Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
মতামত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় বাধা এখন বিদ্যুৎ, ব্যয়ভার বহন করবে কে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় বাধা এখন বিদ্যুৎ, ব্যয়ভার বহন করবে কে?

আলহাসান আলসামাররাই

বিশ্বের শীর্ষ তিন ক্লাউড কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে। অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত কনস্টেলেশনের ক্যালভার্ট ক্লিফস বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ১৯০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে যুক্ত হওয়ার কথা।

অন্যদিকে গুগল যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত ৮৯০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি চুক্তি করেছে। এদিকে ইলিনয়, পেনসিলভানিয়া ও নিউ জার্সির ১১টি পারমাণবিক চুল্লির উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে ৪৩০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে কনস্টেলেশন।

তবে এসব চুক্তির কোনোটির আওতায় নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে না। বরং আগে থেকেই চালু থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়াতে অর্থ দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব কেন্দ্রের কোনো কোনোটি অ্যামাজন ও গুগলের চেয়েও পুরোনো।

কয়েক বছর আগেও এ ধরনের চুক্তি কল্পনা করা কঠিন ছিল। ১৯৭৯ সালে থ্রি মাইল আইল্যান্ড, ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল এবং ২০১১ সালে ফুকুশিমার পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বিদ্যুতের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। জার্মানি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর জাপানও তাদের পারমাণবিক চুল্লিগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল, যদিও পরবর্তী সময়ে কয়েকটি আবার চালু করা হয়েছে। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের পক্ষে অবস্থান নেওয়াও রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে থ্রি মাইল আইল্যান্ডের যে চুল্লিটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সেটিও আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাইক্রোসফট আগামী ২০ বছরের জন্য ওই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়া তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর জন্য সর্বোচ্চ ৪৪০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ দশমিক ২৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

২০২২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিশিগানের পালিসেডস বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে আবার উৎপাদনে যাওয়ার কথা। পরিকল্পনা সফল হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেটি বন্ধ হওয়ার পর সম্পূর্ণ অবসায়ন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেও আবার উৎপাদনে ফিরবে।

কেন বদলে গেল কৌশল

গত এক দশকে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রযুক্তি খাতের প্রধান কৌশল ছিল দক্ষতা বাড়ানো। উন্নত চিপ, ছোট আকারের এআই মডেল এবং উন্নত শীতলীকরণব্যবস্থার মাধ্যমে কম বিদ্যুতে বেশি কম্পিউটিং করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রযুক্তি সম্মেলনগুলোতে প্রতি ওয়াট বিদ্যুতে কতটা গণনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতো। আধুনিক এআই চিপগুলো আগের তুলনায় একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে অনেক বেশি কাজ করতে সক্ষম হয়েছে।

কিন্তু দক্ষতা বাড়লেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা কমেনি। বরং দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ আরও বড় পরিসরের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মোট চাহিদা কমার বদলে বেড়েছে।

এর একটি উদাহরণ ডিপসিক। প্রতিষ্ঠানটি দেখিয়েছিল, প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম কম্পিউটিং ব্যয়ে প্রতিযোগিতামূলক এআই মডেল তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু এতে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ কমেনি। বরং এআই গবেষণাগারগুলো আরও বেশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম মডেল, সার্বক্ষণিক কাজ করা এআই এজেন্ট এবং ভিডিও তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

ইতিহাসেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ১৮৬৫ সালে অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম জেভন্স পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, বাষ্পীয় ইঞ্জিনের দক্ষতা বাড়ার ফলে ব্রিটেনে কয়লার ব্যবহার কমেনি, বরং বেড়েছিল। কারণ, শক্তির ব্যবহার সাশ্রয়ী হওয়ায় নতুন নতুন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। অর্থনীতিতে এটি ‘জেভন্স প্যারাডক্স’ নামে পরিচিত।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।

ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলও বদলে গেছে। চাহিদা কমিয়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় তারা এখন বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

অপেক্ষার হিসাব

তবে অর্থ থাকলেই সব সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।

একটি বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে এক দশক বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ডেটা সেন্টারের জন্য ছোট আকারের মডুলার পারমাণবিক চুল্লিতে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু এসব প্রকল্পের বেশির ভাগ থেকেই ২০৩০ সালের দশকের শুরুর আগে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন পর্যন্ত বিশ্বে এ ধরনের চুল্লির খুব কমই নির্মিত হয়েছে।

তাই পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করা কিংবা সেগুলোর উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো তুলনামূলক দ্রুত সমাধান হলেও সেটিও ২০২৭, ২০২৮, ২০২৯ কিংবা তারও পরের বিষয়।

অন্যদিকে এআই খাতের বিনিয়োগ চলে সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়সূচিতে। চলতি বছর যে চিপগুলো ডেটা সেন্টারে স্থাপন করা হচ্ছে, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে ২০ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই সেগুলো অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে।

এখানেই বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও এআই প্রযুক্তির চাহিদা ও ব্যবহার একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ভবিষ্যতে এআইয়ের চাহিদা কমে গেলে কিংবা নতুন প্রযুক্তির কারণে বর্তমান অবকাঠামো অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দায় কে বহন করবে, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো নেই।

শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল দেবে কে?

