নিজস্ব প্রতিবেদক:-
জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর একই কর্মস্থলে থাকায় তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন করেছেন আলী আহমেদ। নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে , আলী আহমেদ ২০১৬ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর শিক্ষা অফিস থেকে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক পদে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের এক শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বিভিন্ন অনিয়মের পাশাপাশি অফিসকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শিক্ষকদের হয়রানি ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আলী আহমেদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে জামালপুরে প্রায় ৮ শতাংশ জমি কিনে সেখানে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও বাড়ি নির্মাণে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আলী আহমেদের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার হরিণধরা এলাকায় বলে জানা গেছে।
কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি তার কথিত সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়েও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকার কারণে তিনি অফিসে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদের তার ওপর নির্ভর করতে হয়। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা বের করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে আলী আহমেদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তিনি জমি ক্রয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, আমি বাড়িতে জায়গা জমি বিক্রি করে এনে জামালপুর শহরে জমি কিনেছি। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়ে তিনি কোন সদ উত্তর দিতে পারেননি।
জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান নিজেকে এড়িয়ে নিয়ে দায়সারাভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আপনারা দেখেন উনার বিরুদ্ধে কি আছে। আমি কি বক্তব্য দিবো বলেন। আমার কাছে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দেয় নাই। ১১ বছর ধরে তিনি এই অফিসে আছে এইটা সত্য। আর কেউ কারো কথা বলে টাকা নিলে তার দায় তার। আমি টাকার বিষয় নিয়ে তাকে কিছু বলিনি। আপনারা আগে দেখেন।




