স্টাফ রিপোর্টার:
পিতা-মাতার অবহেলা ও নির্যাতন রোধে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এ সময় তিনি পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে সন্তানদের বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
রোববার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বাবা-মায়ের সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নিয়ে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনা আমাদের আত্মাকে ভেঙে দেয়। সন্তানরা বড় বড় দালানকোঠার মালিক হলেও অনেক সময় বাবা-মায়ের জায়গা হয় সেই ভবনের একটি কোণে কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে। এমন বাস্তবতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাঈলের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার ইবাদত করো এবং তোমার পিতা-মাতার খেদমত করো। যদি তাদের একজন কিংবা উভয়ই তোমার বেঁচে থাকা অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে “উফ” শব্দটিও বলো না।’
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কার্যকর করতে সংসদে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা।
তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—সন্তান ভরণপোষণে অবহেলা বা নির্যাতন করলে দানপত্র একতরফাভাবে বাতিলের সুযোগ দেওয়া। ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন বিধান যুক্ত করার দাবি জানান তিনি, যাতে সন্তান অবহেলা বা নির্যাতন করলে দাতা নিজেই পারিবারিক আদালতে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের আবেদন করতে পারেন।
এ ছাড়া বাবা-মায়ের সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া কিংবা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধান করার প্রস্তাব দেন তিনি। দাতার জীবদ্দশায় তার লিখিত সম্মতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রাখা, ঋণ নেওয়া বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করারও দাবি জানান।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, জেলা জজ আদালতে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা ও আর্থিক প্রয়োজনের বিষয়ে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত বিচার পদ্ধতি (সামারি ট্রায়াল) চালু করা প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনমন্ত্রী তার উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
পিতা-মাতার অবহেলা রোধে সংসদে কোরআনের আয়াত তুলে ধরলেন রুমিন ফারহানা
Oplus_131072
React:




