না। ফলে দীর্ঘায়ু নিয়ে কাজ করা কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা কিংবা স্বাস্থ্যের পরিমাপযোগ্য কোনো ক্ষেত্রে উন্নতির প্রমাণ দেখাতে হবে।
তাত্ত্বিকভাবেও রয়েছে বড় ধরনের জটিলতা।
দীর্ঘায়ু জীবপ্রযুক্তির একটি শাখা কোষের ডিএনএ মেরামতের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। মানুষের ডিএনএ প্রতিদিনই নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের কোষ সাধারণত সেই ক্ষতি মেরামত করতে সক্ষম। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষমতা কমে যায়।
তাই ডিএনএ মেরামতের ক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘায়ু চিকিৎসার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। কিন্তু বিষয়টি এতটা সরল নয়। শরীরের বিভিন্ন ধরনের কোষে ডিএনএ ব্যবস্থার প্রয়োজন ও ব্যবহার এক নয়।
উদাহরণ হিসেবে বি-সেল বা অ্যান্টিবডি তৈরিকারী কোষের কথা বলা যায়। কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য এসব কোষ ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেদের ডিএনএতে কিছু পরিবর্তন ঘটায়। ফলে ডিএনএ মেরামতের প্রক্রিয়াকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে দিলে এসব কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
কয়েক দশকের চিকিৎসা গবেষণা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে: শরীরের একটি জৈবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনলে তার প্রভাব অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় গিয়ে পড়তে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক যেমন ক্ষতিকর জীবাণুর পাশাপাশি শরীরের মাইক্রোবায়োমেও পরিবর্তন ঘটায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিকাশকে উৎসাহিত করতে পারে। আবার কেমোথেরাপি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার পাশাপাশি দ্রুত বিভাজিত হওয়া শরীরের অনেক সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সম্ভবত একদিন বার্ধক্যকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই দিন খুব কাছাকাছি নয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বার্ধক্যকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে শরীরের অন্যান্য অপরিহার্য জৈবিক প্রক্রিয়াকে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়, সেটি নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। কোটি কোটি বছর ধরে জীবন্ত প্রাণীর শরীরে বার্ধক্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, প্রজনন, বৃদ্ধি ও কোষের রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে একটি জটিল ভারসাম্য গড়ে উঠেছে।
বার্ধক্যকে চিকিৎসার মাধ্যমে পরিবর্তন করতে হলে বিজ্ঞানীদের সেই ভারসাম্য যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রেখেই কাজ করতে হবে। এখানেই দীর্ঘায়ু গবেষণার সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ।
- আলজাজিরা থেকে বাংলায় রুপান্তরিত

