Skip to content
৫ নভেম্বর ২০২৬ (২০ কার্তিক ১৪৩৩)
সর্বশেষ
এমপি মামুনের উদ্যোগে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড নাব্যতা রক্ষায় সারাদেশে ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের গাজীপুরে সংঘর্ষে প্রাণ গেল পোশাকশ্রমিক তৌফিকের, দুধ আনতে গিয়ে আর ফেরা হলো না জামালপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ভেকু জব্দ বাবাকে হারানোর শোক পেরিয়ে শোভার জিপিএ-৫, স্বপ্ন আইন নিয়ে পড়ার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি, বাজারে শৃঙ্খলা জরুরী প্রথম কলাম ।। ৫ নভেম্বর হেমন্তের কুয়াশায় শীতের আগমনী সুর
বকশীগঞ্জ

বকশীগঞ্জে ‘জাদু-টোনা’র আতঙ্ক, রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী

বকশীগঞ্জে ‘জাদু-টোনা’র আতঙ্ক, রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি।।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে কথিত ‘জাদু-টোনা’কে কেন্দ্র করে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে অজানা আতঙ্ক। রাতের আঁধারে বাড়ির আঙিনা, দরজার সামনে কিংবা গাছের নিচে লেবু, সিঁদুর, লাল সুতা ও বিভিন্ন অদ্ভুত সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকেই। আতঙ্কে কারও কারও রাত কাটছে নির্ঘুম।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের খাঁনপাড়া গ্রামে এমনই এক পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে কে বা কারা বিভিন্ন বাড়ির সামনে এসব সামগ্রী রেখে যাচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজা কিংবা উঠোনে এমন অদ্ভুত জিনিস দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মিয়ার উদ্দিন খাঁন বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, দরজার সামনে লেবু আর লাল সুতা দিয়ে কী যেন বেঁধে রেখে গেছে। কারও সঙ্গে তো আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। এরপর থেকে পোলাপান নিয়ে ভয়ে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না।”

এমন ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। সন্ধ্যা নামলেই অনেকের মনে ভর করছে অজানা ভয়। কেউ কেউ বিষয়টিকে কথিত জাদু-টোনা বা তান্ত্রিক কর্মকাণ্ড বলে মনে করছেন। আবার অনেকে এটিকে নিছক কুসংস্কার ও পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা বলে ধারণা করছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় যুবকেরা রাত জেগে পাহারা দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সচেতন মহলের মতে, লেবু, সিঁদুর কিংবা লাল সুতা রেখে যাওয়ার সঙ্গে অলৌকিক কোনো ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং কেউ ব্যক্তিগত শত্রুতা, ভয়ভীতি সৃষ্টি কিংবা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং কুসংস্কার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে কামালের বার্ত্তী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জসীমউদ্দীন বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। গ্রামীণ জনপদে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে রাতের আঁধারে এসব সামগ্রী রেখে যাওয়ার রহস্য উন্মোচিত হবে এবং অমূলক আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন বকশীগঞ্জের মানুষ।

React:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Theme by Jhinai Technologies