চলতি অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও তাপমাত্রা দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। ফলে এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দুটোই কম হতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে শীতের তীব্রতা কম হলেও দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকা ও অন্যান্য এলাকায় ঘন কুয়াশার প্রবণতা বাড়তে পারে।
আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। ফলে এবারের শীতকাল তুলনামূলকভাবে কম স্থায়ী হতে পারে। তবে শীত কম হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে ৩ থেকে ৫টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪ থেকে ৬ দিন বজ্রঝড় হতে পারে।
অক্টোবরের প্রথমার্ধে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমও অব্যাহত থাকতে পারে। ১ থেকে ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। ১১ থেকে ২০ অক্টোবর আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর মাসের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো বর্তমানে সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থায় রয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে বছরের শেষ দিকে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ১ থেকে ২টি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
তবে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে এবারের শীত তুলনামূলক উষ্ণ ও স্বল্পস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।




