বিরোধীদল হিসেবে সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জামায়াত একটি গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চায়। জনস্বার্থ ও দেশের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সমালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি জানান, বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ খাতের সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধীদল হিসেবে সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা জামায়াতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। আমরা একটি গঠনমূলক বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে চাই। সরকারের জনস্বার্থ ও দেশের কল্যাণমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করব। আর জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরব, সমালোচনা করব এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
বিটিএমএ নেতারা বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন বলে জানান গোলাম পরওয়ার। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখা, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
এ ছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
বিটিএমএর ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশের টেক্সটাইল খাতে বর্তমানে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে এ খাতের গুরুত্ব অনেক।
বৈঠকে শিল্প খাতে প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, কর বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েকটি কারখানা এখনো সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া এনার্জি বন্ড ও সুতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শিল্প ও উৎপাদন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। টেক্সটাইল খাতের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার, বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
এদিকে আগামী ১৮ নভেম্বর বস্ত্র ও পোশাক খাতের আয়োজনে বাটেক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার প্রধান অতিথি হওয়ার প্রচলিত রীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, বাটেক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। এবার এতে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
তবে ডা. শফিকুর রহমান নিজে প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য কোনো দাবি বা অনুরোধ করেননি বলে জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাতকে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ করা উচিত নয়। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সব পক্ষের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।