এখানেই বিষয়টি আর শুধু প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা পিজেএমের আওতায় এসব চুক্তির বড় একটি অংশ রয়েছে।

ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত উৎপাদনক্ষমতা নিশ্চিত করতে পিজেএম নিয়মিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার নিলাম আয়োজন করে। এই ব্যবস্থার ব্যয় শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে আদায় করা হয়।

পরপর তিনটি নিলামে বিদ্যুৎ সক্ষমতার দাম নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। পিজেএমের স্বাধীন বাজার পর্যবেক্ষকের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ চারটি নিলামে ডেটা সেন্টারের চাহিদার কারণে প্রায় ২৯৪০ কোটি ডলারের সক্ষমতা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। শুধু সর্বশেষ নিলামেই এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার। এর মধ্যে এমন কিছু ডেটা সেন্টারের সম্ভাব্য চাহিদাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো এখনো নির্মিতই হয়নি।

অর্থাৎ যেসব ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতে হয়তো কখনো চালুই হবে না, সেগুলোর সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদার চাপও এখন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল বাড়াচ্ছে।

ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের (এনআরডিসি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে পিজেএমের আওতাধীন এলাকায় একটি সাধারণ পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয় আরও ৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ডেটা সেন্টার নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বাড়তে দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ বিদ্যুতের বাড়তি বিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ভার্জিনিয়া ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য আলাদা বিদ্যুৎ মূল্যশ্রেণি চালু করেছে। ওহাইওতে চালু হয়েছে ন্যূনতম বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা। ইলিনয়েও এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের আলোচনা চলছে।

গুগলের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তির লক্ষ্যও এই আপত্তি মোকাবিলা করা। এর মূল ধারণা হলো, বিদ্যুতের বড় নতুন গ্রাহকদের নিজেদের চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা যুক্ত করতে হবে। বিদ্যমান সীমিত সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা যাবে না। ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ কমাতে এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে এ ধরনের ব্যবস্থা এখনো স্বেচ্ছামূলক। ২০২৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা পিজেএমের এমন একটি প্রস্তাবের অধিকাংশই প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বড় নতুন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিজেদের উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা ছিল।

ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন একটি দায়িত্ব স্বেচ্ছায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা পিজেএমের প্রস্তাবিত বিধির মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করতে রাজি হয়নি। কিন্তু অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে থাকলে এই স্বেচ্ছামূলক প্রতিশ্রুতি কত দিন টিকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কী শিক্ষা

নিজেদের এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। বিপুল জ্বালানি সম্পদ থাকা দেশগুলোর সামনে এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

কাতারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এআই অবকাঠামো নির্মাণে ব্রুকফিল্ডের সঙ্গে ২০০০ কোটি ডলারের যৌথ বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে। এর প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ গিগাওয়াটে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবুধাবি সর্বোচ্চ ৫ গিগাওয়াট সক্ষমতার এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। সৌদি আরবের লক্ষ্য তাদের প্রতিষ্ঠান হিউমেইনের (HUMAIN) মাধ্যমে প্রায় ২ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জন।

এই অঞ্চলের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা যথেষ্ট শক্তিশালী। এআই কম্পিউটিংয়ের চাহিদা যত বাড়ছে, অবকাঠামো কোথায় নির্মিত হবে, তা নির্ধারণে বিদ্যুতের সহজলভ্যতা তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলো এগিয়ে থাকার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর ব্যাপকতা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কাতারে পরিকল্পিত ১ দশমিক ৫ গিগাওয়াট সক্ষমতার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা দেশটির মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশের সমান বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি করবে।

এআই অবকাঠামোর জন্য বরাদ্দ করা বিদ্যুৎ একই সময়ে অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে এসব প্রকল্পের সুযোগের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থনৈতিক ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামোর বিদ্যুৎ চাহিদার ব্যয় শেষ পর্যন্ত কে বহন করবে, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বড় বড় বিনিয়োগ ও চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে এখনই এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এআই অবকাঠামোর জন্য বিদ্যুতের মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্থ কে জোগাবে, প্রযুক্তিগতভাবে পুরোনো হয়ে যাওয়া হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কী হবে এবং জ্বালানি বিক্রি ও সীমিতসংখ্যক কর্মসংস্থানের বাইরেও এসব প্রকল্প থেকে দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে কী অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, তা আগেই নির্ধারণ করা জরুরি।

এআই অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত কৌশলগত সুযোগটি শুধু এই অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং কোন শর্তে এবং কীভাবে তা পরিচালিত হবে, সেটি নির্ধারণের মধ্যেই নিহিত।

বড় পরিসরের বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা সীমিত করে ফেলার আগেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে নিজেদের শর্ত নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।- আলজাজিরা

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies