Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
মতামত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন চাপের কৌশল গড়ে তুলছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন চাপের কৌশল গড়ে তুলছে যুক্তরাষ্ট্র

তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি, একই সঙ্গে ইরানবিরোধী ক্রমবর্ধমান বক্তব্য এবং ইরানে হামলার নির্দেশ – এসব কি কেবল ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে একটি কূটনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বোঝার জন্য এই প্রশ্নের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কারণ, এসব ঘটনাকে কেবল উপরিভাগ থেকে বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত চিত্র ধরা পড়ে না।

গভীরে গেলে দেখা যায়, ট্রাম্পের এই উপস্থিতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষ ’ (Axis of Resistance) ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে একটি নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন হলো, সরাসরি সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানের আচরণ, ক্ষমতার কাঠামো কিংবা কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি চাপের নীতি থেকে সরে এসে একটি বহুস্তরীয় ও সমন্বিত কৌশলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই কৌশলে অভ্যন্তরীণ চাপ, ইরানের চারপাশের ভূরাজনৈতিক পরিবেশের পুনর্বিন্যাস, পশ্চিমা জোটকে আরও বিস্তৃত করা এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুকে নতুনভাবে সাজিয়ে একটি সমন্বিত কৌশলগত কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

এই কৌশলের মূল দর্শন হলো – একটি বড় আঘাতে নয়, বরং বিভিন্ন স্তরে একই সঙ্গে ক্ষয়িষ্ণু চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে দুর্বল করা। লক্ষ্য শুধু বাইরের চাপ বাড়ানো নয়; বরং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দেশের ভেতরের সংকট, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। অর্থাৎ, নতুন মার্কিন কৌশলের ভিত্তি হলো দেশের ভেতরে, সীমান্তে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ঘিরে একই সময়ে চাপ সৃষ্টি করা।

দেশের অভ্যন্তরে এই কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য সামাজিক চাপ বৃদ্ধি এবং ধীরে ধীরে জনগণের সহনশীলতা দুর্বল করে দেওয়া। উদ্দেশ্য শুধু বিচ্ছিন্ন অসন্তোষ বা সাময়িক সংকট সৃষ্টি নয়; বরং বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহনসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যয় ও জটিলতা বাড়িয়ে তোলা। এই অভ্যন্তরীণ চাপ যদি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে ইরানের নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার একটি অংশ বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দিতেই ব্যস্ত হয়ে পড়বে।

তবে এই পরিকল্পনা সফল হতে পারে না, যদি ইরানের চারপাশের ভূরাজনৈতিক পরিবেশকে নতুনভাবে সাজানো না হয়। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন একটি আঞ্চলিক বাস্তবতা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ইরানকে একই সঙ্গে একাধিক সীমান্ত ও আঞ্চলিক ফ্রন্টে ব্যস্ত থাকতে হবে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ব্যাপক সামরিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা অভিযান চালিয়েও হিজবুল্লাহকে আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণ থেকে সরানো যায়নি; ফিলিস্তিনি প্রতিরোধও দমন করা সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুথি) তাদের আঞ্চলিক অবস্থান ছাড়েনি এবং ইরাকে প্রতিরোধপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেও রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়নি। এসব অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ইরানকে দুর্বল করতে হলে তার চারপাশের পুরো ভূরাজনৈতিক পরিবেশকে একই সঙ্গে পুনর্গঠন করতে হবে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনটি সমান্তরাল ধাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। প্রথমত, ইরানের পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তাহীনতার ক্ষেত্র তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ আরও বাড়ানো। তৃতীয়ত, সীমিত হলেও এমন কিছু সাফল্য অর্জন করা, যা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে আনার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা যায়। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় সীমিত হামলা, বিশেষ অভিযান কিংবা লক্ষ্যভিত্তিক চাপকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এগুলো বৃহত্তর কৌশলগত নকশারই অংশ।

এই প্রেক্ষাপটে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের গুরুত্ব একটি সাধারণ বৈঠকের চেয়ে অনেক বেশি। এটি শুধু ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করার মঞ্চ নয়; বরং ইরান ইস্যুকে পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্ল্যাটফর্ম। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানকে আর কেবল একটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধ হিসেবে নয়, বরং সমগ্র পশ্চিমা জোটের যৌথ নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যাটো শুধু একটি সামরিক জোট নয়; এটি পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও কৌশলগত অবস্থানকে একত্রিত করারও একটি মাধ্যম।

এই সম্মেলনে ট্রাম্পের উপস্থিতি চারটি পরস্পর-সম্পর্কিত লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখে।

প্রথমত, ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটকে আরও শক্তিশালী করা। ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথের নিরাপত্তার মতো ইস্যুকে সামনে এনে ইউরোপকে ইরানবিরোধী মার্কিন নীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতার কারণে ইউরোপের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে – এই যুক্তিও ওয়াশিংটন কাজে লাগাতে চায়। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশের অবস্থান স্পষ্ট করে যে, এ বিষয়ে এখনো পূর্ণ ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।

দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক বৈধতা তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্র জানে, এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে রাজনৈতিক ও আইনি ব্যয় অনেক বেশি। তাই আগেভাগেই একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সমর্থন তৈরি করে পরবর্তী পদক্ষেপকে যৌথ উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে।

তৃতীয়ত, তুরস্ককে এই বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিকল্পনার আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। আঙ্কারাকে দেওয়া সম্ভাব্য ছাড়গুলোও এই কৌশলের অংশ। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তসংলগ্ন জাতিগত ও নিরাপত্তাগত বাস্তবতাকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক আলোচনা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে চাপ সৃষ্টির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

চতুর্থত, সিরিয়ার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর চাপ আরও বাড়ানো। সিরিয়ার পরিবর্তনকে শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি লেবাননের ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সিরিয়া, লেবানন ও তুরস্ক-সংক্রান্ত নীতিগুলোকে একই কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করা হয়, তাহলে এই চারটি লক্ষ্য একটি অভিন্ন কৌশলের পরস্পর-সংযুক্ত অংশ হিসেবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার উদ্দেশ্য ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষের ওপর রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলা।

একই সঙ্গে আরও কয়েকটি আঞ্চলিক ইস্যুকেও এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েল এখন শুধু হামাসের রাজনৈতিক শাসনের অবসান চায় না। তথাকথিত নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে পুনর্গঠনের বিরোধিতা করে তারা গাজার জনসংখ্যাগত ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকেই পরিবর্তন করতে চাইছে। এর লক্ষ্য গাজাকে দীর্ঘমেয়াদে একটি সীমাবদ্ধ, অবরুদ্ধ ও ক্লান্ত ভূখণ্ডে পরিণত করা, যাতে পরবর্তীতে পশ্চিম তীরে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া যায়। পশ্চিম তীরে লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা, প্রতিরোধকে সীমিত করা এবং অঞ্চলটিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে উঠতে না দেওয়া। ফলে গাজা ও পশ্চিম তীর দুটি আলাদা ইস্যু নয়; বরং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে নিয়ন্ত্রণের একই কৌশলের দুটি অংশ।

ইয়েমেনেও আনসারুল্লাহকে ঘিরে নতুন একটি পর্যায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে মোসাদের ভেতরে একটি বিশেষ “ইয়েমেন ডেস্ক” গঠন করা হয়েছে, যা ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও সামরিক পরিকল্পনায় এই ফ্রন্টের বাড়তি গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। এখন সেই পরিকল্পনার কিছু অংশ বাস্তবায়নের সময় এসে থাকতে পারে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তা হলে ইয়েমেনও প্রতিরোধ অক্ষের বিরুদ্ধে সমন্বিত চাপ সৃষ্টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে।

ইরাকেও প্রতিরোধপন্থী শক্তিগুলোকে সীমিত বা দুর্বল করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়ে গেছে। অন্য আঞ্চলিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। ফলে এগুলো বিচ্ছিন্ন সংকট নয়; বরং পশ্চিম এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বহুস্তরীয় কৌশলের পরস্পর-সংযুক্ত অংশ।

সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি মাত্র উপায়ের ওপর নির্ভর করছে না। দেশের ভেতরের চাপ, সীমান্তে অস্থিরতা, আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত চাপের কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য পশ্চিম এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুকূলে পুনর্নির্ধারণ করা এবং ইরানকে একাধিক সংকট একসঙ্গে মোকাবিলা করতে বাধ্য করা।

তবে এই কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলো দেখিয়েছে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, রাজনৈতিক সমর্থন এবং জটিল নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বহু পরিকল্পনা স্থানীয় বাস্তবতা, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরোধশক্তির দৃঢ় অবস্থানের মুখে ক্ষয়, স্থবিরতা ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

ইরান ও ইরাকে শহীদ কমান্ডারদের জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণও আবার প্রমাণ করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় টেকসই রাজনৈতিক ব্যবস্থা বাইরের কোনো শক্তির পরিকল্পনায় গড়ে ওঠে না। এটি গড়ে ওঠে জনগণের ইচ্ছাশক্তি, প্রতিরোধের ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং আধিপত্যবিরোধী সামাজিক বন্ধনের ভিত্তিতে।

সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষের বিরুদ্ধে যতই জটিল ও বহুস্তরীয় চাপের কৌশল গ্রহণ করুক না কেন, এই প্রকল্পও শেষ পর্যন্ত আগের নীতিগুলোর মতোই নিজস্ব সীমাবদ্ধতা, অবসাদ এবং পরিণতিতে ব্যর্থতার মুখোমুখি হবে। পশ্চিম এশিয়ার উদীয়মান নতুন ব্যবস্থা কোনো বহিরাগত শক্তির প্রকৌশলগত পরিকল্পনার ফল নয়; বরং এটি জনগণের ইচ্ছা, প্রতিরোধের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গভীর সামাজিক বাস্তবতার স্বাভাবিক পরিণতি।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies