আব্দুর রহিম খান ।।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকায় জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। প্রায় ১৯ মাসের কার্যক্রম শেষে কূপটিতে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের সন্ধান মিলেছে। এখন কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, উপজেলার আরও দুটি এলাকায় গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুদের সম্ভাবনা শনাক্ত করে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স।
নতুন কূপ দুটি হলো জামালপুর-২, যা মাদারগঞ্জের গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকায় এবং জামালপুর নর্থ-১, যা চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকায় অবস্থিত। কূপ দুটি খননের জন্য প্রাথমিক সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, তারতাপাড়া এলাকায় ১৯৮০ সালে সিসমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের সম্ভাব্য উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জরিপ ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন শেষে কূপটিতে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়।
কূপটির ফিল্ড ইনচার্জ বায়োজিদ হোসেন জানান, খনন করা কূপে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতার মধ্যে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত হয়েছে। এ কূপ থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে।
বাপেক্সের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, জামালপুর-১ কূপ থেকে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মাদারগঞ্জের আরও দুটি এলাকায় গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুদের সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ায় সেখানে কূপ খননের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি জানান, জামালপুর-২ ও জামালপুর নর্থ-১ কূপের প্রতিটির খনন গভীরতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার। কূপ দুটির খননকাজ শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাপেক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে তা প্রায় ২২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় সরবরাহ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।




