নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলীর একাংশে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় হামলা, গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন পরিবহন, লেগুনা স্ট্যান্ড, ফুটপাত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় দুই লাখ টাকা চাঁদাবাজির বিরোধকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক সাগর খান ওরফে ইমরানকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন তার স্ত্রী যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা করেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে ২৩ জুলাই ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন বানচালের চেষ্টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াত ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি মিছিল-বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।
২৮ আগস্ট ভোরে সারুলিয়ায় ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়িতে গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। রেজা চৌধুরীর দাবি, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ডেমরা থানায় মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের বিভিন্ন পরিবহন থেকে এককালীন ও দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কয়েকটি পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে। একইভাবে লেগুনা স্ট্যান্ড, ফুটপাত, পার্কিং এবং বিভিন্ন মার্কেট থেকেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী লেগুনা স্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী-জুরাইন ও যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোডের লেগুনা স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি ওয়ার্ডে মাদক কারবারি ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি অংশের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আদালতের রায়ে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগের পর স্থানীয় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাত্রাবাড়ীতে রাজনৈতিক কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারের বিষয় নেই। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো সত্য নয়। তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং রয়েছেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে কেউ মাসোহারা নিচ্ছে—এমন তথ্য পুলিশের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। গাড়ি পার্কিং নিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগ দেখছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, দখল ও সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
যাত্রাবাড়ীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ, বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ
Oplus_131072
React:




