স্টাফ রিপোর্টার
‘আমার সন্তান কোথায়?’—এই প্রশ্ন তুলে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান, নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাদাত রহমানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪০ জন নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
স্বজনরা জানান, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর বছরের পর বছর ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে আসছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান মিলছে না। ফলে একদিকে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক নিখোঁজের ঘটনাই দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত, তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
১৫ হাজার ৭১৭ জিডি, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫০০টিতে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি দায়ের হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ৮৭ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
বক্তারা বলেন, এসব পরিসংখ্যান মূলত সাম্প্রতিক কয়েক বছরের চিত্র। দেশে দীর্ঘদিন ধরে শিশু নিখোঁজ, অপহরণ ও পাচারের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার অনেকগুলো এখনো অমীমাংসিত। তাই নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
চালু হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনার পর নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হয়।
বক্তারা জানান, বর্তমানে ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইনটি দেশব্যাপী নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
২০৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ, উদ্ধারে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ চান স্বজনরা
Oplus_131072
React:




