আমরা জুলাইয়ে জেনেছি স্বাধীনতার দাম কি, রক্তের গন্ধ কেমন, বুকের ভেতর ভয়কে মেরে ফেলে রাজপথে দাঁড়ানো কাকে বলে। খুনির বুলেটে ফিনকি দিয়ে আসা রক্তে আমাদের রঞ্জিত হয়েছে মুখমন্ডল…
কোন এক বর্ষায়,
আমাদের বুক রক্তে ভিজিয়ে গেছে,
কদম ফুলের মত নির্মল শহীদেরা।
সেই বর্ষা বিল্পব, আমাদের শিরায় মিশে থাকা নাম।
চোখ বুজলে আমাদের চোখে ভাসে,
ভেজা রাস্তায় পড়ে থাকা রক্তাত্ত জুতা,
ছিন্ন পতাকায় জড়ানো ভাইয়ের লাশ,
ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া বিকেল,
আযানের ধ্বনির সাথে গুলির আওয়াজ,
বন্ধুর রক্তমাখা শার্ট,
আর হাজারো অচেনা মানুষের ভাই হয়ে উঠা।
বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো খুনির সারিসারি বন্ধুকের সামনে…
জুলাই হয়তো বেহাত হয়েছে।
জুলাই হয়তো কেনাবেচার বাজারে উঠেছে,
জুলাইকে কেউ হয়তো ক্ষমতার সিঁড়ি বানাতে চেয়েছে।
জুলাইয়ের স্বপ্ন হয়তো কেউ নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করেছে।
কেউ হয়তো পথ হারিয়েছে, কেউ হয়তো পথ বদলেছে, কেউ হয়তো বিশ্বাসও বদলে ফেলেছে।
কিন্তু তাই বলে বর্ষা বিল্পবে কালি লাগে না।
শহীদের রক্তের দাম কমে যায় না।
লাল রক্ত তার রংও হারিয়ে ফেলে না।
না।
কটি সত্যিকারের বিপ্লব কখনও কেবল তার ফলাফলে বেঁচে থাকে না; সে বেঁচে থাকে তার আত্মত্যাগে, তার অসমাপ্ত স্বপ্নে, তার শহীদদের নিঃশব্দ উপস্থিতিতে।
যে বর্ষাবিপ্লব রক্তে ভিজে জন্ম নিয়েছিল, সেটিই আমাদের আজন্ম লালিত বিপ্লব।
সেটিই আমাদের সবচেয়ে সুন্দর বিশ্বাস।
সেটিই আমাদের সবচেয়ে গভীর ক্ষত।
আমরা বিপ্লবে বাঁচি।
বিপ্লবে জাগি।
বিপ্লবে ভালোবাসতে শিখি।
বিপ্লবে কাঁদি।
বিপ্লবের স্মৃতিতে আবার উঠে দাঁড়াই।
আমাদের কাছে বিপ্লব কোনো স্লোগান নয়।
কোনো রাজনৈতিক ব্র্যান্ড নয়।
কোনো দলের সম্পত্তি নয়।
আমাদের প্রজন্মের স্বাধীনতা জুলাই।
আমাদের প্রজন্মের বিপ্লব জুলাই।
আমাদের প্রজন্মের প্রথম মুক্তির স্বাদ জুলাই।
এটি সেই মুহূর্ত, যখন মানুষ মৃত্যুকে জেনেও সামনে এগিয়ে যায়।
যখন একজনের রক্ত লক্ষ মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে।
আমাদের মহাকাব্য এক রক্তবিপ্লব।
সেই বিপ্লবই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
আবার সেই বিপ্লবই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্নভঙ্গ।
জুলাই বেঁচে থাকবে।
হয়তো ক্ষত হয়ে।
হয়তো অশ্রু হয়ে।
হয়তো অসমাপ্ত গান হয়ে।
কিন্তু বেঁচে থাকবে।
স্বমহিমায়…



