স্টাফ রিপোর্টার:
বেহেশতে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। সেই বেহেশতের ঠিকানা কোথায়, তা খুঁজতেই বিরোধীদল লংমার্চ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জিয়া মঞ্চের রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির ওপর আস্থা রাখা জনগণের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছেন, তাদের অনুরোধ করব—ভুল করে অবিশ্বাস করবেন না। একটু সময় দিন। অর্থনৈতিক গতিশীলতাসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সফল হবেন।
লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেহেশতে যাওয়ার জন্য যে টিকিট বিক্রি করেছিল, সেই বেহেশতের ঠিকানা কোথায়, সেটি খোঁজার জন্য বিরোধীদল লংমার্চ করবে।’
দেশে নতুন করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘ষড়যন্ত্র অদৃশ্যে দানা বাঁধছে। ষড়যন্ত্র যখন দৃশ্যমান হবে, তখন বুঝবেন ওরা কত। তার আগে বোঝা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে আসা ‘গুপ্তরা’ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ দখল করেছে। তাদের কেউ কেউ ছাত্রলীগের পদ গ্রহণ করেছিলেন। অথচ তাদের কথাবার্তায় মনে হয়, বর্তমান সরকার তাদের দয়ার দান।
প্রশাসনের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘উত্তরাধিকারসূত্রে প্রশাসনের মধ্যে আওয়ামী ভূত পেয়েছি। এই প্রশাসন পেশাদার হতে পারেনি। পেশাদারিত্ব না থাকায় তাদের দিয়ে ভালো কাজ করানো কঠিন। তাদের অনেকেই আপা (শেখ হাসিনা) ফিরে আসবেন—সেই অপেক্ষায় রয়েছেন।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাহস থাকলে হাসিনা ফিরে আসুক। আমরাও চাই ফিরে আসুক। জনগণ কী করতে চায়, আসলে তখন টের পাবেন। তার আগে টের পাবেন না।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘লাখ কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেননি হাসিনা। এখনও এটি চালু করার মতো আপ টু ডেট হয়নি।’
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনেও পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। তবে কয়েকদিন আগে দুটি নাম সামনে এসেছে। এর মধ্যে একজন একসময়ের প্রতাপশালী মেজর জেনারেল জিয়াউল হাসান এবং অন্যজন রোকেয়া প্রাচী। তদন্ত এগোলে হত্যাকাণ্ডের রহস্যের বিস্তারিত জানা যাবে।
গয়েশ্বর অভিযোগ করেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন অপকর্মের ডকুমেন্টারি উদ্ধার করে সরকারকে বিব্রত না করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি শেখ হাসিনার প্রতি অনুগত সাংবাদিকরা নিহত রুনির বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছিলেন। এ কাজে জড়িত একজন সাংবাদিক পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাও হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেহেশতের ঠিকানা খুঁজতে বিরোধীদল লংমার্চ করবে: গয়েশ্বর
Oplus_131072
React:




